সৈয়দ আহমদ (৬০)। কখনো উদ্বাস্তু, কখনো বাবুর্চি আবার কখনোবা নিরাপত্তাকর্মীর ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায়। পরিচয় আড়াল করতে তৈরি করেছিলেন দুটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)।
তিনি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ব্যবসায়ী জানে আলম হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পলাতক আসামি। বিভিন্ন বেশ ধরে টানা ২০ বছর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে থাকতে পারলেও অবশেষে ধরা পড়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাবের একটি দল। গ্রেপ্তার হওয়া সৈয়দ আহমদের বাড়ি লোহাগাড়ার আমিরাবাদ গ্রামে। ২০০২ সালের ৩০ মার্চ লোহাগাড়ায় ব্যবসায়ী জানে আলম হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলার আসামি ছিলেন তিনি। ওই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ছিলেন আত্মগোপনে। ২০০৭ সালের জুলাই মাসে জানে আলম হত্যা মামলায় সৈয়দ আহমদসহ ১২ জনের ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, একটি মামলায় আদালতে সাক্ষী দিতে যাওয়ার আগে জানে আলমকে হত্যা করেন ওই মামলার আসামি সৈয়দ আহমদ ও তার সহযোগীরা। জানে আলমকে হত্যার ঘটনায় তার ছেলে তজবিরুল আলম বাদী হয়ে সৈয়দ আহমদসহ ২১ জনকে আসামি করে লোহাগাড়া থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই সৈয়দ আহমদসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেয় আদালত। পরবর্তী সময়ে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করলে সৈয়দ আহমদসহ ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে।
র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নুরুল আবছার জানান, জানে আলম খুন হওয়ার পর বাঁশখালীর বিভিন্ন ডাকাত দলের সঙ্গে সমুদ্রে পাড়ি দেন সৈয়দ আহমদ। এরপর চার-পাঁচ বছর পরিবার ও আত্মীয়স্বজন ছেড়ে বাঁশখালী, আনোয়ারা, কুতুবদিয়া ও পেকুয়ার সাগর উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাস শুরু করেন। পরে তিনি সীতাকুণ্ড এলাকায় উদ্বাস্তু হিসেবে বসবাস করেন। নানা পেশায় জড়িয়েও পড়েন। কখনো বাবুর্চি আবার কখনো নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ নেন। একপর্যায়ে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুরে প্রভাবশালী একজনের ছত্রচ্ছায়া ও সহযোগিতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে সেখানে থাকা তিনি নিরাপদ মনে করছিলেন না। পরে আবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন মাজারে বাবুর্চির কাজ শুরু করেন। এরপর চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ থানা এলাকার একটি বাড়িতে নিরাপত্তা প্রহরীর ছদ্মবেশে কাজ নিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। অবস্থান শনাক্তের পর গত বৃহস্পতিবার সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।