দেশে গভীর সমুদ্রবন্দর প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কক্সবাজারের মাতারবাড়ী ও ধলঘাট এলাকার বিভিন্ন প্রকল্পে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রাথমিক প্রস্তাব করেছে জাপান। যা টাকার অঙ্কে ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। ওই এলাকায় লজিস্টিক হাব, পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি হাব এবং ইন্ডাস্ট্রি হাব গড়ে তুলতে জাপানের এই বিনিয়োগ হবে। এর মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার জাপানের বেসরকারি উদ্যোক্তারা সরাসরি বিনিয়োগ করবেন, বাকিটা সহজ শর্তে বাংলাদেশকে ঋণ দেবে দেশটি।
মাতারবাড়ী ও ধলঘাট ঘিরে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাপান সরকারের বিনিয়োগে ১৫টি প্রকল্পে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করে সরকার। তার পরিপ্রেক্ষিতে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এক বৈঠকে উঠে এসেছে।
গত ১৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) জুয়েনা আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় মহেশখালী ও ধলঘাট ঘিরে বিপুল এই বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই সভায় বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের সুবিধার্থে মিডি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নামে একটি পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
ওই সভায় উপস্থাপন করা প্রেজেন্টেশন ও সভার মিনিটস-এ এই ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জাইকার প্রস্তাবের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা সেল (এসআরসিসি)-এর মহাপরিচালক ও মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ (মিডি) সমন্বয় কমিটি সদস্য-সচিব মো. সারোয়ার আলম।
তিনি বলেন, ‘মিডি (মাতারবাড়ী) এলাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৭টি প্রকল্প চিহ্নিত হয়, তার মধ্যে ১৫টি প্রকল্প জাপান সরকারের বিনিয়োগে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়। জাইকা কর্তৃক প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার ওডিএ (অফিশিয়াল ডেভেলপমেন্ট এইড) এবং ১০ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগ।’
তিনি জানান, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান অনুযায়ী ৬৮টি প্রকল্প চিহ্নিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত দি বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিগ-বি) উদ্যোগের আওতায় মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দরসহ লজিস্টিক, পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি হাব প্রতিষ্ঠায় ২০১৪ সালে সম্মত হন বাংলাদেশ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী। মাতারবাড়ী ঘিরে এনার্জি ও পাওয়ার হাব, লজিস্টিক হাব, ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব ও গভীর সমুদ্রবন্দর-কেন্দ্রিক অবকাঠামো হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যা বাস্তবায়নে মূল ভূমিকায় রয়েছে জাপানি সংস্থা জাইকা। এনার্জি হাব গড়ে তুলতে এলএনজি টার্মিনাল, এলপিজি টার্মিনাল, অয়েল টার্মিনাল, গ্যাস ট্রান্সমিশন ও সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। অন্যদিকে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব হিসেবে অয়েল রিফাইনারি, এনার্জি ও ফুড স্টোরেজ, ট্যুরিজম, এমব্যাংকমেন্ট ও ওয়াটারফ্রন্ট ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার কাজও চলছে।
বর্তমানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পোর্ট এক্সেস রোড নির্মাণের কাজ চলছে। পোর্ট এক্সেস রেলপথও নির্মাণ করা হবে। মাতারবাড়ী ও ধলঘাট এলাকা ঘিরে পাওয়ার হাব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ৮টি প্রকল্প ছাড়াও এলএনজি, সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট ও কোল টার্মিনাল স্থাপন করা হবে। গড়ে তোলা হবে টাউনশিপ।
এছাড়া, জাপানি অর্থায়নে ১০৬ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান। এছাড়া, ৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যমান ১৬০ কিলোমিটার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চারলেনে উন্নীত করার প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানা গেছে, চিহ্নিত ৩৭টি প্রকল্পের মধ্যে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি প্রকল্প সমাপ্ত হয়েছে। ৭৮ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকার আরও ছয়টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলো ফিজিবিলিটি স্টাডিসহ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাপান বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম দেশ হলেও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশটির সহযোগিতা সরকারি প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ। বেসরকারি খাতে জাপানি বিনিয়োগ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। স্বাধীনতার পর থেকে গত ৫০ বছরে জাপান বাংলাদেশকে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে। আর বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া, প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এলাকা থেকে চট্টগ্রামের চকরিয়া পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ পোর্ট এক্সেস রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে মাতারবাড়ীতে চলমান ৬টি প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটিতে জাপানি বিনিয়োগের পরিমাণ ৫৮ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা বা প্রায় ৬ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ (প্রথম পর্যায়) ও মাতারবাড়ী পোর্ট এক্সেস রোড প্রকল্পে ১২ হাজার ৮৯২ কোটি, মাতারবাড়ী পাওয়ারপ্ল্যান্ট এক্সেস রোড নির্মাণ প্রকল্পে ৫০৫ কোটি টাকা, মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পাওয়ার প্ল্যান্টে ৪৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং মাতারবাড়ী মদুনাঘাট ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন প্রকল্পে ৯৪৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে জাপান।
