বিএসএমএমইউর গবেষণা

১ মাসে শনাক্তের ২০ শতাংশ ওমিক্রনে আক্রান্ত

দেশে বর্তমানে করোনা রোগীদের মধ্যে ২০ শতাংশ নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্ত বলে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে এ বছরের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত করোনার ৯৬টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে এ তথ্য পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ সময় হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদের জিনোম সিকোয়েন্স করে তাদের কারও মধ্যে ওমিক্রন পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংগৃহীত নমুনায় ২০ শতাংশ ওমিক্রন এবং ৮০ শতাংশ ডেলটা ধরন পাওয়া যায়। পরবর্তী মাসে এই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট গুণিতক হারে বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিল্টন হলে এক সংবাদ সম্মেলনে জিনোম সিকোয়েন্সের এই ফল তুলে ধরা হয়। মূল তথ্য উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ। জিনোম সিকোয়েন্সিং গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিকস অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আঞ্জুমান বানু।

ডা. লায়লা আঞ্জুমান বানু বলেন, এসব নমুনা হাসপাতালে ভর্তি রোগী, হাসপাতালের আউটডোরে আসা রোগী ও বিভিন্ন জেলা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত ৯৬টি নমুনার মধ্যে ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়েছে। তবে এর কোনোটি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর নমুনা নয়। দুই ডোজ করোনার টিকা নিয়েছেন এমন একাধিক ব্যক্তির ওমিক্রন ধরনে আক্রান্ত হওয়ার নজিরও তাদের কাছে রয়েছে।

উপাচার্য বলেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের থেকে সংগৃহীত করোনার নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে শতভাগ রোগীর ক্ষেত্রে ডেলটা ধরন শনাক্ত হয়েছে। ওমিক্রনের উপসর্গ সাধারণত মৃদু হতে দেখা যাচ্ছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী অন্যান্য রোগ আছে এমন ব্যক্তি ওমিক্রন বা যেকোনো ধরনে আক্রান্ত হলে জীবনের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। সুতরাং ওমিক্রনকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দেশে গত ২৯ জুন থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত রোগীদের ৭৬৯টি জিনোম সিকোয়েন্সিং করে দেখা গেছে, মোট সংক্রমণের প্রায় ৯৮ শতাংশ ইন্ডিয়ান বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। ১ শতাংশ সাউথ আফ্রিকান বা বেটা ভ্যারিয়েন্ট, ১ শতাংশ রোগী মরিশাস ভ্যারিয়েন্ট অথবা নাইজেরিয়ান ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত।