প্রথম দিন কিউকমের ২০ গ্রাহক টাকা ফেরত পেলেন

কিউকমের গ্রাহকদের অর্ডার করা পণ্য সরবরাহ না করায় অননুমোদিত ফস্টার পেমেন্ট গেটওয়েতে জব্দ করা টাকা থেকে ২০ গ্রাহককে ৪০ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কিউকমের গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিয়ে এসক্রো পদ্ধতির আওতায় রিফান্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এদিন কিউকমের ৬ হাজার ৭২১ গ্রাহকের ক্রয়াদেশের বিপরীতে ৫৯ কোটি টাকা ফেরতের সম্মতি পাওয়াদের মধ্যে থেকে ২০ গ্রাহককে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। বাকিদের টাকাও পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়া হবে বলে জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর মধ্য দিয়ে ই-কমার্স খাতে গ্রাহকদের আস্থার সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছেন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি শমী কায়সার। তিনি মনে করেন, অন্তত আস্থার সংকট কাটাতে সহায়তা করবে এ উদ্যোগ।

তিনি বলেন, ‘আজকে এই মুহূর্তটা আমাদের কাছে স্মরণীয়, আমাদের একটা গোল্ডেন মোমেন্ট। আমরা মনে করি ভুঁইফোড় কিংবা ডিজঅনেস্টিতে ব্যবসা করে খুব অল্পসংখ্যক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। বেশিরভাগ উদ্যোক্তা এ করোনাকালেও কাজ করছেন। তারা সততা নিয়ে ডিজিটাল ব্যবসায় এসেছেন, এর মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা রয়েছেন। যারা অন্যায় করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যেখানে মানি লন্ডারিং হয়েছে সেখানেও তারা ছাড় পাচ্ছে না।’

ই-ক্যাব সভাপতি বলেন, ‘ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য এ কাজটি গত কয়েক মাস ধরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় করেছে, ভোক্তারা যাতে তাদের ন্যায্য অধিকার পায়। শুভ উদ্যোগ এটা। গ্রাহকরা যেন তাদের অর্থ ফেরত পায় সেজন্য যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে সেটি একটি মহৎ উদ্যোগ। এর অংশ হিসেবে আজকে যে যাত্রা শুরু হয়েছে, এটি একটি শুভযাত্রা।’

এর আগে যেসব ক্রেতা আগাম টাকা পরিশোধ করেও পণ্য পাননি, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা গত ১০ জানুয়ারির মধ্যে মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দিতে কিউকম ও ফস্টারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ফস্টারের দুটি হিসাব স্থগিত করেছে, যেখানে প্রায় ১৯৪ কোটি টাকা রয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তথ্য অনুযায়ী, কিউকমের ছয়টি অ্যাকাউন্টে গ্রাহকরা জমা করেছেন ৭৯০ কোটি টাকা।

আরও জানা গেছে, গত বছরের শুরুতে ইভ্যালির মতো বড় ধরনের ছাড়ের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে আগাম টাকা নিতে শুরু করে কিউকম নামের অখ্যাত এ প্রতিষ্ঠানটি। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎপরতায় গত বছর জুনের পর থেকে ই-কমার্সে আগাম টাকা নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করতে শুরু করেন গ্রাহকরা। ইভ্যালি ও কিউকমের মতো ৩০-৩২টি কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায়। এসব উদ্যোক্তার মধ্যে কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। কেউ কেউ পালিয়ে যান। তবে কিউকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিপন মিয়াকে গত ৪ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়।