গত বছর পৃথিবীজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও শিল্পকর্মের সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। মিলেছে নানা দু®প্রাপ্য বস্তুর দেখা। তিব্বতে নিয়ানডারথাল যুগের দুই শিশুশিল্পীর শিল্পকর্ম দেখে মুগ্ধ হয়েছে সকলে। পাওয়া গেছে মিসরের হারিয়ে যাওয়া এক শহর। ভাইকিংসরা কবে কানাডায় বসতি গড়ে, সে প্রশ্নেরও উত্তর মিলেছে। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
বস্তুগত সংস্কৃতি বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানুষের কর্মকাণ্ড নিয়ে অধ্যয়ন করেন গবেষকরা। আর এই অধ্যয়নকে বলে প্রত্নতত্ত্ব। মাটি খুঁড়ে পাওয়া শিল্পকর্মসহ অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মানুষের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করেন প্রতœতাত্ত্বিকরা। পূর্ব আফ্রিকায় আবিষ্কৃত ৩.৩ মিলিয়ন বছর আগে ব্যবহৃত প্রথম পাথরের যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক দশকের ভাস্কর্য, অলংকার, মুদ্রা, আসবাবপত্র, স্থাপত্য নিয়ে তাদের আগ্রহের শেষ নেই। আবিষ্কারের নেশায় সম্ভাব্য স্থানে বছরের পর বছর ধরে মাটি খনন করেন এই গবেষকরা। সমৃদ্ধ করেন প্রাচীন আমলের মানুষের সংস্কৃতি ও জীবনযাপন নিয়ে বোঝাপড়া। বরাবরের মতো গত বছরও জটিল বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর পান প্রত্নতাত্ত্বিকরা। আবিষ্কার হয় প্রাগৈতিহাসিক আমলের সম্পদ।
গোল্ডেন সিটি
মিসরে হাজার হাজার বছর ধরে বালির নিচে ঢাকা পড়ে ছিল গোটা এক শহর। হারিয়ে যাওয়া সেই শহর কয়েক শতাব্দী ধরে অনেক চেষ্টা করেও খুঁজে পাচ্ছিলেন না প্রত্নতাত্ত্বিকরা। ধারণা করা হয়, এটি প্রাচীন মিসরের অন্যতম বৃহৎ শহর। মিসরের লাক্সোর শহরে নীল নদের পশ্চিম তীর ঘেঁষে ফারাও তুতেনখামেনের (খ্রিস্টপূর্ব ১৩৩২-১৩২৩) একটি মন্দিরের খোঁজ করতে গিয়ে সৌভাগ্যবশত গত বছর ওই শহরের সন্ধান পান প্রত্নতাত্ত্বিকরা। ফারাও তুতেনখামেনকে অনেকে শিশু সম্রাটও বলে কারণ মাত্র নয় বছর বয়সে মিসরের সিংহাসনে বসেন তিনি। ফারাও তুতেনখামেনের মন্দিরের বদলে মাটি খুঁড়ে বাড়িঘর, রাস্তা ও দেয়াল পরিবেষ্টিত সুরক্ষিত একটি শহরের দেখা পান প্রতœতাত্ত্বিকরা। দেয়ালগুলোর কোনো কোনটির উচ্চতা ১০ ফুট। হায়ারোগ্লিফিক অক্ষরে দেয়ালে শহরের নাম লেখা রয়েছে, ‘ঝকমলে আটেন’। তুতেনখামেনের দাদা তৃতীয় আমেনহোটেপ (খ্রিস্টপূর্ব ১৩৯০-১৩৫২) ওই শহর প্রতিষ্ঠা করেন। প্রকল্পের পরিচালক জাহি হাওয়াস বলেন, ‘শহরটির নামকরণ করা হয়েছে গোল্ডেন সিটি।
সম্রাট তৃতীয় আমেনহোটেপের সময় এই শহর গড়া হয়। আর প্রাচীন মিসরে তার শাসনামল স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচিত।’ মিসরের প্রধান প্রশাসনিক ও শিল্প কেন্দ্র ছিল আটেন। তিন হাজারের বেশি বছর আগেকার ওই শহরের অভাবনীয় সংরক্ষণ গবেষকদের মুগ্ধ করে। তারা বুঝতে পারেন, শহরের বাসিন্দারা বেশ বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন। এখন পর্যন্ত আটেন শহরের কেবল এক-তৃতীয়াংশ খনন করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রত্নতাত্ত্বিকরা যে কয়টি বাড়ির ভেতরে ঢুকেছেন, তাতে সিরামিকের পাত্র, শিশুদের খেলনার পুতুল ও চুনাপাথরের খেলার সামগ্রী পাওয়া গেছে। এ ছাড়া শহরের অলিগলিতে বেকারি, রান্নাঘর, খাবার তৈরি হতো এমন কয়েকটি স্থান শনাক্ত করা হয়। লুয়ি নামের এক কসাইয়ের তৈরি করা ২০ পাউন্ডের বেশি ওজনের শুকনো মাংসসহ পাত্রও খননকাজের একপর্যায়ে গবেষকদের হাতে আসে।
আদি প্রস্তর শিল্প
গত বছর তিব্বতের কেসাং অঞ্চলে এক উষ্ণ প্রস্রবণের কাছে দুই সৃজনশীল শিশুর প্রস্তর শিল্প আবিষ্কার করেন আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল। ধারণা করা হচ্ছে, এই শিল্পকর্ম পৃথিবীর সবচেয়ে আদি যুগের। ২ লাখ ২৬ হাজার বছর থেকে ১ লাখ ৬৯ হাজার বছরের মধ্যে কোনো এক সময়ে তিব্বতে বাস করা ওই শিশুশিল্পীরা হয় নিয়ানডারথাল বা ডেনিসোভান প্রজাতির সদস্য ছিল। গত বছর ওই প্রস্রবণের ধারে ট্রেভারটাইন নামের চুনাপাথরে তাদের বেশ কয়েকটি হাতের ও পায়ের ছাপ পাওয়া যায়, যা তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বসায়। ট্রেভারটাইন সাধারণত খনিজ প্রস্রবণের চারপাশে থাকে। শুরুতে এই ধরনের চুনাপাথর এত নরম থাকে যে এটির গায়ে কোনো ছাপ বসে না। প্রস্রবণ তার গতিপথ পরিবর্তন করলে এ জাতের চুনাপাথর শক্ত হয়ে যায়। আর তাতে ছাপ বসানো সহজ হয়। চীনের গুয়াংঝউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ ও পরিবেশগত প্রত্নতত্ত্ববিদ ডেভিড ঝ্যাং বলেন, ‘স্থানীয়রা ভেবেছিল, হাত-পায়ের ছাপগুলো গৌতম বুদ্ধের। কিন্তু সেগুলো এত ছোট যে, এ নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহও ছিল।’
আদি চামড়া শিল্পী
মরক্কোর আটলান্টিক উপকূলের কাছে কনট্রেব্যানডিয়ার্স গুহা খনন করে পাওয়া প্রায় ১২ হাজার হাড়ের খণ্ড পরীক্ষা করেন জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য সায়েন্স অব হিউম্যান হিস্টোরির প্রত্নতাত্ত্বিক এমিলি হালেট। তিনি দেখেন, কয়েকটি খণ্ড এত মসৃণ ও উজ্জ্বল যে, দেখে মনে হয় সেসব হাড় মানুষ তৈরি করেছে। এ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি নিশ্চিত হন, খণ্ডগুলোর মধ্যে ৬২টি মূলত হাড়ের তৈরি উপকরণ। ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ৯০ হাজার বছরের মধ্যে ওই উপকরণগুলো ব্যবহার করা হয়।
এসব উপকরণের মধ্যে বেশ কয়েকটি পাঁজরের হাড়ের। পশম ও চামড়ার কাজে এই হাড় ব্যবহার করা হয়। হালেট বলেন, ‘পশুর চামড়া পরার উপযোগী করতে মানুষকে বেশ কয়েকটি ধাপ পার করতে হয় যাতে সেগুলো নরম ও মসৃণ থাকে। হাড়ের তৈরি উপকরণগুলো পশুর চামড়া ছিদ্র বা নষ্ট না করে সেখান থেকে সংযোজক টিস্যু ও চর্বি সরিয়ে ফেলত।’
প্রথম আমেরিকান
গত দুই দশকে এমন বেশ কয়েকটি স্থান আবিষ্কার করেন প্রতœতাত্ত্বিকরা যা প্রমাণ করে উত্তর আমেরিকা মহাদেশে ১৬ হাজার বছর আগে মানুষের প্রথম পদার্পণ ঘটে। অবশ্য বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, ১৬ হাজার নয়, তারও আগে সেখানে মানুষ বাস করত। আবার কয়েকজন গবেষক এসব আবিষ্কারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তারা মনে করেন, আবিষ্কৃত স্থানগুলো থেকে পাওয়া শিল্পকর্ম মানুষের তৈরি নয়। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের হোয়াইট স্যান্ডস ন্যাশনাল পার্কে মানুষের পায়ের ছাপের জীবাশ্ম রেডিওকার্বন ডেটিং (বস্তুর বয়স নির্ধারণ পদ্ধতি) করে দেখা যায়, ২৩ হাজার বছর আগে উত্তর আমেরিকায় মানুষ বাস করত। যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটির প্রত্নতাত্ত্বিক টমি আরবান বলেন, ‘পায়ের ছাপগুলো প্রধানত কিশোর ও কম বয়সী শিশুদের। ২৩ হাজার থেকে ২১ হাজার বছরের মধ্যে মাটিতে পায়ের ওইসব ছাপ পড়ে। পাথর বা হাড়ের শিল্পকর্ম নিয়ে গবেষকরা প্রশ্ন তুলতে পারেন। তবে পার্কটিতে পাওয়া মানুষের পায়ের ছাপ নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।’
প্রাণী ভাস্কর্য
সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলে পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা উট ও বন্য গাধার ১২টি শিল্পকর্ম বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো প্রাণী শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গত বছর রেডিওকার্বন ডেটিং থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষকরা জানান, ওইসব শিল্পকর্ম পাঁচ হাজার বছর আগের। নিওলিথিক যুগে (খ্রিস্টপূর্ব ৮০০০-৩০০০) সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চল আজকের মতো এতটা শুষ্ক ছিল না। যাযাবররা সে সময় পশুপালনের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী শিকার করত। প্রাণী ছিল তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতœতাত্ত্বিক মারিয়া গুয়েগনিন জানান, কয়েক শতাব্দী এমনকি এক হাজার বছর ধরে সেখানে প্রাণীদের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন ভাস্কর্য তৈরি হয়, পুরনোগুলো নতুন করে খোদাই করা হয়। তিনি বলেন, ‘নিওলিথিক যুগের শিল্পীরা পাহাড়ের চূড়ায় এসব ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। এত উঁচুতে খোদাইয়ের সময় প্রাণীদেহের পুরো অংশ তাদের পক্ষে দেখা সম্ভব ছিল না। কল্পনার জায়গা থেকে এত ডিটেইলে কিছু সৃষ্টি করা রীতিমতো বিস্ময়ের। টেকনিক্যাল দক্ষতা ও দলবদ্ধ প্রচেষ্টার ফলে এমনটা সৃষ্টি করা সম্ভব হয়। এর মধ্য দিয়ে সৌদির উত্তরাঞ্চলে নিওলিথিক পশুপালকদের জীবনে প্রস্তর শিল্পের গুরুত্ব প্রমাণ হয়।’
ব্রোঞ্জ যুগের মানচিত্র
