সিরামিক ও স্বর্ণের অপূর্ব সমন্বয় কিনতসুগি

প্রায় চার-পাঁচ শতাব্দী আগে জাপানে ভাঙা সিরামিক মেরামত করার জন্য বিলাসবহুল কৌশল আবিষ্কৃত হয়। কারিগররা চূর্ণবিচূর্ণ পাত্রকে একত্রিত করার জন্য ল্যাকার ও সোনার রঞ্জক ব্যবহার করতে শুরু করেছিলেন। এই ঐতিহ্যই কিনতসুগি হিসেবে পরিচিত। জাপানের বিখ্যাত কিনতসুগি নিয়ে লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা

জোড়া দেওয়ার শিল্প

স্বর্ণের সঙ্গে ভাঙা সিরামিকের অঙ্গাঙ্গি সম্পর্ক গড়ে দিয়েছে কিনতসুগি। সিরামিক শুধু নয়, ক্লে বা মাটির তৈরি তৈজসপত্র শিল্পীদের জন্যও অনন্য উপায় গড়ে দিয়েছে এ শিল্প। সমসাময়িক শিল্পীদের উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে যেন আরেকটু রং চড়িয়ে দিয়েছে কিনতসুগি। শিল্পীর উদ্ভাবনী তৃষ্ণাকে অনন্য রূপ দিয়েছে এটি। এ কৌশল আধুনিক ল্যাকার মাস্টারদের (যারা নিখুঁতভাবে জোড়া লাগানোর কাজ করে থাকেন) শিল্পীর মর্যাদা দিয়েছে। ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে জাপানের স্থানীয় শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় নিখুঁতভাবে সিরামিকের ভাঙা টুকরো স্বর্ণের মাধ্যমে জোড়া দেওয়ার বিষয়টি প্রাচীনকাল থেকেই চলে এসেছে। সমসাময়িক শিল্পীদের হাতে কিনতসুগি শুধু সময়ের সঙ্গে চর্চিতই হয়নি, অভিযোজিতও হয়েছে। এখানে যে কেউ কিনতসুগির তালিম নিতে পারেন, ত্রুটিপূর্ণ যেকোনো পাত্রকে দর্শনীয় করে তোলার হাতেখড়িও নিয়ে ফেলতে পারেন। তবে কিনতসুগির শুরুতে এটি শিল্প হিসেবে বিবেচিত হতো না। মেরামত বা পুনর্ব্যবহারের সুন্দর উপায় হিসেবে বিবেচিত হতো এটি। আধুনিককালে আন্তর্জাতিক উৎসাহে সিরামিকের চলমান উদ্দীপনার কারণে জাপানের বাইরেও শিল্প হিসেবে প্রবল সম্মানের স্থান পেয়েছে কিনতসুগি।

কিনতসুগির উৎপত্তি নিয়ে ঘাঁটলে তেমন পরিষ্কারভাবে কিছু পাওয়া যায় না। খুব সম্ভবত ষোড়শ বা সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকে জাপানে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এ শিল্প। এর সত্যতা মেলে লুইস কর্ট, স্মিথসোনিয়ানের ফ্রির গ্যালারি অব আর্ট ও ওয়াশিংটন ডিসির আর্থার এম স্যাক্লার গ্যালারির সিরামিক কিউরেটর বর্ণনায়। তবে পনেরো শতকে জাপানি সামরিক শাসক সেনগুকোর প্রাচীন চীনা সেলাডন চকচকে বাটি ভেঙে গেলে উপায় হিসেবে চীনে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু সে পাত্র মেরামতের কোনো উপায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কারণ পাত্রটি টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল। চীনারা মূল বাটি ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিল। ধাতুর টুকরো জোড়া দিয়ে পরে সে বাটি জোড়া লাগানো হয়। ধাতুর টুকরো জুড়ে দিয়ে ভঙ্গুর পাত্র জোড়া লাগানোর বিষয়টি চীনে আগ থেকেই প্রচলিত ছিল।

লুইস কর্টের ভাষ্যে এ গল্পের খোঁজ মেলে। তিনি আরও বলেছেন, অনুমান করা যায় যে স্বর্ণ জোড়া দিয়ে পাত্র মেরামতের বিষয়টি সম্ভবত আরও পুরনো। শুধু পনেরো শতক থেকেই এটি জাপানে চর্চা করা হচ্ছে না। খুব সম্ভবত এই ঐতিহ্যটি চায়ের পাত্রের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়। ষোড়শ শতকে জাপানের স্থানীয় চায়ের অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে বিকাশ লাভ করে এ শিল্প। চা পাত্রের গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকশিত হয় কিনতসুগি। এশিয়ার অন্যান্য অংশে বিশেষ করে চীন ও কোরিয়ার আমদানি করা সিরামিকের সঙ্গে বহু আগে থেকেই অল্পবিস্তর চর্চা ছিল কিনতসুগির। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে শুধু জাপানেই বিশেষভাবে এ শিল্পের চর্চা চলে আসছে।

