মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব) এবং এর সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাতে দৃঢ় সমর্থন দিয়েছেন দেশটির কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ও পররাষ্ট্রবিষয়ক হাউজ কমিটির চেয়ারম্যান গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস।
তিনি বলেছেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইস্যুতে গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিবিলিটি অ্যাক্ট অনুসারে র্যাবের সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের বিষয়ে বাইডেন প্রশাসন যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা আমি দৃঢ়ভাবে সমর্থন করছি।’
গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ওয়েবসাইটে মিকসের এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়।
এর আগে র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়ে গ্রেগরি ডব্লিউ মিকসের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা বাসসের খবরে জানানো হয়, তিনি (মিকস) বলেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছি না। নিষেধাজ্ঞাগুলো একটি সংস্থার কতিপয় ব্যক্তির ওপর আরোপ করা হয়েছে, পুরো সংস্থার ওপর নয়, আমরা সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি।’
নিউ ইয়র্কের কুইন্স এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় তহবিল সংগ্রহের জন্য আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠানে অংশ নেন মিকস। সেখানে তিনি এসব কথা বলেন বলে বাসসের ওই খবরে জানানো হয়। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের আরও কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জোরালোভাবে লবিং চলছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মিকস বলেন, ‘তবে, আমরা তাদের কথা অনুযায়ী কিছু করব না। আর এমনটা সম্ভবও নয়। আমরা সবকিছু ভালোভাবে যাচাই করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’ গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে মিকস আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে নিষেধাজ্ঞা দিলে সেটা বেশি কার্যকর হয়। সম্প্রতি পুরো বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে কথা বলা হচ্ছে সেটা কার্যকর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।’
মিকস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে আমি সহযোগিতা করে যাব।’ বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জের বিষয়টি তুলে ধরতে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। এ ছাড়া বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, তা নিশ্চিত করতেও কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রবিষয়ক হাউজ কমিটির চেয়ারম্যান মিকস।
ডেমোক্রেটিক পার্টির এই নেতা ১৯৯৮ সালে নিউইয়র্ক থেকে প্রথম প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২১ সাল থেকে পররাষ্ট্র বিষয়ক হাউজ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হওয়ার আগে ১৯৯২ সালে তিনি নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন।