গ্যাস আসে রাত ১২টায়, আর চলে যায় ভোর ৫টায়। বাকি সময় চুলা জ¦লে না। গত ১৫ দিন ধরে এমন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় রান্না করছেন তারা। আবার অনেকে খাবার হোটেল থেকে খাবার সংগ্রহ করছেন। এতে খাবার হোটেলগুলোতে ভিড় দেখা যাচ্ছে। এছাড়া প্রভাব পড়ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চালাতে হচ্ছে। এতে করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমন অবস্থায় তিতাস গ্যাসের গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। সংকট সমাধান না হলে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন তারা।
গ্রাহকরা জানান, রাতে অল্প পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ চালু থাকলেও দিনের বেলায় একেবারেই থাকে না। কিন্তু প্রতি মাসে গ্যাস বিল গুনতে হচ্ছে ঠিকই। গ্যাস বিল বকেয়া পড়লে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে তিতাস কর্তৃপক্ষ। রূপগঞ্জ উপজেলায় তিতাস গ্যাসের প্রায় ৭ হাজার বৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ রয়েছে। রূপসী, বরপা, তারাব, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, কাঞ্চন, শান্তিনগর, কাজীপাড়া, দক্ষিণ রূপসী, মৈকুলী, মুড়াপাড়া, আমলাবোসহ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া পার্শ^বর্তী আড়াইহাজার উপজেলার বিনাইচর, ছোট বিনাইচর, সদর, শিবপুর, কালিবাড়ি, দুপ্তারা, সত্যবান্দিসহ অন্যান্য এলাকায়ও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।
রূপগঞ্জের রূপসী এলাকার বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না বললেই চলে। কখনো নিভু নিভু করে চুলা জ¦লে। পানি গরম হতেই ঘণ্টাখানেক সময় লেগে যায়। মাঝে মাঝে গ্যাস একটু আধটু আসে তাও খুব অল্প সময়ের জন্য। এতে গৃহিণীদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মাটির চুলা বা গ্যাস সিলিন্ডারে রান্না করতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আন্দোলনে নামা ছাড়া উপায় থাকবে না।’
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সোনারগাঁও আঞ্চলিক শাখার বিপণন বিভাগ সূত্র জানায়, এ কার্যালয়ের আওতায় প্রায় ৩৭ হাজার আবাসিক বৈধ গ্রাহক রয়েছে। এছাড়া শিল্প ও বাণিজ্যিক সংযোগ রয়েছে ৭৫০টি। এর মধ্যে রূপগঞ্জে গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৭ হাজার ও আড়াইহাজারে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার সংযোগ।
তিতাস সূত্রে জানা গেছে, তিতাস গ্যাসের টোটাল নেটওয়ার্কে চাহিদা অনুযায়ী সাপ্লাই কম হচ্ছে। এছাড়া বেশ কিছুদিন ধরে কাতার থেকে জাহাজে করে তরল এলএনজি এনে চট্টগ্রামে তা রিফাইনিং করে কনভার্টের মাধ্যমে (জাতীয় গ্রিড) ৩২ ইঞ্চি পাইপলাইনে ঢুকানো হচ্ছে। যার ফলে প্রেশার আপ ডাউন হচ্ছে। এছাড়া এমনিতে শীতের দিনে পাইপলাইনে গ্যাস জমে যায়। গ্যাস সরবরাহে ধীরগতি থাকে। গ্যাস সংকটের এটাও আরেকটা কারণ।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সোনারগাঁও আঞ্চলিক শাখার বিপণন বিভাগের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মেজবাউর রহমান বলেন, ‘তিতাস গ্যাসের সাপ্লাই কম হওয়ার কারণে গ্যাসের প্রেশার কমে গেছে। তবে এ সমস্যা শিগগিরই দূর হয়ে যাবে। আশা করছি আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রেশার বেড়ে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’