সাতক্ষীরায় প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত অঞ্চলে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করেন দেশে-বিদেশে খ্যাতনামা স্থপতি কাশেফ চৌধুরী। উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও প্রাণ-প্রকৃতি বিবেচনা করে হাসপাতাল ভবনের নকশা করেছেন। সম্প্রতি তার নির্মিত ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল জিতে নিয়েছে আন্তর্জাতিক পুরস্কার। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল নামে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্মিত এক হাসপাতাল সম্প্রতি তার স্থাপত্যশৈলীর জন্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করে। হাসপাতাল ভবনের যুগোপযোগী নকশার জন্য গত মাসের শেষে যুক্তরাজ্যভিত্তিক রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা) ২০২১ সালের বিশ্বসেরা নতুন ভবনের পুরস্কার পান নামকরা স্থপতি কাশেফ মাহাবুব চৌধুরী। গত বছরের শেষ নাগাদ রিবা পুরস্কারের জন্য ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, জার্মানির একটি আর্ট গ্যালারি ও ডেনমার্কের যানবাহনমুক্ত এক সেতু এই তিন নতুন স্থাপনাকে শর্টলিস্ট করা হয়। প্রতিযোগিতায় জার্মান ও ড্যানিশ স্থপতিদের টপকিয়ে প্রথম হয় কাশেফ চৌধুরী নির্মিত ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল। এই হাসপাতাল নকশায় সুরক্ষা ও মানবতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হন কাশেফ চৌধুরী।
উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবার লক্ষ্য নিয়ে সাতক্ষীরায় একটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা করে স্থানীয় এনজিও ফ্রেন্ডশিপ। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে হাসপাতালটির নকশা করেন কাশেফ চৌধুরী। অল্প খরচে দেশীয় উপকরণ দিয়ে নির্মিত হয় এই হাসপাতাল। রিবা পুরস্কার জয়ের খবরে উচ্ছ্বসিত কাশেফ চৌধুরী জুরির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘স্বল্প সম্পদের ওপর নির্ভর করে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। বিশ্বের সেরা নতুন ভবনের স্বীকৃতি পেয়েছে এই হাসপাতাল। বৈশ্বিক এই স্বীকৃতি প্রাণ-প্রকৃতির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আরও ভবন নকশায় আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
কাশেফ চৌধুরীর রিবা পুরস্কার জয় নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের স্থাপত্য জগতে স্মরণীয় ঘটনা। প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য কম বাজেটের ঘরের নকশা করে সম্প্রতি প্রশংসা কুড়ান বাংলাদেশের আরেক স্থপতি ও কাশেফ চৌধুরীর সাবেক সহকর্মী মেরিনা তাবাস্সুম। স্থাপত্য শিল্পে ওই অবদানের জন্য গত বছর তাকে আন্তর্জাতিক পুরস্কার সোন মেডেল দেওয়া হয়। কম সম্পদ দিয়ে মানুষের কল্যাণ সম্ভব নিজেদের সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এই বার্তা বিশ্বকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন মেধাবী মেরিনা তাবাস্সুম ও কাশেফ চৌধুরী।
হাসপাতালের নকশা
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়-প্রবণ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় ৪ হাজার ৭৭৭ বর্গমিটার এলাকায় ৮০ শয্যার ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের নকশা করেন ঢাকাভিত্তিক স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান আরবানা ও এর পরিচালক কাশেফ চৌধুরী। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ওই অঞ্চল। ২০১৪ সালে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০১৮ সালে। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু হয়। হাসপাতাল ভবনের নকশা গতানুগতিক নয়, একটু ভিন্ন। উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় রেখে ভবন প্রাঙ্গণে পানি চলাচলের জন্য খাল খনন করা হয়। ভবনের অভিনব নির্মাণশৈলী নজর কাড়ে বিশ্বের নামকরা স্থপতিদের। আঁকাবাঁকাভাবে নকশা করা খালে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমা হয়। গ্রীষ্মের সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণ খালের পানির কারণে শীতল থাকে। কৌণিক আকৃতির এই খাল কোনো দেয়াল ছাড়াই হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগের রোগীদের আলাদা করেছে। এ ছাড়া হাসপাতালের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে ভবনের অভ্যন্তরে আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে এবং হাঁটাচলার পথে পর্যাপ্ত ছায়া পড়ে। ভবনের ভেতরে কয়েকটি উন্মুক্ত উঠানও রয়েছে। ভবনের গায়ে রয়েছে সাতশোটির মতো জানালা। কাশেফ চৌধুরীর ভিন্ন ধাঁচের পরিকল্পনা হাসপাতালের বাইরে চারদিকের উপকূলীয় গ্রামাঞ্চলের সঙ্গে পানি, গাছগাছালি পরিবেষ্টিত ও ছায়াঘেরা হাসপাতালের ভেতরের নকশার এক ধরনের সেতু নির্মাণ করেছে। হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করলে নিজেকে প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করার সুযোগ নেই। পরিবেশবান্ধব এই হাসপাতাল নির্মাণের সময় ব্যবহার করা হয় স্থানীয়ভাবে তৈরি ইট। পর্যাপ্ত জায়গা নিয়ে বেশ কয়েকটি ব্লকে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালকে ভাগ করা হয়। জরুরি সেবা দিতে ইমারজেন্সি ওয়ার্ডের পাশাপাশি রয়েছে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, অডিটরিয়াম, কনভেনশন সেন্টার, ক্যান্টিন ও প্রার্থনাকক্ষ। রয়েছে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও। ওষুধ কিনতে রোগীদের দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই রয়েছে ফার্মেসি। স্থানীয়রা ১০০ টাকায় পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ।
হাসপাতালের দর্শনার্থী, রোগী ও চিকিৎসকদের কথা মাথায় রেখে মনোরম ও খোলামেলা পরিবেশ সৃষ্টির জন্য স্থপতি কাশেফ চৌধুরীর ভূয়সী প্রশংসা করে রিবা। স্থপতিদের ভাষ্য, হাসপাতাল ভবনটি টেকসই নকশার ওপর নির্মিত। উঠানগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে অবাধে বাতাস প্রবেশ করতে পারে। অপারেশন থিয়েটার বা সন্তান প্রসবের কক্ষ ছাড়া অন্য কক্ষে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই। দিনের বেলায় কৃত্রিম আলো ব্যবহারেরও দরকার পড়ে না। এ ছাড়া পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও বেশ উন্নত। বৃষ্টির পানি চারদিকের খাল থেকে ট্যাঙ্কে জমা হয় যা পরে নানা কাজে ব্যবহার করা যায়। এতে জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হয় না।
রিবা পুরস্কার
নজরকাড়া নকশাশৈলী ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নির্মিত ভবনকে প্রতি দুই বছর পরপর রিবা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এবারের প্রতিযোগিতায় ১১টি দেশের ১৬টি স্থাপনা অংশ নেয়। এগুলোর মধ্যে তিনটিকে শর্টলিস্ট করা হয়। কাশেফ চৌধুরীর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল ছিল ইউরোপের বাইরে শর্টলিস্ট হওয়া একমাত্র স্থাপনা। জার্মানির বার্লিন শহরে স্থপতি ডেভিড চিপারফিল্ডের নকশায় নির্মিত আর্ট গ্যালারি জেমস সাইমন গ্যালারি ও ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে স্থপতি উইলকিনসন ইয়ার নির্মিত ৫২৫ ফুট দীর্ঘ যানবাহন মুক্ত সেতু লিলে ল্যাঞ্জেব্রো শর্টলিস্টে ছিল।
এ বছর জয়ী স্থপতির নাম ঘোষণার সময় রিবার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলায় নির্মিত হাসপাতাল এলাকায় একসময় কৃষিকাজ হতো। সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় এখন সেখানে চিংড়ি চাষ হয়। দুর্যোগকবলিত অঞ্চলটিতে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর মতো একটি হাসপাতাল দক্ষতার সঙ্গে নির্মাণ করা হয়েছে।’