কিনতসুগির প্রাথমিক পরিচিতিতে লুইস কর্ট অবশ্য আরেকটু গল্প জুড়ে দিয়েছেন। তার মতে, সপ্তদশ শতকে একজন জাপানি যোদ্ধার গল্প জড়িয়ে আছে কিনতসুগির সঙ্গে। সেই সৈনিক দিনের বেলায় বাহারি কাপে চা খেতে ভালোবাসতেন। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যে, তিনি সাধারণ ও পুরনো চায়ের পাত্র কিনে ফেলেছিলেন। বাটিগুলো ভেঙে সেগুলো কিনতসুগির মাধ্যমে মেরামত করা হয়। পরে সেখান থেকে বিপুল অর্থও উপার্জিত হয়।

এ গল্প আমাদের ইঙ্গিত দেয় যে, সপ্তদশ শতকের শুরুতে কিনতসুগি একেবারেই মেরামতের সাধারণ কৌশল হিসেবে দেখা হতো। একই সময়ে চা পানের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার যোগ শুরু হয়। ফলে চা পানের জন্য সবাই একটু বিশেষ ধরনের পাত্র বেছে নিতে শুরু করলেন। আলংকারিক সিরামিকের চা পাত্র জনপ্রিয় হয়ে উঠল। কিন্তু চাহিদা বাড়লে বাজারে কারিগরের অভাব আলংকারিক চা পাত্রকে দামি জিনিস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

শিল্পের উত্থান

কারিগররা যারা এ ভাঙা চা পাত্রকে সংশোধন করতেন তাদের আরেকটু এগিয়ে দিলেন সিরামিকের শিল্পীরা। সিরামিকের বাজার তখন রমরমা হয়ে উঠেছে। সিরামিকের পাত্রের ওপরে ভারী রঙের প্রলেপ দেওয়া শিল্পীরা সেই চা পাত্রের কারিগরদের প্রশিক্ষণ দিতেন। শুধু এ শিল্প ছাড়াও আরও নানারকম বার্নিশ শিল্পের চর্চা ছিল তাদের মাঝে। আলংকারিক বস্তুর ওপরে সূক্ষ্মভাবে স্বর্ণ ও রৌপ্যের ফুলেল নকশা ও আড়াআড়ি পেইন্টিয়ের জন্য একটি কৌশল। সেই সঙ্গে ট্রে, বক্স ও অন্যান্য তৈজসপত্রে কীভাবে হাতের কাজ ফুটিয়ে তোলা যায় সে ব্যাপারেও নজর দেওয়া হতো।

কিনতসুগি প্রক্রিয়ার কথা উঠলেই অবধারিতভাবে যার নাম চলে আসে সেটির নাম উরুশি। উরুশি একপ্রকার গাছের আঠা। এ উপাদানটি প্রায় ৯ হাজার বছর ধরে জাপানি কিনতসুগি শিল্পীদের কাছে আঠালো রং হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ প্রজন্মের জাপানি শিল্পীরা শুধু কিনতসুগি নয়, পুরো ল্যাকার শিল্পই পুনরুদ্ধার করতে উদ্যত। বর্তমানে এসব ল্যাকার শিল্পীর বেশিরভাগই বর্তমানে নিউ ইয়র্কে বসবাস করেন।

ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে কিনতসুগিতে সিরামিকের টুকরো জোড়া দিতে ল্যাকার ব্যবহৃত হয়। ল্যাকারটি যেকোনো ফাঁকা বা গর্তপূরণ করতে সক্ষম। যেহেতু সিরামিক শিল্পের সঙ্গে বার্নিশ বা ল্যাকার শিল্পের উত্থান তাই ফিরে যাই পানিরোধী করার গল্পে। পাত্রের তলায় কোনো ফাটল থাকা চলবে না। তাই পাত্রের যেকোনো অংশ পানিরোধী করে তোলার জন্য ল্যাকার ব্যবহৃত হয়। এ অংশটি সিরামিক শিল্পের সবচেয়ে কঠিন অংশ। তাই এ অংশের সবাইকে কারিগর না বলে শিল্পীর মর্যাদা দেওয়া হয়। সিরামিকের পাত্র শুকিয়ে ফেলার পর তৈরি হয় অসংখ্য ছিদ্র। সেগুলো ল্যাকার দিয়ে পূর্ণ করে দেওয়ার পর শুকিয়ে ফেলা হয়। একবার শুকিয়ে গেলে কোনোভাবেই ল্যাকার তুলে ফেলা যায় না। তলায় কোনো ধাতুর টুকরো জোড়া দেওয়া দরকার হলে সব টুকরো একসঙ্গে বসিয়ে একবারে ল্যাকার দিয়ে ছিদ্র পূর্ণ করে দেওয়া হয়। তারপর ল্যাকার শুকানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পাত্রের ওপরে প্রলেপ দেওয়া মসৃণ বার্নিশ শুকাতে কয়েক সপ্তাহ সময় নিতে পারে। অবশেষে বার্নিশ শিল্পী সর্বশেষ স্বর্ণের প্রলেপ দেবে। পুরো প্রক্রিয়ার সর্বশেষ ধাপ এটি। তবে স্বর্ণের বিষয়টি শুধুই নান্দনিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত। নান্দনিক উদ্দেশ্যে স্বর্ণের বদলে রুপার প্রলেপও দেওয়া হতে পারে। কিন্তু রুপার চেয়ে স্বর্ণই বেশি ব্যবহৃত হয় কারণ রুপা বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে রং বদলে ফেলে, সেখানে স্বর্ণ দীর্ঘদিন একইরকম রয়ে যায়। আর পাত্রে নেওয়া খাবারের সঙ্গেও স্বর্ণ বিক্রিয়া করে না।

শিল্পে আধ্যাত্মিক যোগ

কিনতসুগির সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার ঘনিষ্ঠ প্রভাব রয়েছে। জাপানি দর্শন ওয়াবি-সাবির বিস্তৃত রূপ হিসেবে ধরা হয় কিনতসুগিকে। জাপানি নন্দনতত্ত্বে ওয়াবি-সাবি ক্ষণস্থায়ী ও অপূর্ণতাকে গ্রহণ করার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

মানুষের জীবনে এমন অনেক সময় আসে যখন সে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। হতাশায় মুষড়ে পড়ে। কিন্তু সে আবার উঠে দাঁড়ায়, নিজের টুকরো টুকরো হয়ে পড়া অংশকে পুনঃউদ্যমে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে আরও মজবুত করে জোড়া লাগায়। ভেঙে টুকরো হয়ে যাওয়া একেকটি অংশই হয়ে দাঁড়ায় মানুষের শক্তির একেকটি পৃথক অংশ। এ প্রসঙ্গে ক্রিস্টি বার্টলেট বলেন, ‘এখানে শুধু ক্ষতি লুকানোর কোনো চেষ্টাই নেই। তবে মেরামতটি আক্ষরিক অর্থে আরও আলোকিত করে তুলে ধরা হয়। এটি এক ধরনের শারীরিক অভিব্যক্তি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অস্তিত্বের পরিবর্তন যার জন্য মানুষ সংবেদনশীল তার রূপটিই সিরামিকের ভাঙা জিনিসপত্র দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।’ সবমিলিয়ে সংবেদনশীলতার মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠে এ শিল্প।

শিল্পীর চোখে

কিনতসুগি শিল্পী সারতানি ২৫ বছর আগে তার বাবার কাছ থেকে এ শিল্পের হাতেখড়ি নেন। তার কাজ শুরু হয়েছিল জাপানেই। পরে শিল্পের বিকাশে তিনি নিউ ইয়র্কে চলে আসেন। বর্তমানে জাপান ও নিউ ইয়র্ক জুড়ে তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। জাপানের নিয়মানুযায়ী কিছু কিছু ল্যাকার মাস্টাররা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রশিক্ষণ নেন। কারণ শিল্পের বিস্তার সবসময়ই ধীরগতির কাজ। শিল্পে তাড়াহুড়োর স্থান নেই বললেই চলে।

