রাজাকারের তালিকা করতে আইনের খসড়া অনুমোদন

রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা তৈরির বিধান রেখে তৈরি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনের সংশোধিত খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

বিদ্যমান আইনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের তালিকা প্রকাশের বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই। তাই এ তালিকার বৈধতা দিতে ২০০২ সালের জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধন করা হচ্ছে। খসড়া আইন অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান থাকবেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন। মোট সদস্য সংখ্যা ১১ জন। কাউন্সিলের মহাপরিচালক যিনি থাকবেন তিনি সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করবেন। বর্তমানেও এ ধরনের কাউন্সিল রয়েছে যার সদস্য সংখ্যা নয়জন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে গেজেটভুক্ত ও সনদপ্রাপ্ত অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর সদস্য হিসেবে কর্মকা-ে লিপ্ত ছিলেন বা আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে সশস্ত্র যুদ্ধে নিয়োজিত থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন বা খুন, ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগসহ অন্যান্য অপরাধমূলক ঘৃণ্য কার্যকলাপ দিয়ে মানুষ হত্যা বা তাদের অত্যাচার করেছেন, পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেছেন তাদের তালিকা তৈরি করে গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে।’

মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিকারে আইন করছে সরকার : মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিকারে আইন করছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘বৈষম্যবিরোধী আইন, ২০২২’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, অনেক আন্তর্জাতিক কনভেনশনের মাধ্যমে সারা বিশ্বে সবরকমের বৈষম্য নিরসন করা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বৈষম্য দূরীকরণের বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারই আলোকে এ আইন নিয়ে আসা হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি জাতীয়, বিভাগীয় এবং জেলা বা যে পর্যায় পর্যন্ত সরকার চায়, সে পর্যন্ত হবে। কমিটি মনিটর করবে হিউম্যান রাইটসের কোনো ভায়েলেশন হচ্ছে কি না।

পেট্রোবাংলা আইন : বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) নিয়ে নতুন আইন হচ্ছে। ‘বাংলাদেশ গ্যাস, তেল ও খনিজসম্পদ করপোরেশন আইন, ২০২২’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

১৯৮৬ সালের অধ্যাদেশ দিয়ে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সামরিক শাসনামলে প্রণীত অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের বাধ্যবাধকতা থাকায় এটিকে আইনে রূপান্তর করা হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবেই থাকবে। তাদের বাংলাদেশ গ্যাস, তেল ও খনিজসম্পদ করপোরেশন হিসেবে নামকরণ করা হবে। এ করপোরেশনের অনুমোদিত মূলধন থাকবে ৫ হাজার কোটি টাকা আর পরিশোধিত মূলধন থাকবে ২০০ কোটি টাকা। পরিচালনা পর্ষদে একজন চেয়ারম্যান ও আটজন পরিচালক থাকবেন। অতিরিক্ত সচিব বা এই মর্যাদার কাউকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

গতকালের বৈঠকে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া জাতীয় লবণ আইন নীতিমালারও অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।