রিবা পুরস্কারের জুরি বোর্ডে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার নামকরা স্থপতিরা ছিলেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন ফরাসি স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাকারী ওডিল ডেক। তিনি বলেন, ‘অসম স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, অরক্ষিত জনগোষ্ঠীর ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের উদ্বেগজনক প্রভাবসহ আরও সংকটপূর্ণ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রশ্নে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের নকশা বেশ প্রাসঙ্গিক। এই হাসপাতাল দেখিয়েছে কীভাবে কম বাজেট ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে জনকল্যাণকর নকশার মাধ্যমে সুন্দর স্থাপত্য নির্মাণ সম্ভব।’ ২০১৮ সালে বিশ্বের সেরা নতুন ভবনের পুরস্কার পেয়েছিল ব্রাজিলের গ্রামাঞ্চলের একটি স্কুল। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ২০২০ সালে এই পুরস্কার প্রদান স্থগিত ছিল।
ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল সম্পর্কে স্থপতি কাশেফ চৌধুরী বলেন, ‘সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় চারদিকে কেবল পানি আর পানি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগরের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার চাষাবাদের জমি এখন চিংড়ির ঘেরে পরিণত হয়েছে। আবার ভূগর্ভস্থ পানিও অনেক লবণাক্ত হয়ে পড়ায় বেশির ভাগ কাজে তা ব্যবহার করা যায় না। চারপাশে প্রচুর পানি থাকলেও কাজে লাগার মতো পানির ব্যবস্থা ওই অঞ্চলে নেই।’ সুপেয় পানির সংকটে থাকা স্থানীয়রা তাই বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির শেষ বিন্দু পাত্রে জমা করে রাখেন। তাদের পানিসংকট বিবেচনায় নিয়ে কাশেফ চৌধুরী এমনভাবে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের নকশা করেন যাতে সেখানে বৃষ্টির পানি সর্বোচ্চ সংগ্রহ করা যায়। বর্ষা মৌসুমে হাসপাতালের প্রতিটি ভবনের ছাদ ও উঠানে পড়া বৃষ্টির পানি খালে এসে জমা হয়। খাল থেকে সেসব পানি পরে হাসপাতালের দুই দিকে রাখা বড় দুটি স্টোরেজ ট্যাঙ্কে জমা হয়।
এ বছর পুরস্কার ঘোষণার সময় রিবার প্রেসিডেন্ট অ্যালান জোনস বলেন, ‘প্রাণ ও সম্প্রদায়ের উন্নয়নে সুপরিকল্পিত ও বিবেচনাপ্রসূত স্থাপত্য অপরিসীম অবদান রাখতে পারে। এ ধরনের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত স্থাপনাসমূহকে আমরা বৈশ্বিক পর্যায়ে স্বীকৃতি দিই। এ সময়ের সবচেয়ে মেধাবী স্থপতিদের নকশায় নির্মিত বিশ্বের সবচেয়ে সৃজনশীল, প্রতিভাসম্পন্ন ও প্রভাবশালী স্থাপত্যের কয়েকটিকে পুরস্কৃত করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত।’
রিবা আন্তর্জাতিক উদীয়মান স্থাপত্য ২০২১ সালের পুরস্কার পায় ইরানের স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান হুবা ডিজাইন গ্রুপ। ইরানে কোহান সিরাম সেন্ট্রাল অফিস ভবনের নকশার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ওই পুরস্কার দেওয়া হয়।
ব্যক্তি কাশেফ
১৯৭০ সালে ঢাকায় জন্ম হয় কাশেফ চৌধুরীর। বাবা পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে মধ্যপ্রাচ্যেও থেকেছেন কাশেফ। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ২০০৬ সালে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত স্থপতি গ্লেন মারকাটের ক্লাসে অংশ নেন কাশেফ। স্থপতি উত্তম কুমার সাহার সঙ্গে কয়েক বছর কাজ করার পর তিনি স্থপতি মেরিনা তাবাস্সুমকে নিয়ে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন আরবানা। ২০০৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কাশেফ চৌধুরী আরবানার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি শিক্ষক তিনি। ভারতের আলোচিত সরোদবাদক রাজরূপা চৌধুরী তার সহধর্মিণী। কাশেফ চৌধুরী কেবল স্থপতিই