বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিন

অর্ধেকের বেশি মানুষ মুখে মাস্ক পরেনি

করোনা সংক্রমণের লাগাম টানতে বিধিনিষেধ কার্যকরের দ্বিতীয় দিনে গতকাল শুক্রবারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার চিত্র ছিল প্রথম দিনের মতোই। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাঁচাবাজারগুলোতে ভিড় ছিল যথারীতি। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধির বালাই ছিল না। নগরীতে চলাচলকারী গণপরিবহনে যাত্রী ও পরিবহনকর্মীদের বেশিরভাগের মুখেই ছিল না মাস্ক। জুমার নামাজে মসজিদে মসজিদে আসা মুসল্লিদের অনেককেই মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। এদিন স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে নগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন কোনো তৎপরতাও ছিল না।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, রেস্তোরাঁয় বসে খাবার খেতে আসা কাউকে টিকার সনদ দেখাতে হয়নি। শপিং মলগুলোতেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। নগরীর বেশিরভাগ গণপরিবহনেও আসনের অতিরিক্ত অর্থাৎ দাঁড়িয়ে যাত্রী নিতে দেখা গেছে। অর্ধেকের বেশি যাত্রীর আবার মুখে ছিল না মাস্ক। সকাল থেকে রাজধানীর কারওয়ানবাজার, বাংলা মোটর, মহাখালী, শাহবাগ, মালিবাগ, মগবাজার এলাকায় আসা বেশিরভাগ মানুষ মুখে মাস্ক লাগায়নি। এসব এলাকায় বিধিনিষেধ মানাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। স্বাস্থ্যবিধি এবং মাস্ক পরার বিষয়ে মসজিদে আসা মুসল্লিদের মধ্যে সচেতনতা থাকলেও অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না।

কারওয়ানবাজারে কথা হয় গাজীপুর থেকে আসা আরমান হোসেনের সঙ্গে। মুখে মাস্ক নেই কেন জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আলসেমি করে কেনা হয়নি। মাস্ক না লাগালেও আমাদের করোনা হবে না। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। আমরা কাজ করে খাই।’ সেখানে বাজার করতে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘বাসা থেকে সকালে বের হয়ে এসেছি। বের হওয়ার সময় মাস্ক নিতে মনে ছিল না।’

হাজারীবাগ এলাকার বাসিন্দা পেশায় গাড়িচালক লিটন মিয়া বলেন, ‘আমরা গাড়ি চালাই, আমাদের আবার বিধিনিষেধ! তবে শুনেছি নির্দেশনা শনিবার থেকে কার্যকর হবে।’

গুলিস্তান থেকে গাজীপুরগামী ‘বলাকা পরিবহনের’ চালকের সহকারী রবিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাস্ক আমরা মুখে রাখতে পারি না। কারণ আমাদের সবসময় ডাকাডাকির মধ্যে থাকতে হয়, ভাড়ার টাকা তুলতে হয়। মাস্ক পরে কথা বলা যায় না।’

গত সোমবার ১১ দফা বিধিনিষেধসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে এ বিধিনিষেধ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। বিধিনিষেধ চলাকালে বাস-ট্রেন ফের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলবে। উন্মুক্ত স্থানে যেকোনো সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করা যাবে না। এর আগে করোনা পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনা করে গত ৩ জানুয়ারি এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। সভা শেষে ৪ জানুয়ারি ১৫ দফা নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর ১১টি ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হয়।