গেইলদের হারিয়ে জয়ে ঢাকা

ঢাকায় পৌঁছে পরদিনই মাঠে নেমে গেলেন ক্রিস গেইল। ব্যাটে রান পেলেও ঠিক গেইলসুলভ ছিলেন না। এই জ্যামাইকান ঝড় তুলতে ব্যর্থ হলেও অপরজন তুললেন। আন্দ্রে রাসেলের ১৫ বলে ৩১ রানের ক্যামিওতে আসরে প্রথম জয় সহজ হলো মিনিস্টার ঢাকার। তাইজুলের ১৭তম ওভারের শেষ তিন বলে ১৪ রান নিয়ে ম্যাচের উত্তেজনা মিটিয়ে দেন। জয়ের আসল কারিগর অবশ্য অধিনায়ক মাহমুহদউল্লাহ রিয়াদ। ফরচুন বরিশালের দেওয়া ১৩০ রানের লক্ষ্যে নেমে ১০ রানে ৪ উইকেট হারায় ঢাকা। ৪৭ বলে ৪৭ করে টেনে তোলেন মাহমুদউল্লাহ। দলের ৪ উইকেটের জয়ে তাই ম্যাচ সেরাও তিনি।

মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার খেলার কথা ছিল কাল। আগের দিন অনুশীলন ও ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপ করেও শেষ পর্যন্ত খেলেননি। তবে তাকে ছাড়াই জয়ের মুখ দেখেছে ঢাকা। রান তাড়ায় নেমে গত দুই ম্যাচের হাফসেঞ্চুরিয়ান তামিমকে শূন্যতে হারিয়ে ঢাকার হোঁচট খাওয়া শুরু। তরুণ বাঁহাতি পেসার শফিকুল ইসলাম পরে অপর ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদকেও বোল্ড করে ফেরান। অপর পেসার আলজারি জোসেপের বলে বোল্ড মোহাম্মদ নাঈম ও জহুরুল ইসলাম। ১০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন টানা তৃতীয় হার চোখ রাঙাচ্ছে ঢাকাকে। শুভাগত হোমকে নিয়ে ওই অবস্থায় পঞ্চম উইকেটে রানের গতি কমিয়ে জুটিতে মনোযোগী হন মাহমুদউল্লাহ। ২৯ রান করে ফেরার আগে শুভাগতর সঙ্গে ৬২ বলে ৬৯ রানের জুটি গড়েন। পরের উইকেটেই ২৫ বলে ৫০ রানের জুটিতে জয় নিশ্চিত করে ফেলে ঢাকা। রাসেল ২ ছক্কা ও ৩ চারে করেন ১৫ বলে ৩১ আর মাহমুদউল্লাহ সাকিব আল হাসানকে লং অন দিয়ে বিশাল ছক্কা মারার পরের বলেই ৪৭ বলে ৪৭ করে ফেরেন।

আগে ব্যাট করতে নামা বরিশাল তিন অভিজ্ঞর কাঁধে চড়েই কিছুটা লড়াই করেছে। সাকিব গেইলের সঙ্গে জুটি বাঁধলেও ৩৪ বলে ২৩-এর বেশি করতে পারেননি। পাঁচে নামা গেইল গ্যালারিতে দুবার বল পাঠালেও প্রথম দিনের জড়তা নিয়ে ৩০ বলে ৩৬ করেন। নিচের দিকে ব্রাভো ২৬ বলে ১ ছক্কা ও ৩ চারে অপরাজিত ছিলেন ৩৩ রানে।

ম্যাচ শেষে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘জানতাম আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে শক্তভাবে, বোলারদের মধ্যে সেই প্রচেষ্টা বা আগ্রহটা ছিল। রাসেল ডেথ ওভারগুলোয় দারুণ করেছে, ইসুরু গেইলের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটা এনে দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে শুভাগত দারুণ ব্যাট করেছে, ওর কারণে আমার ওপর থেকে চাপ কমে যায়। আমরা চেষ্টা করেছি স্বাভাবিক ব্যাটটা করার। তো সব মিলিয়ে দারুণ পারফরম ছিল। তবে এই ম্যাচ ভুলে কাল (আজ সিলেটের সঙ্গে) নতুন শুরু করতে হবে।