এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে ১২টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। এসব সংগঠন গত বছর ৮ নভেম্বর জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়েরে ল্যাকরোইক্সকে চিঠি পাঠিয়ে এ দাবি জানায়। তবে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ চিঠির আনুষ্ঠানিক কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার চিঠির বিষয় ও চিঠিটি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে ১২টি মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগের উচিত র্যাবকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন থেকে নিষিদ্ধ করা। জাতিসংঘের কাছে দেওয়া চিঠিতে র্যাবের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ওঠা অভিযোগগুলো যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর বিবৃতিতে বলা হয়, ইতিমধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা র্যাবের সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, জোরপূর্বক গুম এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়েরে ল্যাকরোইক্সকে লেখা চিঠিতে বলা হয়, ‘আমরা ১২টি নিম্নস্বাক্ষরকারী সংস্থা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানাচ্ছি যে, জাতিসংঘের ২০১২ সালের পলিসি অন হিউম্যান রাইটস স্ক্রিনিং অব ইউনাইটেড ন্যাশন পারসোনাল বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না।’
চিঠিতে বলা হয়, ‘আপনি জানেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শীর্ষ সেনা ও পুলিশ মোতায়েনকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। ২০২০ সালে দেশটি বিভিন্ন মিশনে ৬ হাজার ৭৩১ জন ইউনিফর্মধারী কর্মী মোতায়েন করে সর্বোচ্চ অবদান রাখে।’
চিঠিতে বলা হয়, ২০০৪ সালে র্যাব গঠিত হওয়ার পর থেকে পুলিশের এই বিশেষ ইউনিটের সদস্যদের মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন এবং জোরপূর্বক গুম করার ধারাবাহিক ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকার পরও আমরা উদ্বিগ্ন যে, যেসব ব্যক্তি এসব ঘটনায় জড়িত তাদের জাতিসংঘ মিশনে পাঠানো হচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের মার্চ মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট উল্লেখ করেছেন, ‘র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের দ্বারা নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ তৈরি করেছে।’
চিঠিতে সই করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এশিয়ান ফেডারেশন অ্যাগেইনস্ট ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স (এএফএডি), এশিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ফোরাম-এশিয়া), এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফআরইএল), ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট জাস্টিস প্রজেক্ট, সিভিকাস : ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর সিটিজেন পার্টিসিপেশন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস, রবার্ট এ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস, দ্য অ্যাডভোকেটস ফর হিউম্যান রাইটস এবং ওয়ার্ল্ড অরগানাইজেশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার (ওএমসিটি)।
এইচআরডব্লিউর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, মানবাধিকার রক্ষার ব্যাপারে সংস্কারমূলক কার্যক্রম না নিয়ে বরং বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে মানবাধিকারকর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের জোরপূর্বক তৎপরতা দেখিয়েছে। গুমের শিকার হওয়া পরিবারের বাড়িতে গিয়ে কর্মকর্তারা তাদের হুমকি দিচ্ছেন। কর্মকর্তারা ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে মিথ্যা বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করছেন যে তাদের পরিবারের সদস্যকে জোর করে নিখোঁজ করা হয়নি; তারা ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশকে বিভ্রান্ত করেছে।
গত ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে পৃথকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট (রাজস্ব বিভাগ) ও পররাষ্ট্র দপ্তর।