ঢাকার উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নির্মাণাধীন মেট্রোরেলের ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার পথে ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাছে ৫৮২ ও ৫৮৩ নম্বর ‘পিয়ারে’র মাঝে শেষ ভায়াডাক্টটি বসানো হয়। এর মধ্য দিয়ে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো অংশের কাঠামো দৃশ্যমান হলো। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছরের ডিসেম্বরে চালু হবে ঢাকাবাসীর কাক্সিক্ষত মেট্রোরেল।
এদিকে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে; যা কমলাপুর পর্যন্ত লাইন সম্প্রসারণ এবং যাত্রীসেবার সুবিধা বাড়াতে ব্যয় হবে বলে জানিয়েছেন বাস্তবায়নকারী সংস্থার এমডি। এ প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের পর একনেকের অনুমোদন পেলে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) ৬ প্রকল্প বা উত্তরা থেকে মতিঝিল হয়ে প্রস্তাবিত কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের মোট নির্মাণ ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলমান প্রকল্পটির মোট ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা।
মতিঝিল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত আরও ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার মেট্রোরেল সম্প্রসারণ এবং স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের ওঠানামা, নিরাপত্তা, বয়স্ক, মহিলা এবং প্রতিবন্ধীসহ সব ধরনের যাত্রী পরিষেবার সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে অতিরিক্ত এ ব্যয় হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা ডিএমটিসিএল এমডি এম এ এন সিদ্দিক।
পিয়ারগুলোর ওপরে যে কংক্রিটের কাঠামো বসিয়ে একটির সঙ্গে আরেকটি যুক্ত করা হয় তাকে বলে ভায়াডাক্ট। এটির ওপরই বসবে রেললাইন, তার ওপর দিয়ে চলবে বৈদ্যুতিক ট্রেন। সর্বশেষ ভায়াডাক্ট স্থাপনের কার্যক্রম ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাংবাদিকদের দেখানো হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক।
এ সময় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণসহ পুরো প্রকল্পে যাত্রীদের প্রবেশ, বের হওয়া এবং বিশ্বমানের যাত্রী পরিষেবা দেওয়ার জন্য আমরা প্রায় আট হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি।’
তিনি বলেন, ‘এ প্রস্তাব আমরা মন্ত্রণালয়ের পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে তা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাবে। এরপর তা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।’
তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার এবং পরের বছর ডিসেম্বরের মধ্যে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৮ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার মেট্রোরেল চালু করা হবে।
সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ৭৪ শতাংশ। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত পূর্ত কাজের অগ্রগতি ৯০ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭৩ দশমিক ০৮ শতাংশ প্রকল্পটির প্রায় শেষ পর্যায়ে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার বিদ্যমান গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবহারবান্ধব মেট্রোরেল চালুর বিষয়টি মাথায় রেখে ঢোকার ও বের হওয়ার পয়েন্টগুলো জনসাধারণের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় করা হবে। এজন্য নতুন কাজের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘যেখানে মেট্রোরেলের স্টেশন থাকবে সেখানে প্রচুর মানুষের চলাফেরা হবে। কিন্তু ঢাকা শহরে বর্তমানে সড়ক পরিবহন ও সড়কের যে অবস্থা তাতে এই চাপ সামলানো সম্ভব হবে না। তাই নগরীর সব রাস্তা প্রয়োজনীয় প্রশস্ত না থাকায় প্রয়োজনীয় জায়গায় প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণ করে ফুটপাতসহ সড়ক প্রশস্ত করা হবে। যাতে সড়কে যানজট সৃষ্টি না হয় এবং যাত্রীরা যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন।’