ইরানের বেসামরিক পরমাণু প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারই উত্তরসূরি জো বাইডেন। শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে আলজাজিরা।
২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ আলোচনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করছে, তখনই ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এ সিদ্ধান্তে ফিরছে বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এ সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়া, চীন ও ইউরোপের কোম্পানিগুলো বেসামরিক পরমাণু প্রকল্পে কাজ করতে পারবে, যার ফলে পরমাণু স্থাপনাগুলোকে অস্ত্র নির্মাণে ব্যবহার করা তেহরানের পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা যে অবস্থায় আছে, তা আরও এগিয়ে নিতেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করছি, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি কার্যকর হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মধ্যে সংলাপ চলছে। খুব শিগগিরই এ সংলাপ শেষ হবে এমন লক্ষণ না থাকলেও অনন্তকাল আমরা সংলাপ চালিয়ে যেতে পারি না।’
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ২০১৯ ও ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছিল। একই সঙ্গে চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন ট্রাম্প। ফের ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও চুক্তিতে থাকা শর্তগুলো একে একে লঙ্ঘন করা শুরু করে।
চীন, জার্মানি, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এই ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত ওই পরমাণু চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক নাম জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)। চুক্তিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেরা ও ইরান যেন চুক্তিতে থাকা শর্ত মেনে চলে তার লক্ষ্যেই ভিয়েনায় তেহরান-ওয়াশিংটন পরোক্ষ আলোচনা চলছে।
গত বছরের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আট দফা পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী দফার আলোচনা কবে শুরু হবে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও আগামী সপ্তাহে শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ২০১৫ সালে ওই পরমাণু চুক্তি হয়েছিল, বাইডেন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
ভিয়েনায় চুক্তিতে ফেরার আলোচনায় ‘নিষেধাজ্ঞায় ছাড়’ সহায়ক হবে এমন ব্যাখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে দেশটির কংগ্রেসে পাঠিয়েছে। প্রতিবেদনে যেসব আন্তর্জাতিক পরমাণু সহযোগিতা প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে ইরানের আরক ভারী-পানি চুল্লির নকশা নতুন করে করা, স্থায়ী আইসোটোপ উৎপাদনে ফোরদো স্থাপনাকে প্রস্তুত ও এর সংস্কার, বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা, প্রশিক্ষণ ও এর পরিষেবাসংক্রান্ত কার্যক্রমও রয়েছে।
পশ্চিমা কূটনীতিকদের আশঙ্কা, তেহরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ এখন এমন জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে, যেখান থেকে দেশটির ২০১৫ সালের চুক্তির শর্ততে ফিরতে পারার সম্ভাবনা ক্ষীণ।