ডিএসইর উন্নয়নে চীনা প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি জানতে চায় এসইসি

সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় আগে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয় চীনের সেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের জোট। স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণের অংশ হিসেবে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনা জোটের কাছে শেয়ার বিক্রি করেছিলেন ডিএসইর শেয়ারহোল্ডাররা। চীনা বিনিয়োগের পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জের কারিগরি উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো মেলেনি।

এমন পরিস্থিতিতে শেয়ার ক্রয় চুক্তিতে দেওয়া চীনা জোটের কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাবের মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গত ২০ জানুয়ারি ডিএসইকে এমন নির্দেশনা দিয়েছে এসইসি। আগামী সাত কার্যদিবসের প্রতিবেদন জমা দিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   

২০১৮ সালের ৬ মে ডিএসইর শেয়ার কেনার চুক্তিতে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে মূল্য সংযোজনের অংশ হিসেবে কারিগরি এবং আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয় সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ কনসোর্টিয়াম। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জকে অনুমোদন দিতে মূল্য সংযোজনসহ কিছু শর্ত দিয়েছিল এসইসি। এছাড়া ডিএসইর সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে লেনদেনের জন্য ম্যাচিং ইঞ্জিনসহ কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল চীনের এ দুই প্রতিষ্ঠান। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর পুঁজিবাজারের উন্নয়নে কৌশলগত বিনিয়োগকারী প্রস্তাবিত কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে কমিশন।

জানা যায়, চুক্তির অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছে ডিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তর করা হয়। যার দাম দাঁড়ায় প্রায় ৯৪৭ কোটি টাকা। ক্রয় চুক্তি অনুসারে শেয়ারের ক্রয়মূল্যের পাশাপাশি ৩৭ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল চীনা কনসোর্টিয়ামের। কিন্তু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবে কৌশলগত অংশীদারের কাছ থেকে এখনো সুযোগ-সুবিধা আদায়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

এসইসির দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সব কার্যক্রম সিকিউরিটিজ আইন ও দেশের প্রযোজ্য অন্যান্য আইনসহ এক্সচেঞ্জেস ডি-মিউচুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩ এবং ডিএসইর ডি-মিউচুয়ালাইজেশন স্কিম অনুযায়ী পরিপালন করতে হবে। চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চুক্তি সইয়ের পরবর্তী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করে কমিশনকে অবহিত করতে হবে। কমিশনের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া চুক্তির শর্তাবলি ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয় পরিবর্তন করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথক করা সংক্রান্ত এক্সচেঞ্জেস ডি-মিউচুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩ অনুযায়ী চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের জোটকে  কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে বেছে নেয় ডিএসই।