অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) বর্তমানে দেশের জন্য ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি ও উদ্বেগের কারণ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘সরকার এনসিডি প্রতিরোধে সেক্টর ভিত্তিক প্রোগ্রাম নিয়েছে। দেশের আট বিভাগে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের হাসপাতাল স্থাপন করা হচ্ছে। দেশের সব জেলা হাসপাতালে ১০ বেডের ডায়ালাইসিস ও আইসিইড বেড স্থাপন করা হচ্ছে। উপজেলা হাসপাতালসহ দেশের সব হাসপাতালে এনসিডি কর্নার করা হয়েছে।’
গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘প্রথম জাতীয় অসংক্রামক রোগ সম্মেলন-২০২২’-এর প্রথম দিনে তৃতীয় অধিবেশনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে এ সব কথা বলেন তিনি।
জাহিদ মালেক বলেন, ‘জীবনযাত্রার পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, ওবিসিটি, তামাকের ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ, অপর্যাপ্ত কায়িক পরিশ্রম, ওষুধের অপব্যবহারের কারণে এনসিডি বাড়ছে। এনসিডি প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। রেগুলার চেকআপ ও আর্লি ডিটেকশন এনসিডি কন্ট্রোলে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রিটমেন্ট ফ্যাসিলিটি বাড়ানো ও প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালগুলো করোনা রোগী দিয়ে ভর্তি হওয়ায় এনসিডি রোগীরা সেবা বঞ্চিত হয়েছেন। দেরিতে সেবা নেওয়ায় মৃত্যু বেড়েছে। সংক্রমণ রোধে সবাইকে মাস্ক পরতে, জনসমাগম এড়ানো ও ভ্যাকসিন নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক ড. তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস সম্মেলনের প্রথম দিনে তৃতীয় অধিবেশনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বলেন, অসংক্রামক ব্যাধির কারণে বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তামাকের ব্যবহার, আনহেলদি লাইফ স্টাইলের কারণে এনসিডি বাড়ছে। এনসিডি কন্ট্রোল ও প্রিভেনশনে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে ডব্লিউএইচও।
তৃতীয় সেশনে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. রুহুল হক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির, বাংলাদেশ শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শরফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক অধ্যাপক এবিএম খুরশীদ আলম, ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন, বিএনসিডিএফের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ভিরা মেনডনকা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের লাইন পরিচালক অধ্যাপক রোবেদ আমিন, ডব্লিউএইচও কনসালটেন্ট ডা. তৌফিক জোয়ার্দার প্রমুখ।