কমলগঞ্জ শিক্ষা অফিসের ৭ পদের ৫টি শূন্য

চরম জনবল সংকটে ধুঁকে ধুঁকে চলছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে অফিসের ৭টি পদের মধ্যে ২ জন কর্মরত আছেন। একজন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আর অপরজন হিসাবরক্ষক। অফিসের সকল দাপ্তরিক কাজ হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা একাই সামলাচ্ছেন। এতে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অফিশিয়াল কাজে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পাশাপাশি উপজেলার ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তদারকি ও দাপ্তরিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ২২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬টি মাদ্রাসা ও ৪টি কলেজ রয়েছে। সবক’টি প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন হয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসেই। কিন্তু শিক্ষা অফিসের ৭টি পদের মধ্যে ৫টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।

জানা যায়, উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ২০১৭ সালে বদলি হন। তারপর আর কেউ যোগদান করেননি। এর পরপরই যোগদান করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন্নাহার পারভীন। তখন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার, হিসাবরক্ষক ও অফিস সহায়কসহ ৪ জন দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যান। কিন্তু ২০১৯ সালে অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মৌসুমী পাল প্রেষণে নরসিংদী বদলি হন। অপরদিকে অফিস সহায়ক হুমায়ুন কবীরকে ২০২০ সালে অন্যত্র বদলির কারণে সেই পদটিও শূন্য। বর্তমানে মাত্র দুজন দিয়েই সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে উপজেলার ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঠিক তদারিক কাজ একা করতে পারছেন না উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা। শিক্ষা কর্মকর্তা নানা কারণে ছুটি বা ট্রেনিংয়ে চলে গেলে একাই অফিসের সব কাজ করেন হিসাবরক্ষক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে গেলে সহযোগিতা পাওয়া যায় না। জনবল সংকটের অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। নিয়মিত স্কুল পরিদর্শন করা হয় না। এতে করে নানা দুর্ভোগে পড়তে হয়।’

কমলগঞ্জের আহমদ ইকবাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র বলেন, ‘অফিসে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় প্রতিষ্ঠানের জরুরি কাজ করতে খুবই সমস্যায় পড়তে হয়। সময়মতো কাজ হয় না।’

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের হিসাবরক্ষক কাজল বলেন, ‘আগের চেয়ে শিক্ষা অফিসে কাজকর্ম বেড়েছে। বিজ্ঞান মেলা, ক্রীড়া অনুষ্ঠান, ইউনিক আইডি তৈরি, প্রশিক্ষণ, চিঠিপত্র বিলি, বই বিতরণ, বিল তৈরি, প্রতিষ্ঠানের তথ্যসহ সকল কাজ একার পক্ষে করা সম্ভব হয় না। একদিন অফিসে না এলে কাজ জমে থাকে। খুবই কষ্টের মধ্যে রয়েছি।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন্নাহার পারভীন বলেন, ‘অফিসে জনবল সংকট থাকায় হিসাবরক্ষক দিয়েই অফিস চালাচ্ছি। বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জানালেও জনবল দেওয়া হচ্ছে না।’