ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানও কর ছাড়ের আবেদন করে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর ছাড়ের আবেদনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিব্রত হয় বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ট্যাক্স-জিডিপির রেশিও নিয়ে অনেক কথা হয়। গত বছর আমাদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কিছুতেই ৯ শতাংশের বেশি হয় না। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে শিল্প কলকারখানায় কাঁচামাল আমদানি করতে কর ছাড় দিয়ে থাকি। এতে দেশের উন্নয়ন হয়, কর্মসংস্থান তৈরি হয়। আমরা দেখেছি এগুলো যদি না দিই তাহলে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত ১৬ শতাংশ হতো।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অনেক মন্ত্রণালয় থেকেও কর ছাড়ের আবেদন করা হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান কর ছাড়ের আবেদন করলে এনবিআর বিব্রত হয়। সরকারের এক খাতের টাকা আরেক খাতে যাবে। এ অভ্যাস করতে হবে, কর দেওয়ার কালচার বেগবান করতে হবে।
এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক অর্থ পাচার রোধে কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমদানি-রপ্তানিতে ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা বিদেশে চলে যায়। নানা মহলে এ নিয়ে সমালোচনা হয়। ব্যবসায়ী বা সরকারি চাকরিজীবীদের কেউ কেউ দুর্নীতি ও কর ফাঁকির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থ পাচার রোধে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাজ করতে হবে। তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, মাত্র ৩০ থেকে ৪০ বছরের ব্যবধানে দক্ষিণ কোরিয়া উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছেছে। কীভাবে তা সম্ভব হয়েছে? মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে দেশটিতে বড় ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা ছিল। এ ধরনের অপরাধের জন্য ক্যাপিটাল পানিশমেন্টও দেওয়া হয়েছে সেখানে। দেশটি বৈদেশিক মুদ্রাকে রক্ষা করে ভারী শিল্পের দিকে এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশকেও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। ডিজিটাইজেশন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন কৃষিমন্ত্রী। তার মতে, দুটি বিষয়ের প্রতি সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে। সেগুলো হচ্ছে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো।
অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনও ডিজিটাইজেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে কোনো নীতিমালা প্রণয়নে অবশ্যই এফবিসিসিআইকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। এনবিআরের সদস্য (শুল্কনীতি) মাসুদ সাদিক অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।