৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে কারখানা নির্মাণের দেড় বছর পরেও উৎপাদন কাজ শুরু করতে পারছে না গাজীপুর সদরের হামজা অ্যাপারেলস লিমিটেড। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের একের পর এক মামলা এবং কারখানা মালিককে হত্যাসহ নানা হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম। প্রতিপক্ষের করা ‘মিথ্যা অভিযোগের’ নয়টি মামলা মাথায় নিয়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন কারখানাটির মালিক। গাজীপুরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার হামজা অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবুল কাশেম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণ নিয়ে ২০২০ সালের জুন মাসে হামজা অ্যাপারেলস কারখানার নির্মাণকাজ শেষে দেড় বছর ধরে এটি উৎপাদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কারখানাটি চালু হলে ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। একের পর এক মামলা ও বিভিন্ন হুমকির কারণে কারখানার উৎপাদান শুরু করতে না পারায় তাকে ব্যাংক ঋণের সুদ গুনতে হচ্ছে। প্রীতি গ্রুপ নামে একটি কোম্পানির প্লট রয়েছে তার জমির বিপরীত পাশে। সেই প্লটের মালিক তার বিরুদ্ধে একে একে মিথ্যা অভিযোগে নয়টি মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। এছাড়া তাকে হত্যাসহ হামজা অ্যাপারেলস কারখানাটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে কয়েকটি মামলায় উচ্চ আদালতে পরাজিত হলেও নতুন করে একের পর এক মামলা দিয়ে যাচ্ছে প্রীতি গ্রুপ কর্র্তৃপক্ষ।
আবুল কাশেম জানান, ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ১৯৭৭ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা একটি রাস্তা তার জমিসংলগ্ন হওয়ায় স্থানীয় ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধে স্থানীর সরকার মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও গাজীপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বৈধভাবে ওই রাস্তার ৬৭ শতাংশ জমি কেনেন। বিনিময়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন তৈরি করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পছন্দমতো অন্য দাগে ৬৮ শতাংশ জমি ২০২০ সালের ১২ মার্চ সরকার তথা ইউনিয়ন পরিষদকে কিনে দেন।
ওই জমি রেজিস্ট্রির কয়েক দিন পর প্রীতি গ্রুপ আদালতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে দুটি মামলা করে দাবি করে হামজা অ্যাপারেলস এমডি বলেন, ‘পরে আদালতে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় দুটি মামলাই খারিজ হয়ে যায়। এরপর হামজা অ্যাপারেলসের কেনা জমি দখল করতে এবং জমির দলিল বাতিল করতে প্রীতি গ্রুপের লোকজন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। তারা একে একে নয়টি মামলা করে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় উচ্চ আদালতে হামজা অ্যাপারেলসের পক্ষে রায় আসে। তারপরও প্রীতি গ্রুপ মামলা দিয়েই চলছে।’
আবুল কাশেমের দাবি, তার কারখানার পাশে প্রীতি গ্রুপের খালি জমি রয়েছে। যদিও ওই জমিতে তিনটি কারখানা আছে এবং সেখান থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় বলে প্রচার করে তারা। প্রকৃতপক্ষে বন বিভাগের জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা প্রীতি গ্রুপের ওই জমিতে কোনো স্থাপনাই নেই। সেই জমিতে বর্তমানে ধান চাষ এবং গবাদি পশুর চারণভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জমির বিরোধ মেটাতে মধ্যস্থতা করলেও পরে প্রীতি গ্রুপ তা মেনে নেয়নি বলে অভিযোগ করেন আবুল কাশেম। তিনি বলেন, ‘প্রীতি গ্রুপের মালিক সিআইপি এবং তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ায় বিভিন্ন মাধ্যমে আমার জীবননাশের এবং হামজা অ্যাপারেলস কারাখানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।’
দ্রুত কারখানার উৎপাদনকাজ শুরু করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন এ উদ্যোক্তা।