ফ্রান্সের জাতীয় প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘরে ভাঙা এক খণ্ড পাথরের ফলকের ছবি নজর কেড়েছিল যুক্তরাজ্যের বোর্নমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতাত্ত্বিক ক্লেমেন্ট নিকোলাসের নেতৃত্বাধীন গবেষক দলের। সাত ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থের সেই পাথরে খোদাইকৃত কয়েকটি রেখা দেখে দলটির সন্দেহ হয়, পাথরে আঁকা সেসব রেখা আসলে কোনো মানচিত্রের। ১৯০০ সালে ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ব্রিটানি অঞ্চল খনন করে খণ্ডটি পাওয়া যায়। আদি ব্রোঞ্জ যুগের শেষের দিকে (খ্রিস্টপূর্ব ১৯০০ থেকে ১৬৪০) এক পাথরের সমাধির দেয়ালের অংশ এক টনের বেশি ওজনের খণ্ডটি। প্রত্নতাত্ত্বিক দল গবেষণা করে জানতে পারেন, ব্রিটানি অঞ্চলের কাছে অডেট নদী উপত্যকার আকৃতির সঙ্গে খণ্ডের বাম দিকের ত্রিভুজাকার গর্তের মিল রয়েছে। গত বছর নিকোলাসের দল এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন, খ্রিস্টপূর্ব ২১৫০ থেকে ১৬০০ সালের ভেতর ১৯ মাইল দীর্ঘ ব্রিটানির এক অঞ্চলের মানচিত্র ওই খণ্ডে লেখা রয়েছে। নিকোলাস বলেন, ‘এটি ইউরোপের একটি অঞ্চলের সবচেয়ে পুরনো মানচিত্র।’
রোমের সীমানা প্রস্তর
গত বছর প্রাচীন রোমের এক ধর্মীয় স্থানের সীমানা নির্দেশকারী বিরল একটি পাথরের খণ্ড মাটি খুঁড়ে বের করেন শ্রমিকরা। রোমের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা সংস্কারের সময় ওই খণ্ড তাদের হাতে আসে। ছয় ফুট দীর্ঘ চুনাপাথরের খণ্ডটি প্রায় দুই হাজার বছর আগে স্থাপন করা হয়। ধর্মীয় ওই স্থানের সীমানা নির্দেশ করা এ ধরনের পাথরের ব্লক এখন পর্যন্ত ১০টি আবিষ্কার করা হয়েছে। সিপ্পাস নামে পরিচিত এসব সীমানা নির্দেশকারী পাথরের খণ্ড দিয়ে মূলত বিধিনিষেধ বোঝানো হতো। যেমন: ওই সীমানার ভেতর কাউকে কবর দেওয়া যাবে না। অস্ত্র নিয়ে ধর্মীয় স্থানটির ভেতরে প্রবেশ করাও ছিল নিষিদ্ধ। মূলত নাগরিক ও সামরিক কর্মকাণ্ড থেকে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পৃথক করার লক্ষ্যেই ওই স্থানের চারদিকে কয়েক ডজন পাথরের খণ্ড দিয়ে সীমানা টানা হয়। প্রাচীন রোমের শাসকরা বিভিন্ন সময়ে তাদের ভূ-খণ্ডের সীমানা সম্প্রসারিত করেন। খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীতে নিজের সীমানার চারদিকে প্রথম পাথরের খণ্ড বসান রোমের পৌরাণিক প্রতিষ্ঠাতা রোমুলাস। গত বছর যে পাথরের খণ্ডটি উদ্ধার করা হয়, তার গায়ে লেখা ছিল, খ্রিস্টাব্দ ৪৯ সালে এটি বসানো হয়। সে সময় রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস (খ্রিস্টাব্দ ৪১-৫৪) শহরের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করেছিলেন।
ভাইকিংদের কানাডা যাত্রা
