চাউল ব্যবসায়ী সেজে ‘ক্লুলেস’ খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটন

চাউল ব্যবসায়ী সেজে একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাক চালকের হাতে হেলপার খুন; পরে মহাসড়কের পাশে লাশ ফেলে রাখার ঘটনার ১৩ দিন পর মূল আসামিকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

তিন দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার ব্যক্তি।

জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (খ অঞ্চল) শেখ বিল্লাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, ১৬ জানুয়ারি দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার জাঙ্গাল গ্রাম থেকে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্বে একটি মৃতদেহ পড়ে আছে। সংবাদের প্রেক্ষিতে বন্দর থানার এসআই ফয়সাল আলম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। স্থানীয় লোকজন মৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে মৃতের পকেটে থাকা একটি মোবাইল ফোন পেয়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

নিহত ব্যক্তির নাম মো. আকাশ (২১), তিনি কুমিল্লার কোতয়ালী থানার সুজানগরের মোতালেব মিয়ার ছেলে এবং খণ্ডকালীন ট্রাকের হেলপার।

সহকারী পুলিশ সুপার আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে অভিযোগ দেন। বন্দর থানা-পুলিশ অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। ঘটনাটি ট্রাক ড্রাইভার/হেলপার সংক্রান্ত কোনো বিষয় হবে বলে অনুমান ছিল পুলিশের। কিন্তু ঘটনার আগে পরে কোন গাড়িতে বা কোন ড্রাইভারের সঙ্গে ভিকটিম এসেছিল, তা জানা সম্ভব হচ্ছিল না। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা ট্রাক ড্রাইভারকে শনাক্ত করি। কিন্তু সে পূর্বের ঠিকানায় না থাকায় এবং খণ্ডকালীন ড্রাইভার হওয়ায় কেউ তার সম্পর্কে তেমন নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারছিল না। শুধু সন্দেহভাজন ট্রাক ড্রাইভারের নাম এবং পেশা জানা ছিল। পরবর্তীতে ঢাকার জুরাইনের এক চাউলের আড়তদারের সঙ্গে কথা বলে চাউলের ব্যবসায়ী সেজে টার্গেট ড্রাইভারের সঙ্গে ট্রাক ভাড়া নেয়ার বিষয়ে কথা বললে ড্রাইভার পুলিশের ফাঁদে পা দেয়।

২৯ জানুয়ারি কুমিল্লার বুড়িচংয়ের ড্রাইভার আরিফুর রহমান টিপু (৩০) চাউল নিয়ে জুরাইনে আসলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে তিনি স্বীকার করেন আকাশ তার হেলপার ছিল। কিন্তু হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত অসংলগ্ন তথ্য দিতে থাকেন। পরবর্তীতে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

অভিযুক্ত আরিফুর রহমান টিপু স্বীকার করে বলেন, ‘গত ১৩ জানুয়ারি রাতে আকাশ মাদক গ্রহণ করে ট্রাকে পুরাতন বই ও কাগজ নিয়ে ঢাকার মাতুয়াইলের উদ্দেশ্য কুমিল্লা থেকে রওনা হয়। ১৪ জানুয়ারি শুক্রবার ভোরে সিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ডে পৌঁছে দুজন একসঙ্গে ট্রাকের মধ্যে ঘুমায়। পরবর্তীতে পার্টি মাল আনলোড করার জন্য ফোন দিলে আসামি টিপু ঘুম থেকে ওঠে ভিকটিমকে ডাকে, আকাশ ঘুম থেকে উঠতে পারবে না বলে জানায়। আসামি রেগে গিয়ে আকাশকে গালি দেয়। প্রতি উত্তরে আকাশও গালি দিলে টিপু আকাশকে ট্রাকের সিটের সঙ্গে গলা চেপে ধরে হত্যা করে। হত্যার পর মৃতদেহ সিটের পেছনে ঘুমানোর জায়গায় শুইয়ে রেখে মাতুয়াইল গিয়ে মাল আনলোড করে। তারপর জুম্মার নামাজের পূর্বে সুযোগ বুঝে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বন্দরের জাঙ্গাল এলাকায় মৃতদেহ ফেলে দিয়ে চলে যায়।

মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে আরিফুর রহমান টিপু। হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত ট্রাক উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বন্দর থানার এসআই ফয়সাল বলেন, সড়কের পাশে মিলেছে লাশ। অজ্ঞাত ছিল স্থানীয়দের কাছে, পাওয়া যাচ্ছিল না পরিচয়ও। এটি একটি ‘ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড’। তারপরেও হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৩ দিনের মাথায় খুনি শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।