একাত্তরের গণহত্যা

এবার জেনোসাইড ওয়াচের স্বীকৃতি

একাত্তরে বাংলাদেশিদের ওপর পাকিস্তানিদের নির্মম হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ‘জেনোসাইড ওয়াচ’। বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের ওই বর্বরতার ৫০ বছর পূর্তিতে আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের ওয়েবসাইটে এই ঘোষণা দেয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

জেনোসাইড ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জর্জ এইচ স্ট্যানটন স্বাক্ষরিত ওই ঘোষণাপত্রে পাকিস্তানিদের শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলাদেশের মানুষের মুক্তিসংগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়, জেনোসাইড ওয়াচ এই স্বীকৃতি দিচ্ছে যে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় বাঙালিদের ওপর যেসব অপরাধ করেছে, তার মধ্যে ছিল ‘গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ’।

সংস্থাটি ওইসব ঘটনাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকার করে নিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাসের আহ্বানও জানিয়েছে।

পাশাপাশি সেই জেনোসাইডে নেতৃত্বদাতাদের মধ্যে যারা এখনো জীবিত, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ৫০ বছর আগের সেসব ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বানও এসেছে সেখানে।

শহীদ সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনের ছেলে তৌহিদ রেজা নূর এই স্বীকৃতির জন্য গত বছরের ডিসেম্বরে জেনোসাইড ওয়াচের কাছে আবেদন করেছিলেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এ স্বীকৃতি এলো।

তৌহিদ রেজা নূর এই স্বীকৃতির প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত জেনোসাইডের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমাদের জাতির জন্য একটি বড় অর্জন। এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত।’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে একাত্তরের পাকিস্তানিদের হত্যাযজ্ঞ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পথযাত্রায় আরেক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা আসলে হুট করে এ ধরনের স্বীকৃতি দেয় না, অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর তারা এই বড় সিদ্ধান্তটি নিয়েছে। এজন্য নিয়মিত সংস্থাটি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, তাদের নানা ধরনের ম্যাটেরিয়াল, ডকুমেন্ট দিতে হয়েছে। দেশের এ ধরনের স্বীকৃতি অনেক আনন্দের।’

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সেই বর্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের স্মরণে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব ২০১৭ সালে জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়। তখন থেকেই এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

চলতি বছরের প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ‘লেমকিন ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন’ একাত্তরে বাংলাদেশিদের ওপর পাকিস্তানিদের নির্মম হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।