করোনার কারণে দেশে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নিষেধ করা হয়েছে জনসমাগম। কিন্তু লক্ষ্মীপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের উপচেপড়া ভিড়।
জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, করোনায় গত জানুয়ারিতে জেলায় আক্রান্ত হয় ৫০৩ জন আর ফেব্রুয়ারির এ কদিন ১১০ জন। জেলায় এখন শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে ২১ আর সর্বমোট ৮ হাজার ৯২২ জন।
এদিকে প্রতিদিন বিকেলে ও ছুটির দিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়। কয়েক দিন ধরে জেলায় সাতটি বিনোদন স্পট শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় ছিল টইট¤ু^র। সেই সঙ্গে বাড়ছে সাধারণ মানুষেরও ভিড়। অনেকেই বলছেন, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় এ সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে।
জেলা শহরের শিশুপার্কে দিনের বেলাতেই আগমন ঘটে ব্যাপক। এছাড়া শুক্র ও শনিবার বিকেলে জেলার দালাল বাজার জমিদারবাড়ি, খোয়া সাগরদীঘি, উত্তর চরবংশী গোলগোলার চরআলতাফ মাস্টারের মাছঘাট, সর্দার বিনোদন কেন্দ্র, আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধসহ সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক। সামাজিক দূরত্ব না মেনেই গাদাগাদি করে বসে আড্ডা দিতে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের। যেখানে ছিল শিক্ষার্থীদের উপচেপড়া ভিড়।
গতকাল বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী গোলগোলার চরআলতাফ মাস্টার মাছঘাটে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিভাবকরা তাদের স্কুলপড়–য়া ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন।
ঘুরতে আসা অভিভাবক সোহেলী রানী জানান, স্কুল বন্ধ, ছেলেমেয়েদের ঘরে রাখা কষ্টকর হচ্ছে, তাই তাদের অনুরোধে ঘুরতে আসা। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিউলী বেগম জানায়, ঘরে থাকতে ভালো লাগছিল না। এ সময়টা বিদ্যালয়ে পাঠদানের সময়। স্কুল বন্ধ থাকায় সহপাঠীকে নিয়ে ঘুরতে এসেছে বিনোদন কেন্দ্রে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শামছুদ্দিন জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরছে। আনন্দ বিনোদনের চেয়ে জীবন বড়। সবার উচিত হবে করোনার বিধিনিষেধ মেনে চলা।
লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. আহাম্মদ কবীর বলেন, বিনোদন কেন্দ্রে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অবাধ উপস্থিতি দুঃখজনক। কিছুদিনের জন্য বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা হলে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে পারে।