পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে দ্বন্দ্ব

পুলিশের সামনে কুষ্টিয়ায় প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটা

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে বারখাদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনছার আলীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। এক পর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে জুতা ও ঝাড়ু দিয়ে মারধর করা হয়।

গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বারখাদা মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রধান শিক্ষক আনছার আলী বিদ্যালয়ের অর্থ লুটপাট করছেন। স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছেন। তবে প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, আমার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মূলত বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষের দ্বন্দ্বের বলি করা হয়েছে আমাকে। রাজনৈতিক চাপে গোপনে বর্তমান কমিটি করতে বাধ্য হয়েছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

আন্দোলনকারী, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ঝাড়ু, লাল কার্ড এবং ব্যানার নিয়ে বিদ্যালয়ের গেটে অবস্থান নেন। বেলা ১১টার দিকে পুলিশের গাড়িতে করে বিদ্যালয়ে আসেন প্রধান শিক্ষক আনছার আলী। তাকে দেখে আন্দোলনকারীরা এই প্রধান শিক্ষক চাই না বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা পুলিশ পাহারায় থাকা প্রধান শিক্ষকের ওপর চড়াও হন। তারা জুতা ও ঝাড়ু ছুড়ে মারেন। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ প্রধান শিক্ষককে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে তার কক্ষে নিয়ে যান।

অভিভাবক মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে শিক্ষার নামে ব্যবসা চালাচ্ছেন। কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়ালে, তার থেকে টাকা নেন। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে করোনাকালে সেশন ফি, অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি আদায় করেছেন। টাকা দিতে না পারলে তাকে পরীক্ষায় ফেল করানো হয়। আবার অনেকের সন্তানকে পাস করানোর শর্তে এক হাজার করে টাকা নিয়েছেন তিনি।’

আরেক অভিভাবক বলেন, আমি দীর্ঘদিন অসুস্থ। ওষুধ কেনারই টাকা নেই। এরপরও স্কুলে এসে ছয় মাসের বেতন পরিশোধ করে বাকি টাকা কিছুদিন পরে দিতে চাই। কিন্তু প্রধান শিক্ষক পরীক্ষার দিন আমার মেয়েকে বের করে দেন।

স্থানীয় ১৩ নম্বর পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান পাখি বলেন, ‘জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন ঘিরে ১০টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করেন প্রধান শিক্ষক। ১০ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও তিনি লাপাত্তা হয়ে যান। কয়েক দিন পর তিনি পছন্দের লোক দিয়ে পকেট কমিটি করেন। পড়ালেখা না-জানা ওই কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের স্বার্থবিরোধী নানা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ায় আজ ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে।’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, এখানে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তোজাম্মেল হক ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সমর্থকদের সঙ্গে স্থানীয় পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান পাখি ও মুন্না মাজহারের লোকদের দীর্ঘদিন দ্বন্দ্ব চলে আসছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ নিয়ে দুপক্ষের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। ওই ঘটনার বলির পাঁঠা হলেন প্রধান শিক্ষক।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তোজাম্মেল হকের মোবাইল নম্বরে কল দিলেও রিসিভ হয়নি।

কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) নিশিকান্ত সরকার জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের বিক্ষোভের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পুলিশের উপস্থিতিতে শিক্ষককে লাঞ্ছনার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।