২০১২ সালে সারতানি এ শিল্পের পেছনের গল্প পুনরুদ্ধার ও বৈশ্বিকভাবে কিনতসুগি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিউ ইয়র্কে চলে আসেন। বিশ্বব্যাপী কিনতসুগির চাহিদা দেখে তিনি এ শিল্পে যোগ করেন নতুন মাত্রা। প্লাটিনামের মতো দামি ধাতু থেকে শুরু করে তামার মতো কমদামি ধাতুও ঠাঁই পায় তার শিল্পে। পাশাপাশি এ নিয়ে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চলতে থাকে। সুবিধা-অসুবিধার ওপর নির্ভর করে ধাতুর একেকটি টুকরোকে নিয়ে তার শৈল্পিক নিদর্শন তৈরির জন্য গ্রাহককে ৫০ ডলার থেকে ২৫ শত ডলার পর্যন্ত গুনতে হয়। এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে এক মাসের মতো। সারতানি কিনতসুগির জন্য এত বেশি অনুরোধ পান যে, অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহক ফিরিয়ে দিতে হয় তাকে। কয়েক বছর ধরে তিনি কিনতসুগি নিয়ে বেশ কিছু প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন। নিউ ইয়র্কে তার স্টুডিওতে বসে তিনি ক্লাস নেন। ভাঙা কিছুর শৈল্পিক মেরামতের ইচ্ছে থেকেই মানুষ তার কাছে শিখতে আসে। আবার অনেকে শুধুই জানার আগ্রহ থেকে তার কাছে যান। শিল্পের গ্রাহক বা শিল্পচর্চায় আগ্রহী কাউকেই তার ফেরাতে ইচ্ছে হয় না।

সংশোধনের এ প্রক্রিয়াটি সমসাময়িক শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। সবসময়ই বিশ্বায়ন যেকোনো শিল্পকে নিজের আদলে অভিযোজিত করতে চায়। ফলে প্রাচীন পদ্ধতিতে ও ঐতিহ্যবাহী কৌশল অবলম্বনে খুব কম শিল্পীই বর্তমানে কাজ করে থাকেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসেবে বলা যায় কোরিয়ান ভাস্কর ইসুকুং। তিনি ভাঙা পাত্রের টুকরো দিয়ে নান্দনিক ভাস্কর্য তৈরি করে থাকেন। আবার ব্রিটিশ শিল্পী পল স্কটও একই কৌশল ব্যবহার করে সিরামিকের স্বতন্ত্র টুকরো একত্রিত করে থাকেন।

পল স্কটের ভাষায়, তিনি মেরামত ও সংশোধনের আগ্রহ থেকে কিনতসুগির সংস্পর্শে আসেন। আশির দশকে এক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে কাজ শুরু করার পর এ শিল্প নিয়ে তার আগ্রহ জন্মে। কিনতসুগিকে নিজের মতো করে ব্যবহার শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তার শৈল্পিক চর্চার সঙ্গে মিশে আছে কিনতসুগি। বর্তমানে তিনি গয়না, পোর্সেলিন ইত্যাদি বিভিন্ন উৎসের সঙ্গে সিরামিকের টুকরো মিশিয়ে একটি আধুনিক সংস্করণ হিসেবে এ শিল্পের চর্চা করে চলেছেন।

বাউকে দে ফ্রিস আরেক কিনতসুগি শিল্পী। ভাঙা পোর্সেলিনের সঙ্গে তিনি সিরামিকের টুকরো ব্যবহার করে তিনি ভাস্কর্য তৈরি করেন। ফুলদানি, চায়ের পাত্র, নান্দনিক ভাস্কর্য তাকে শিল্পের সঙ্গে সঙ্গে চোখের সামনে শিল্পের অতীতের গল্প তুলে আনে। তিন দশক ধরে তিনি সিরামিক শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এ কৌশল সামনাসামনি দেখার সুযোগ পান। প্রাথমিকভাবে ঐতিহ্যের অনুসারী হয়ে শুধু স্বর্ণ দিয়েই কাজ চালিয়ে গেছেন। ধীরে ধীরে জাপানি ল্যাকার মাস্টার হয়ে ওঠেন তিনি।

আধুনিককালে জাপানি দর্শন ওয়াবি-সাবির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সম্পর্কযুক্ত হয়ে পড়ে কিনতসুগি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ যতই নিখুঁত হয়ে উঠতে চেয়েছে এ দর্শন তত বেশি মানুষের খুঁত, অসম্পূর্ণতাকে গ্রহণ করার সৌন্দর্য বর্ণনা করে গেছে। অসম্পূর্ণতাও যে নান্দনিক হয়ে উঠতে পারে নীরবে সে বার্তাই তো দিয়ে যাচ্ছে এ শিল্প। একই সঙ্গে সিরামিকের মতো সাধারণ জিনিসের সঙ্গে স্বর্ণের যোগের যে বৈপরীত্য তাও তো দৃশ্যমান। শত শত বছর ধরে এ শিল্প নিজে তার অভিযোজনে মুগ্ধ হয়েছে, শিল্পের দীর্ঘায়ু মানুষকে মুগ্ধ করেছে তার চেয়েও বেশি।