নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার দিন যত গড়াচ্ছে, তত বাড়ছে ক্রেতা-দর্শনার্থী। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভোগান্তিও। রাস্তাঘাটে নানা জটিলতা ও যানজট পেরিয়ে দর্শনার্থী বাড়ায় ব্যবসায়ীদের বিক্রিও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রত্যাশার চেয়ে তিন গুণ ক্রেতা পাচ্ছেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা হয়ে আসছিল। এবারই প্রথম আগের মেলার স্থান থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরের স্থায়ী প্যাভিলিয়নে বাণিজ্যমেলার আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানী থেকে দূরে হওয়ায় মেলার জৌলুশ মøান হওয়ার শঙ্কায় ছিলেন সংশ্লিষ্টরা। সেটি আরও দৃঢ় হয় প্রথম ১০ দিন বিকিকিনি খুব একটা ভালো না হওয়ায়। ৫ দিনের ব্যবধানে পাল্টে গেছে সেই দৃশ্যপট।
সরেজমিনে গতকাল শনিবার দেখা গেছে, গাড়ি পার্কিংয়ের সময় বিশৃঙ্খলার কারণে মেলার প্রবেশমুখে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। এ ছাড়া পার্কিংয়ের সময় দায়িত্বরত কর্মচারীরা দর্শনার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিদিনের মতো গতকালও মেলায় আসা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানা নিয়ে সচেতনতা দেখা যায়নি। বেশিরভাগের মাস্ক ছিল থুতনির নিচে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকা থেকে দূরে মেলা আয়োজন করায় প্রথমে তারা কিছুটা হতাশ ছিলেন। ৪-৫ দিন ধরে যে পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে, তা আগারগাঁওয়ের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি। এভাবে ক্রেতা বাড়তে থাকলে খরচ মিটিয়ে ব্যবসায়ীরা লাভের আশা করছেন। ভারতের কাশ্মীর থেকে আসা ব্যবসায়ী আমির বলেন, ‘দালালের খপ্পরে পড়ে দোকান নিতে আমাকে বেশি টাকা দিতে হয়েছে। তা ছাড়া বাড়িভাড়াও করতে হয়েছে বেশি টাকায়। প্রথম ১০ দিন তেমন ভালো না হলেও ৪-৫ দিন ধরে বিক্রি বেড়েছে; যা আগারগাঁওয়ের মেলার চেয়েও বেশি। এমন ক্রেতা প্রতিদিন থাকলে আমরা লাভের মুখ দেখব আশা করছি।’
‘জয়িতা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি পোশাকের দোকানের বিক্রয়কর্মী নাসিমা আক্তার ব্যস্ততার মধ্যেও বলেন, ‘বিক্রি অনেক ভালো হচ্ছে। বিক্রি বেশি হওয়ায় আমাদের দম ফেলার সুযোগ নেই। এই গ্রামের ভেতরে বাণিজ্যমেলা এত জমবে, ভাবতে পারিনি। ঢাকার মেলার চেয়েও এখানে বিক্রি বেশি হচ্ছে।’
মেলায় আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, পূর্বাচলে সুন্দর মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তাই মেলায় ঘুরতে আসছেন অনেকেই। সেই সঙ্গে পরিবার-পরিজনের জন্য কেনাকাটাও করছেন। তবে তুলনামূলকভাবে এখানে পণ্যের দাম অনেক বেশি। গাড়ি পার্কিংয়ের সময় দায়িত্বরতরা খারাপ আচরণ করেন; যা অত্যন্ত দুঃখজনক।