ষাটের দশকে কানাডার পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য নিউফাউন্ডল্যান্ডের একেবারে উত্তরে লেয়ান্স অ মেডোসের এক অঞ্চল খনন করে মানববসতি আবিষ্কার করা হয়। বসতিটির ভবনগুলোর নির্মাণশৈলী দেখে গবেষকরা বুঝতে পারেন, দশম বা একাদশ শতাব্দীতে গ্রিনল্যান্ড থেকে ভাইকিংরা কানাডায় পৌঁছার পর সেসব ভবন নির্মাণ করে তারা। তবে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে প্রথম ইউরোপিয়ান ভাইকিংরা ঠিক কবে কানাডায় বসতি গড়ে, এ নিয়ে তর্কবিতর্ক ছিল। নেদারল্যান্ডসের ইউনিভার্সিটি অব গ্রোনিনগেনের অধ্যাপক মারগট কুইটেমসের নেতৃত্বাধীন এক দল গবেষক সম্প্রতি ভাইকিংদের সমুদ্রযাত্রার সঠিক দিনক্ষণ জানার লক্ষ্যে নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করেন। এ পদ্ধতিতে কাজ করার সময় খ্রিস্টাব্দ ৯৯২ সালে ঘটা বিরল এক সৌরঝড় তাদের সহায়তা করে। ওই ঝড়ের ফলে পরের বছর ওই অঞ্চলের গাছের রেডিওঅ্যাকটিভ কার্বন-১৪ শোষণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সেসব গাছের কাঠ পরীক্ষা করে গবেষকরা জানতে পারেন, খ্রিস্টাব্দ ১০২১ সালে গাছগুলো কেটে সেখান থেকে পাওয়া কাঠ বসতি গড়ার কাজে ব্যবহার করে ভাইকিংরা। অর্থাৎ সেই বছর আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে কানাডায় যায় তারা। কানাডার প্রত্নতাত্ত্বিক বিরগিট্টা ওয়ালেস বলেন, ‘লেয়ান্স অ মেডোসে উপনিবেশ স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে ভাইকিংরা সাগর পাড়ি দিয়েছিল বলে মনে হয় না। অন্যান্য জায়গা অনুসন্ধানে লেয়ান্স অ মেডোস তাদের ঘাঁটি ছিল। নতুন এই অঞ্চল তাদের উপকারে আসবে কি না, তা দেখার জন্যই তারা এখানে আসে। এক দশক বা তারও কিছু পরে ভাইকিংরা গ্রিনল্যান্ডে ফিরে যায় কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল, এই অঞ্চল বসতি গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত হলেও আদিবাসীদের কারণে এখানে থাকা বিপজ্জনক।’
ক্রুসেডারদের গণকবর
গত বছর লেবাননের সিডন শহরে সেন্ট লুই ক্যাসলের কাছে এক এলাকা খনন করে গণকবর পাওয়া যায়। ওই কবরে কমপক্ষে ২৫ সেনার দেহাবশেষ ছিল। দশম শতাব্দীতে শুরু হওয়া ক্রুসেডের সময় সিডনের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বাঁচাতে ওই সেনারা প্রাণ দেয়। খনন করা অঞ্চল থেকে ফরাসিভাষী ক্রুসেডারদের ব্যবহৃত বেল্ট এবং ১২৪৫ সাল থেকে ১২৫০ সালের মাঝের একটি মুদ্রা পাওয়া যায়।
ক্রীতদাসের ট্যাগ
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের চার্লসটন শহরে চার্লসটন কলেজের ক্যাম্পাসে রান্নাঘরের ধ্বংসাবশেষ থেকে এক ক্রীতদাসের ট্যাগ আবিষ্কার করা হয়। ট্যাগটি মধ্য ঊনবিংশ শতাব্দীর। এ ধরনের ট্যাগ অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের সময় থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত ক্রীতদাসদের পরতে দেওয়া হতো। এসব ট্যাগ দেখে কোন ক্রীতদাস কাঠমিস্ত্রি, কামার, জেলে বা ভৃত্যের কাজ করে, তা জানা যেত। গত বছর আবিষ্কৃত ট্যাগটি ১৮৫৩ সালের এক ক্রীতদাসের। ব্যাজ নম্বর ৭৩১ এই ট্যাগে লেখা ছিল ‘ভৃত্য’।