গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে গত বিশ দিনে অন্তত ৯টি বড় আকারের জেব্রার মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। কী কারণে পর পর এতগুলো জেব্রার মৃত্যু হলোএ নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। তবে পার্ক কর্তৃপক্ষ বলছে, ৯টি জেব্রার মধ্যে ৫টি মারা গেছে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে। অন্যদিকে ৫টি জেব্রা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে মারা যেতে পারে বলে ধারণা করছে মেডিকেল টিম। এদিকে সাফারি পার্কের ৯টি জেব্রার মৃত্যুর ঘটনায় ৬ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। প্রাণীর স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় গঠিত মেডিকেল টিম পার্ক কর্তৃপক্ষ নতুন ১০টি দির্দেশনা দিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পার্কে ভিআইপি রেস্ট হাউজ ঐরাবীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পার্কের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল কবির ও মেডিকেল টিমের সদস্য ঢাকা চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটর এবিএম শহীদুল্লাহ এই তথ্য জানান।
মেডিকেল টিমের পক্ষে সাংবাদিকদের এবিএম শহীদুল্লাহ বলেন, ‘কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে ৯টি জেব্রার পাকস্থলীর বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষা করে নাইট্রো ফসফরাসসহ পাঁচটি ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে কোনো ভাইরাস পাওয়া যায়নি। পরীক্ষায় পাওয়া ব্যাকটেরিয়াগুলো হলো স্টেপটো কক্ককাস, ই-কলাই, ক্লোসটিডিয়াম, সালমোনেলা ও পেস্টোরেলা। তিনি আরও বলেন, প্রাণীর স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও দশটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষকে।
৯টি জেব্রার মৃত্যুর ঘটনায় ৬ সদস্যের মেডিকেল টিমের সদস্যরা হলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক আবু হাদি নুর আলী খান, সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক রফিকুল আলম, অধ্যাপক কাজী রফিকুল ইসলাম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. উকিল উদ্দীন, পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. সাজ্জাদ জুলকার নাইন মানিক ও চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটর এবিএম শহীদুল্লাহ।
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. তবিবুর রহমান জানান, প্রাণীর শরীরের কিছু স্যাম্পল পরীক্ষায় পাঁচটি ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আরও কিছু পরীক্ষার রেজাল্ট আসতে সময় লাগবে বলে মেডিকেল টিম জানিয়েছে। মেডিকেল টিম এরই মধ্যে দশটি নির্দেশনা দিয়ে প্রাণীর স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় কাজ করতে পার্ক কর্তৃপক্ষকে বলে দিয়েছে।
পার্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বছরের শুরুতেই একটি জেব্রা মারা যায়। পরে পর্যায়ক্রমে ২ জানুয়ারি থেকেই হঠাৎ একের পর এক জেব্রা মারা যেতে থাকে। এ নিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত সোমবার পর্যন্ত মোট ৯টি জেব্রা মারা যায়। এর মধ্যে সাতটি পুরুষ ও দুটি নারী জেব্রা রয়েছে। আরও বেশ কটি জেব্রা অসুস্থ মনে হচ্ছে। এরই মধ্যে পার্কে সরবরাহকৃত ঘাস দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে।
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. তবিবুর রহমান জানান, আফ্রিকা থেকে জেব্রাসহ অন্যান্য প্রাণী আমদানি করা হয় পার্কের জন্য। এর মধ্যে জেব্রাও আসে। পার্কে মোট ৩১টি জেব্রা ছিল। এখন ৯টি জেব্রার মৃত্যুর পর রয়েছে ২২টি জেব্রা। মৃত প্রাণীর মরদেহের নমুনা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
পার্কের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল কবির বলেন, একসঙ্গে এতগুলো জেব্রার এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান চলছে। প্রত্যেকটির মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মরদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। আইসিডিডিআরবি, ঢাকার কিউসি ল্যাবসহ বিভিন্ন জায়গায় এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু প্রাথমিক রিপোর্ট এসেছে মেডিকেল টিমের কাছে। তারা সেগুলো নিয়েও নতুন করে প্রাণীর স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে দশটি নতুন নির্দেশনা প্রদান করেছে। আমরা আরও সতর্ক থাকব। অন্য কোনো প্রাণীও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয় কিনা বিশেষভাবে জৈবনিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করতে দির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।