জাপানি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, এটি সত্যি যে, সরকারি প্রকল্পে বিপুল পরিমাণে জাপানি বিনিয়োগ হলেও তা বেসরকারি খাতে কাক্সিক্ষত মাত্রায় আসেনি। তবে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি ইকোনমিক জোন সম্পন্ন হলে সেখানে এক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হবে আশা করা হচ্ছে। এর বাইরে মাতারবাড়ীতে মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পাওয়ার প্ল্যান্টে যে বিনিয়োগ হচ্ছে, সেটাও ওডিআই হিসেবে বিবেচিত হবে। এর বাইরে চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর ও মাতারবাড়ীতে বিপুল পরিমাণের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, আমরা বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশে রোড শো করা হচ্ছে। তবে করোনার কারণে অনেক কিছুই করা যাচ্ছে না। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জাপানে রোড শো করার। তবে আমি মনে করি, রোড শোর চেয়ে বিদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান আলোচনা ও দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো পরিদর্শন করাতে পারলে তা আরও বেশি কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ মাত্র ৩ বিলিয়ন ডলার।
মাতারবাড়ীতে ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ২৪০ একর জমিতে ওয়াটারফ্রন্ট হেভি ইন্ডাস্ট্রি ও লজিস্টিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বেজা। ২০২৫ সাল নাগাদ এই অর্থনৈতিক জোন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে জাপানের সামুদা করপোরেশন, সামিট পাওয়ার লিমিটেড ও প্যাসিফিক গ্যাস ৫১০ একর জমি বরাদ্দ পেয়েছে।
যেসব জাপানি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের ইচ্ছা পোষণ করেছে সেগুলো হলো- মিৎসু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড, জাপান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন ফর মাতারবাড়ী রেগাস টার্মিনাল, এ জয়েন্ট ভেনচার অব ইনপেক্স করপোরেশন, সোজিৎস করপোরেশন, কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি অ্যান্ড লোকাল ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড, জয়েন্ট ভেনচার অব মারুবেনি করপোরেশন অ্যান্ড ওসাকা গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, এবং জয়েন্ট ভেনচার অক সুমিটোমো করপোরেশন অ্যান্ড চুংকো ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি ইনক।
এছাড়া, মাতারবাড়ীতে একটি জাপানি ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাইকি। মহেশখালী গভীর সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন এলাকায় প্রস্তাবিত এই ইকোনমিক জোনে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে বিপুল বিনিয়োগ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মাতারবাড়ীতে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে পোর্ট ফ্যাসিলিটিজসহ এনার্জি ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তুলতে সামিট গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতা সই করেছে জাপানের জেরা এশিয়া। এ প্রকল্পের আওতায় বছরে ২০ মিলিয়ন টনের বাল্ক কার্গো হ্যান্ডলিং সম্ভব হবে।
মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রম সমন্বিত ও পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করতে গত বছরের ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠন ও বিজনেস মডেল প্রণয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভার ওয়ার্কিং পেপার ও মিটিং মিনিটস থেকে জানা যায়, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনায় মহেশখালী ও ধলঘাটে মোট ৬৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে।
দ্রুত, সমন্বিত উন্নয়নে অথরিটি হচ্ছে : মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক বিপুল উন্নয়ন পরিকল্পনা সমন্বিতভাবে ও দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নে পৃথক আইনের আওতায় নতুন একটি অথরিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রস্তাবিত এই অথরিটির আইন দেশে প্রচলিত অন্যান্য আইনের ঊর্ধ্বে স্থান পাবে। ইতিমধ্যে মিডি অথরিটি গঠনের একটি খসড়া আইনও প্রণয়ন করেছে সরকার। মাতারবাড়ীর উন্নয়নে অথরিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভাগ হাইলি সেন্ট্রালাইজ এবং মোস্টলি ওয়ান উইন্ডো সার্ভিসভিত্তিক করার পক্ষে মতামত দিয়েছে বলে জানা গেছে। অথরিটি গঠনে তৈরি করা আইনের খসড়াটি সংশোধনের জন্য লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে ১৩ জানুয়ারি একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। কমিটি দু’মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।
মিডি অথরিটির জুরিসডিকশন এলাকা হবে কেবল মাতারবাড়ী, ধলঘাট ও সোনাদিয়া কেন্দ্রিক। চিহ্নিত এলাকায় জাইকা প্রণীত ও প্রধানমন্ত্রী অনুমোদিত ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান বা মাস্টারপ্ল্যানের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। প্রস্তাবিত অথরিটি মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর, পাওয়ার হাব, লজিস্টিক হাব ও টাউনশিপ ডেভেলপমেন্টসহ সাপোর্টিং ফ্যাসিলিটিজ নির্মাণে নেতৃত্ব দেবে।
তবে মাতারবাড়ীকে পাওয়ার হাবে রূপান্তর করতে ৫১,৮৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট বাস্তবায়নে ফিজিক্যাল অগ্রগতি ৫২%। ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২৬ সালে অপারেশনে যাবে বলে আশা করছে সরকার।