আচরণবিধি না মানায় চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণ আক্তারকে সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী ঘোষণা করেছে আপিল বোর্ড। তবে আপিল বোর্ডের এ রায় দেওয়ার ক্ষমতা নেই বলে জানিয়েছেন এ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে থাকা পীরজাদা হারুন।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) এই নির্বাচন পরিচালনায় গঠিত আপিল বোর্ডের সভার পর এ রায় ঘোষণা করেন বোর্ডের প্রধান চলচ্চিত্র নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান।
গত ২৮ জানুয়ারি এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পরদিন ঘোষিত ফলে সভাপতি পদে ইলিয়াস কাঞ্চন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জায়েদের কাছে ১৩ ভোটে হেরে যান নিপুণ। পরদিন পুনরায় ভোট গণনায়ও নিপুণকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়।
এরপর গত রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিপুণ অভিযোগ করেন, জায়েদ টাকা দিয়ে ভোট কিনেছেন। এর আগে নির্বাচন চলাকালীনও সাংবাদিকদের কাছে একই অভিযোগ করেছিলেন নিপুণ। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে করণীয় জানতে আবেদন করেন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহান। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে আপিল বোর্ডকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলে গতকাল দুইপক্ষকে নিয়ে বসার উদ্যোগ নেন সোহান। কিন্তু সেখানে উপস্থিত হননি জায়েদ খান।
বৈঠকে যাবেন না বলে আগেই জানিয়ে দেন গত দু’বারের সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। তিনি বলেন, ‘২৯ জানুয়ারির পর থেকে আপিল বোর্ড বিলুপ্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।’ বিষয়টি নিয়ে আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানসহ পাঁচজনের নামে আইনি নোটিসও পাঠিয়েছেন জায়েদ।
এদিকে আপিল বোর্ডের রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা শহিদুল হারুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ২৮ জানুয়ারি শিল্পী সমিতির নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী পরদিন আবেদন করার সুযোগ ছিল, নিপুণ সেখানে আবেদন করেছেন এবং আপিল বোর্ড চূড়ান্ত রায় দিয়েছে। সেখানে আপিল বোর্ড জায়েদ খানকে বিজয়ী ঘোষণা করে। এখন এই আপিল বোর্ড অবৈধ, এই বোর্ডের হাতে কোনো ক্ষমতা নেই। মন্ত্রণালয় থেকে আপিল বোর্ডকে বলা হয়েছে গঠনতন্ত্র এবং নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনের পরদিন ২৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টার পর আপিল বোর্ডের হাতে আর কোনো ক্ষমতা নোই। এই আপিল বোর্ড তো অবৈধ। ৩০ জানুয়ারি থেকে নির্বাচন কমিশনের হাতেও কোনো ক্ষমতা নেই। এখন হাইকোর্টের দরজা খোলা আছে, ক্ষুব্ধ হয়ে কেউ চাইলে হাইকোর্টে যেতে পারেন। কিন্তু আপিল বোর্ড বা নির্বাচন কমিশন আর কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করতে পারে না।’