ফেনসিডিল প্রশ্নে হাইকোর্টের রায় আপিলে বাতিল

‘ফেনসিডিল বহন এবং সংরক্ষণ বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়’ প্রায় ১৯ বছর আগে হাইকোর্টের দেওয়া এমন রায় বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে ২৫০ বোতল ফেনসিডিল বহনের মামলায় বিচারিক আদালতে আসামি বাদল পালের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ থেকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের রায়ও বাতিল করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

গতকাল মঙ্গলবার বাদল পালের খালাসের রায় বাতিল চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল গ্রহণ করে এ রায় দেয় প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ। রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের ওপর গত ১৯ জানুয়ারি শুনানি শেষ হয়। ওইদিন আদালত রায়ের জন্য গতকালের দিন ধার্য করে।

আইনজীবীরা বলছেন, এ রায়ের ফলে ফেনসিডিল এখন মাদক হিসেবে গণ্য হবে। এটি বহন ও সংরক্ষণ করা বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিবেচিত হবে।

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের ৫ নভেম্বর যশোরের বেনাপোলে ২৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার হন বাদল পাল। ২০০০ সালের ১৩ নভেম্বর বিচারিক আদালতে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৯১ ধারায় তার যাবজ্জীবন হয়। পরে সাজা থেকে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন বাদল।

শুনানি শেষে ২০০৩ সালের ১২ মার্চ হাইকোর্ট এক রায়ে বাদলকে খালাস দেয়। রায়ে বলা হয়, ফেনসিডিলে ‘ক্লোরোফেনারমিন’ ও ‘কোডিন ফসফেট’ নামে দুটি উপাদান রয়েছে এবং এগুলো কাশির সিরাপ হিসেবে ব্যবহার হয়। ফলে ১৯৯০ সালের আইন অনুযায়ী ফেনসিডিল বহন এবং সংরক্ষণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ ও বেআইনি হবে না। রায়ে আরও বলা হয়, ফেনসিডিল যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সেটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসতে হবে। আইনি প্রক্রিয়া ব্যতীত কোনো নাগরিককে ফেনসিডিল বহনের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি কিংবা হয়রানি করা যাবে না।

পরে রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে। এরই ধারাবাহিকতায় মামলাটি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় এলে শুনানি শেষে গতকাল রায় হলো।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ফেনসিডিলের উপাদান কোডিন ও ফসফেট আফিম থেকে উদ্ভূত এবং এ দুটি উপাদান আইনে নিষিদ্ধ। ফেনসিডিলকে মাদক হিসেবে ব্যবহারের জন্য উৎপাদক চক্র শিউডোএফিড্রিন নামে আরেকটি নেশাদ্রব্য মেশানো শুরু করে। দেশের বিদ্যমান ওষুধ নীতিমালায় বলা হয়েছে, এ উপাদান ব্যবহার হবে থেরাপিউটিক্স (রোগ উপশম কিংবা নিরাময়) হিসেবে এবং এ জাতীয় ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শে রোগীর কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে।

তবে অতিরিক্ত ব্যবহার মাদক হিসেবে গৃহীত হবে এবং এটি মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। এসব ড্রাগ অতিমাত্রায় ব্যবহার করলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, সিজোফ্রেনিয়ার মতো রোগে যুবসমাজ মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসব যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের ওই রায় বাতিল করে আসামির যাবজ্জীবন বহাল রাখে। এ রায়ের ফলে ফেনসিডিল বহন ও সংরক্ষণ বেআইনি নয় বলে হাইকোর্টের রায় বাতিল হয়ে গেল। তবে পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে বলে জানান বিশ্বজিত।