বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত এক আসামি খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছেন। গতকাল বুধবার এস এম মাহমুদ সেতু নামের এই আসামির পক্ষে দুই আইনজীবী হাইকোর্টে আবেদন করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আপিল আবেদনে ১০টি গ্রাউন্ডে খালাস চেয়ে মোট ১ হাজার ১৪৮ পৃষ্ঠার নথি দাখিল করা হয়েছে।’
আবরার হত্যা মামলায় গত ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান ২৫ আসামির সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন। রায়ে এস এম মাহমুদ সেতুসহ ২০ জনকে প্রাণদন্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদন্ডের রায় হলে সেটি কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট মামলায় বিচারিক আদালতের সব নথি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। এরপর মামলার পেপারবুক (রায়সহ যাবতীয় নথি) প্রস্তুত হলে এটি শুনানির পর্যায়ে আসে। কারাগারে থাকা আসামিরা আপিলের সুযোগ পান।
গত ৬ জানুয়ারি ২০ জনের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদনের নথি) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আসে।
২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বিশ^বিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের করিডোর থেকে। পরে জানা যায়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্টের জের ধরে রাতে আবরারকে বিশ^বিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এ ঘটনার পর তাদের বিশ^বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।