প্রণোদনা ঋণ বেশি গেছে সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর কাছে

করোনার প্রভাব থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর সুবিধা বেশি পেয়েছে সংগঠিত ব্যবসায় গোষ্ঠী। অনানুষ্ঠানিক খাতের যেসব জায়গায় এ সুবিধা দরকার ছিল, অনেক ক্ষেত্রেই সেসব জায়গায় এই সুবিধা পৌঁছায়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলে সংস্কার আনতে হবে। গতকাল শনিবার ‘কভিড-১৯ প্রণোদনা প্যাকেজ: প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এমন মতামত দিয়েছেন। এশিয়া ফাউন্ডেশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট-র‌্যাপিড যৌথভাবে ভার্চুয়াল এ সভার আয়োজন করে।

দেশে করোনার প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন খাতের জন্য পর্যায়ক্রমে ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। এসব প্যাকেজের মাধ্যমে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা ছাড়ের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা দেশের জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ। সভার আলোচকরা বলেছেন, সরকার ঘোষিত প্যাকেজের ৮৫ ভাগ মুদ্রা বাজারকেন্দ্রিক অর্থাৎ ব্যাংক ঋণনির্ভর। যদিও অর্থ বিভাগের দাবি ঘোষিত প্যাকেজে সরকারের বাজেট থেকে বরাদ্দ বাড়ছে। বর্তমানে ৭০ শতাংশ ব্যাংক ব্যবস্থানির্ভর।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘একথা সত্য সুবিধা কারা পাবে, তা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে প্রথম দিকে কিছু ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকতে পারে। তবে পরে সেগুলো ঠিক করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী সঠিকভাবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে যেসব সমস্য ছিল তা সমাধান করা হয়েছে।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, বিশ্বের  শীর্ষ অর্থনীতির ৫৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ গত ডিসেম্বরে ২২তম অবস্থানে ছিল। চলতি জানুয়ারিতে যদিও তা কিছুটা অবনতি হয়ে ২৯তম হয়েছে। এই অবস্থানের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সরকারের উদ্যোগগুলো কতটা প্রভাবিত করছে। সেই বিচারে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। তবে প্রণোদনার সুবিধা বেশি পেয়েছে সংগঠিত গোষ্ঠী। বিশেষ করে রপ্তানি খাত। এ খাতের উদ্যোক্তাদের পক্ষে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে সহজে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। তুলনামূলকভাবে অনানুষ্ঠানিক খাতের মাঝারি, ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান তা ঠিকভাবে পায়নি। পর্যটন খাতে প্রণোদনা পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়েছে। দুস্থদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি এই নীতি সুবিধা কার প্রয়োজন সেটি চিহ্নিত করার কাজটিও ঠিকভাবে হয়নি। প্রণোদনা প্যাকেজগুলোতে গৃহহীনদের গৃহনির্মাণ, ফার্ম মেকানাইজেশনের মতো এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাকে করোনার প্রভাব মোকাবিলার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো কঠিন।

ইআরএফ সভাপতি শারমীন রিনভীর সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সেরাজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও র‌্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক এম আবু ইউসূফ, ইউএনডিপি কান্ট্রি ইকোনমিস্ট ড. নাজনীন আহমেদ প্রমুখ। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম।