সম্প্রতি র্যাব এবং এর সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াটলি। তিনি বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত এমন কোনো কিছু দেখছি না, যাতে মনে হয় ব্যবসার ওপর প্রভাব পড়েছে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।
ডিআরইউ সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠুর সভাপতিত্বে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রদূত হোয়াটলি বলেন, ‘রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ব্যবসার ওপর কখনো কখনো প্রভাব ফেলে, কিন্তু আমি এমন কোনো ইঙ্গিত দেখছি না যাতে বোঝা যায় সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ব্যবসার ওপর পড়েছে বা এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে গত ২০ জানুয়ারি ইইউ পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিমালাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেপ বোরেলকে চিঠি দেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভান স্টেফানেক। এতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে র্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত হোয়াইটলি বলেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে সাতশর বেশি সদস্য আছে। একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি যেটি ভালো মনে করেছেন, সেটি পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিমালাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিকে লিখেছেন। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়।
ওই চিঠির ফল কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ইইউতে ২৫ বছর ধরে কাজ করছি। এখানে প্রথা হচ্ছে কোনো চিঠি লেখা হলে সেটির জবাব দেওয়া হয়। আমি নিশ্চিত ইইউ পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিমালাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি সঠিক সময়ে ওই চিঠির উত্তর দেবেন।’
সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন অভিযোগ করেছেন, ওই পার্লামেন্ট সদস্য টাকার বিনিময়ে এই চিঠি লিখেছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ওই সদস্যকে কেউ সাহায্য করেছে কি না, এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে একটি আইন সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। সম্প্রতি বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, সামনের নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানাবে বাংলাদেশ। এতে তারা উৎসাহিত বোধ করছে।
প্রতি বছর ৩০টি দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ইইউ পর্যবেক্ষক পাঠায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৩ সালে কোন ৩০টি দেশে পর্যবেক্ষক পাঠানো হবে সেটি এখনো নির্ধারিত হয়নি।