পাবিপ্রবি ভিসির নির্দেশে শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য ড. এম রোস্তম আলীর নির্দেশে এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। নিজ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদ করায় উপাচার্যের উপস্থিতিতে ও তার নির্দেশে কর্মচারীদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন পাবিপ্রবির গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ। তার ভাষ্য, উপাচার্যের নিষেধ উপেক্ষা করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নিয়োগ বোর্ডে ঢোকার চেষ্টা করলে হামলার মুখে পড়েন। গতকাল বিকেলে পাবনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন ওই শিক্ষক। তবে শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপাচার্য রোস্তম আলী।

উপাচার্য রোস্তম আলীর বিভিন্ন অনিয়মের সহযোগী ও ভিসিপন্থি বলে ক্যাম্পাসে ড. হারুন অর রশিদের পরিচিতি থাকলেও সম্প্রতি তাদের দুজনের মধ্যে কয়েকটি ইস্যুতে টানাপড়েন দেখা দিয়েছে বলে পাবিপ্রবির একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন।

ড. হারুন অর রশিদ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, পাবিপ্রবির গণিত বিভাগে দুজন শিক্ষক নিয়োগের জন্য গতকাল নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিয়ম অনুযায়ী সকালে নিয়োগ বোর্ডে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় উপাচার্যের উপস্থিতি ও নির্দেশে তাকে কর্মচারীরা লাঞ্ছিত ও মারধর করে।

তবে ড. হারুনকে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপাচার্য রোস্তম আলী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ড. হারুনের স্ত্রী নিয়োগ পরীক্ষায় একজন প্রার্থী। সে কারণে তাকে নিয়োগ পরীক্ষায় উপস্থিত না থাকার নির্দেশনা জানিয়ে রেজিস্ট্রার অফিস থেকে ফোন করা হয়েছিল। এছাড়া আমি নিজেও তাকে বলেছিলাম। নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতার স্বার্থে তাকে নিয়োগ বোর্ডে থাকতে দেওয়া হয়নি। মারধরের অভিযোগ সত্য নয়।’

অবশ্য ড. হারুন বলেছেন, স্ত্রী প্রার্থী হওয়ায় তিনি নিজেই একটি চিঠি দিয়ে তাকে প্রশ্ন তৈরি ও খাতা মূল্যায়নের কাজ থেকে বিরত রাখার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তার নিকটাত্মীয় ভাইভা বোর্ডে গেলে সেখানে উপস্থিত থাকবেন না জানিয়ে বিভাগের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ বোর্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ওই চিঠিতে।

এ প্রসঙ্গে ড. হারুন বলেন, ‘প্রশাসন নিয়োগ বোর্ড থেকে বাদ দেওয়ার কোনো চিঠি না দিয়েই উপাচার্য মৌখিকভাবে আমাকে নিয়োগ পরীক্ষায় আসতে নিষেধ করেন। অনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিসির পছন্দের প্রার্থী নিয়োগ করতে শিক্ষক নিয়োগের পুরো কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকে আমাকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও নিয়মবহির্ভূতভাবে আমাকে নিয়োগ বোর্ডে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’

নিয়োগ পরীক্ষায় নিজের স্ত্রীর অংশ নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এর আগে ভিসি নিজেও নিয়োগ বোর্ডের প্রধান থেকে তার আপন ভাতিজিকে চাকরি দিয়েছেন। সেটি নিয়মবহির্ভূত না হলে আমার উপস্থিত থাকা কেন অনিয়ম হবে?’

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে পাবিপ্রবিতে সেকশন অফিসার পদে পরীক্ষা দেওয়া আতিকুল ইসলাম নামে এক চাকরিপ্রার্থীও উপাচার্য রোস্তম আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, গত জুন মাসে সেকশন অফিসার পদে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। লিখিত পরীক্ষায় টিকেছিলেন, তবে মেধাক্রম অনুসারে ফলাফল না দেওয়ায় মৌখিক পরীক্ষা থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়। ভিসির ভাতিজিকে চাকরি দিতে সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপাচার্য রোস্তম আলী বলেন, ‘নিয়ম মেনেই আমার ভাতিজিকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। চাকরি না পেয়ে এখন তারা এসব অভিযোগ করছে। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

বাড়ি ভাড়া ফাঁকি, গাড়ি বিলাসিতা, নিয়োগবাণিজ্য, বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলের অর্থ লুটসহ বিভিন্ন অভিযোগে এর আগে বারবার বিতর্কিত হয়েছেন পাবিপ্রবি উপাচার্য এম রোস্তম আলী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতাও পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। অভিযোগের তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশনও।