২০২২-এর প্রথম দেশি ওয়েব ফিল্ম ‘টান’। ছবিটির ফার্স্ট লুক, টিজার ও ট্রেইলার দেখেই দর্শক মুগ্ধতার কথা জানান। কিন্তু সম্প্রতি ওটিটিতে মুক্তির পর যে সাড়া পাচ্ছেন তা নাকি ছবি সংশ্লিষ্ট কেউ আশাই করেননি! ছবির কারিগর নির্মাতা রায়হান রাফি বললেন, ‘ভয়ংকর সাড়া পাচ্ছি দর্শকের। প্ল্যাটফর্ম চরকি থেকে জানতে পারলাম, প্রচুর মানুষ ছবিটি দেখছে। আমাদের দেশের ছবি নিয়ে এ ধরনের উন্মাদনা ভীষণ আনন্দ দেয়। দর্শকের জন্যই তো কাজ করতে এসেছি।’ ছবির নায়িকা বুবলী নাকি অনবরত এসএমএস আর কলের জন্য একপর্যায়ে ফোন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। হবেনই বা না কেন? যে নায়িকাকে দর্শক এতদিন শুধু গ্ল্যামার গার্ল হিসেবেই আবিষ্কার করেছেন, তিনি এবার হিজাব পরে নো মেকাপ লুকে হাজির! আর চিত্রনায়ক সিয়াম? তিনি তো প্রতিটি ছবিতেই ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেন। কখনো চেষ্টার ফল মোটামুটি হয়, কখনো আবার অন্যরকম কিছু হয়। ‘মৃধা বনাম মৃধা’য় শহরের অভিজাত পরিবারের আধুনিক ছেলের চরিত্রের খোলশ ভাঙতে না ভাঙতেই তিনি হাজির নেশাগ্রস্ত এক ছেলের চরিত্রে। সিয়াম বলেন, ‘অন্য পেশায় যাওয়ার সুযোগ থাকলেও অভিনেতা হয়েছি। এক জীবনে এত জীবনযাপনের সুযোগ আর কোথায় আছে?’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু দর্শকই যে একজন অভিনেতাকে ভিন্ন ভিন্নরূপে দেখতে পছন্দ করে না নয়। অভিনেতা হিসেবে নিজেরও এক ধরনের মোটিভেশনের দরকার হয়। তাই আমি চ্যালেঞ্জিং চরিত্র পেলেই লুফে নিই। চেষ্টা করি চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে। এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আমাদের সবার চেষ্টা সার্থক হয়েছে। দর্শক দারুণভাবে আমাদের নতুন প্রয়াস গ্রহণ করেছেন।’
নির্মাতার মুন্সিয়ানার কথাও বললেন হিরো, ‘রায়হান রাফি আর আমার সিনেমার পথচলা একসঙ্গে। পরস্পরের প্রতি শুরু থেকেই এক ধরনের ট্রাস্ট ফ্যাক্টর তৈরি হয়। সে জানে আমি কী কী করতে পারি। তাই নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ করে দেয়। আর আমিও জানি, সে যে দৃশ্যকল্প দেখতে পায় গল্প লেখার পর, সেটি পর্দায় কতখানি জীবন্ত হয়ে আসতে পারে।’
রায়হান রাফির মুখেও একই কথা, ‘নির্দেশক হিসেবে একজন অভিনেতার কাছ থেকে যে ধরনের ডেডিকেশন আশা করা যায়, সিয়াম তার সবটাই পূরণ করতে শতভাগ আন্তরিক থাকে। তাই তার সঙ্গে কাজ করতে এত কমফোর্টেবল ফিল করি।’
কিন্তু বুবলীকে কেন এমন একটি রিয়েলিস্টিক চরিত্রে ভাবলেন? জানতে চাইলে নির্মাতা বলেন, ‘ অনেকেই আমাকে এই প্রশ্ন করেছেন। আসলে আমি বুবলীর আগের কাজের বিচারে তাকে কাস্টিং করিনি। তারসঙ্গে একাধিক বার দেখা হয়েছে, ভাবনা আদান প্রদান করেছি। তাতে মনে হয়েছে, সেও মেধাবী। কিন্তু যোগ্য চরিত্র বা পরিচালক পাচ্ছে না বলে মেধাকে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারছে না। তাই তাকেই কাজটি করার কথা ভাবি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে মাছটি ভাজা, সেটি তো এমনিতেই খাওয়া যায়। তাকে আবার নতুন করে ভাজার দরকার দেখি না। তেমনি যে শিল্পী নানামাত্রিক চরিত্রে এরইমধ্যে দারুণ অভিনয় করেছেন তাকে নিয়ে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার কিছু নেই। বরং সেই শিল্পীকে নিয়ে চ্যালেঞ্জ নিতে চাই, যাকে একেবারে নতুনভাবে দর্শকের সামনে প্রেজেন্ট করতে পারব। এই যে বুবলীকে দিয়ে এমন নিম্নবিত্ত সংসারী মেয়ের চরিত্র করিয়েছি, এতে তিনি সফল হয়েছেন বলেই তার কাছে এরইমধ্যে অনেকগুলো ভিন্ন ধারার গল্পের সিনেমার স্ক্রিপ্ট এসেছে। একই জিনিস হয়েছে তমা মির্জার ক্ষেত্রে। তার মেধাকেও সেভাবে কোনো নির্মাতা কাজে লাগাননি। খাঁচার ভেতর অচিন পাখি ওয়েব ফিল্মটি দেখার পর অনেক নির্মাতা তাকে নিয়েও ভাবছেন। আমিও তাকে নিয়ে এ মাসেই ‘জানোয়ার ২’ ওয়েব ফিল্মটির কাজ শুরু করছি।’
‘টান’-এ সিয়াম-বুবলী ছাড়াও সোহেল মন্ডল, নীলাঞ্জনা নীলা ও ফারজানা ছবির অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছে।