সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

ষষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারণা চলছে ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৯টি ইউনিয়নে। আগামী সোমবার এসব ইউনিয়নে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেম্বার প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে শেষ মুহূর্তেও তারা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে ভয় ও শঙ্কা প্রকাশ করছেন; বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শঙ্কায় রয়েছেন বেশি।

নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল, শিকারীপাড়া, কৈলাইল, চুড়াইন, নয়নশ্রী, বান্দুরা এবং দোহারের বিলাশপুর, নারিশা ও নয়াবাড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জানিয়েছেন, নৌকার প্রার্থীর লোকজন তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও যন্ত্রাইল ইউনিয়নের স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী নূর আলম বলেন, ‘আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে, আমি যেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই। ভোটকেন্দ্রে আমার কোনো এজেন্ট যেন না থাকে তার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।’

নয়নশ্রী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। বহিরাগত লোকজন নিয়ে মহড়াও দিচ্ছে।’

চুড়াইন ইউনিয়নের আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জব্বার ভূঁইয়া বলেন, ‘কোথাও একটা পোস্টার ঝোলাতে পারিনি। কর্মীরা বের হলেই নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় আছি।’

নবাবগঞ্জ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ভোট শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশে নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে তৎপর প্রশাসনসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কোনো প্রার্থী যেন ভোটকেন্দ্র দখল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, ‘সুষ্ঠু নিবার্চনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। কোনো রকমের ভয়ভীতির আশঙ্কা নেই। ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দেবেন।’