ভারত থেকে আনা করোনাভাইরাসের টিকায় এখন পর্যন্ত ১১৬ কোটি টাকা মুনাফা করেছে দেশের বেসরকারি খাতের ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। ২০২১ সালে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে আনা দেড় কোটি ডোজ টিকা সরকারকে সরবরাহ করে এমন মুনাফা পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বেক্সিমকো ফার্মার নিরীক্ষিত ও অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে। টিকা থেকে প্রাপ্ত আয় বেক্সিমকো ফার্মার মুনাফাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে দুই ধাপে আনা ৭০ লাখ টিকায় বেক্সিমকো ফার্মার মুনাফা হয়েছে ৫৪ কোটি ২২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। আর গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আনা ৮০ লাখ টিকায় কোম্পানিটির মুনাফা হয় ৬১ কোটি ৯২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে দেড় কোটি ডোজের করোনার টিকায় বেক্সিমকো ফার্মার মুনাফা হয় ১১৬ কোটি ১৫ লাখ টাকারও বেশি। প্রতি টিকায় গড়ে মুনাফা হয়েছে প্রায় ৭৭ টাকা ৫০ পয়সা।
২০২০ সালে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে তৈরি করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন বাংলাদেশে সরবরাহ করছে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট টিকাটি উৎপাদন করছে এবং ভারতীয় এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই বেক্সিমকো ফার্মা একটি চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে মোট তিন কোটি টিকা বাংলাদেশকে দেওয়ার কথা সেরামের।
বাংলাদেশের ওই টিকার সংরক্ষণ ও সরবরাহসহ আনুষঙ্গিক দায়িত্ব পালন করছে বেক্সিমকো। তিন কোটি ডোজ টিকার মধ্যে গত বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ৭০ লাখ টিকা বেক্সিমকো ফার্মাকে সরবরাহ করে সেরাম, যা বাংলাদেশ সরকারকে সরবরাহ করে বেক্সিমকো ফার্মা। ছয় মাসের মধ্যে তিন কোটি ডোজ টিকা আনার কথা থাকলেও পরে ভারত থেকে করোনার টিকা আসা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে তিন ধাপে আরও ৮০ লাখ টিকা সরবরাহ করে সেরাম।
করোনায় বিশে^র ব্যবসা-বাণিজ্য সংকুচিত হলেও ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায় উল্লম্ফন দেখা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় বেক্সিমকো ফার্মাও করোনাকালীন ভালো ব্যবসা করেছে। শুধু করোনা টিকা আমদানি নয়, করোনার অন্যান্য ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। ২০২০-২১ হিসাব বছরে কোম্পানির টার্নওভার দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা, যা আগের হিসাব বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। এ সময় করোনার টিকা সরবরাহ করে যে মুনাফা হয়েছে, তা কোম্পানির করপূর্ব মুনাফার সাড়ে ৮ শতাংশ। সর্বশেষ হিসাব বছরে বেক্সিমকো ফার্মার নিট মুনাফা হয়েছে ৫১৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
আগের হিসাব বছরের ধাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ হিসাব বছরেও বেক্সিমকো ফার্মা ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছে, যেখানে করোনার টিকা আমদানিতে যে মুনাফা হয়েছে তাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর,২১) সমন্বিত টার্নওভার দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৩৯৪ কোটি টাকা। এ সময় অন্যান্য আয় হয়েছে ৮০ কোটি ১৯ লাখ টাকা, যার মধ্যে সেরাম থেকে আনা করোনার টিকা সরবরাহ করে মুনাফা হয়েছে ৬১ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এ সময় করপূর্ব মুনাফা হয়েছে ৪০৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যার ১৫ শতাংশের বেশি এসেছে করোনার টিকা থেকে প্রাপ্ত মুনাফা। চলতি অর্ধবার্ষিকে বেক্সিমকো ফার্মার নিট মুনাফা হয়েছে ৩১৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।