নন, তিনি একজন পেশাদার ফটোগ্রাফারও। এখন পর্যন্ত সাতটি একক আলোকচিত্র প্রদশর্নী হয়েছে তার। এ ছাড়া অ্যারাউন্ড ঢাকা, প্লট নাম্বার ফিফটি সিক্স ও দ্য নাইট অব ফিফটিন নভেম্বর শিরোনামের তিনটি বইয়ের লেখক তিনি। দ্য নাইট অব ফিফটিন নভেম্বর বইয়ে সিডর ঘূর্ণিঝড়ে বেঁচে যাওয়া উপকূলীয় মানুষদের ছবি ও তাদের সংগ্রামের গল্প তুলে ধরেন কাশেফ। কাশেফ চৌধুরীর নানা সৃষ্টির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কেরানীগঞ্জের লাল মসজিদ, গাইবান্ধার ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার, কক্সবাজারের উখিয়া স্কুল, গুলশানের গুলশান সোসাইটি মসজিদ, ইএইচএল প্রিমিয়াম কনডমিনিয়ামস, চট্টগ্রামের চান্দগাঁও মসজিদ। এ ছাড়া মেরিনা তাবাস্সুমের সঙ্গে তিনি যৌথভাবে নকশা করেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ ও স্বাধীনতা জাদুঘর।
ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার
এনজিও ফ্রেন্ডশিপের সঙ্গে কাশেফ চৌধুরীর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। গাইবান্ধায় ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার নামে এনজিওটির একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নকশা করেন তিনি। এটি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মদনেরপাড়া গ্রামে অবস্থিত। ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার পুরোটাই মাটির নিচে অবস্থিত। অর্থাৎ ভবনের ছাদ ভূমি সমতলে। ছাদে লাগানো হয়েছে নানা জাতের ঘাস। সেন্টার থেকে মহাস্থানগড়ের প্রাচীন বৌদ্ধবিহার দেখা যায়। ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে আট বিঘা জমির ওপর নির্মিত ওই প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার ভবনের আয়তন ৩২ হাজার বর্গফুট। ভবনে চলে দাপ্তরিক নানা ধরনের কর্মকাণ্ড। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাশাপাশি রয়েছে অভ্যন্তরীণ খেলাধুলা ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা। এ ছাড়া রয়েছে উন্নত খাবারের ব্যবস্থা। পানি নিষ্কাশনের জন্য রয়েছে পাঁচটি নর্দমা। অনবদ্য স্থাপত্যশৈলীর জন্য ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার ২০১২ সালে এআরপ্লাসডি অ্যাওয়ার্ড পায়। লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর্কিটেক্স রিভিউ এই পুরস্কার দেয়। একই বছর ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের জন্য সম্মানজনক আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার পান কাশেফ চৌধুরী।
গত বছর কাশেফ চৌধুরীর নকশায় নির্মিত কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ স্থাপত্যশৈলীর জন্য বিশ্বে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে। পেয়েছে ইউনেস্কোসহ আন্তর্জাতিক পুরস্কার। স্থানীয়ভাবে এটি লাল মসজিদ হিসেবে বেশি পরিচিত। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর ইউনিয়নে ওই মসজিদ ১৮৬৮ সালে নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে কাশেফ চৌধুরীকে নতুন স্থাপনার নকশা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল নির্মাণের আগে দূরবর্তী অঞ্চলে বসবাসরত মানুষদের চিকিৎসাসেবা দিতে কয়েকটি নৌকাকে ভাসমান হাসপাতাল রূপান্তরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপকে সহায়তা করেন কাশেফ চৌধুরী। ১৭ কোটি টাকায় নির্মিত ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল সাতক্ষীরার হাজার হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম হবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কাশেফ চৌধুরী বলেন, ‘অসুস্থ ব্যক্তিদের শারীরিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। রোগীরা এই হাসপাতালে একই সঙ্গে গাছপালা, পানি, পাখির কলকাকলি, নির্মল বায়ুর স্বাদ পাবেন যা তাদের আরোগ্য লাভে সহায়তা করবে।