কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের অবমাননা!

কুষ্টিয়া শহরে নির্মাণের সময় দুর্বৃত্তদের ভাঙচুরের শিকার হওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আলোচিত সেই ভাস্কর্য অবমাননার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার বেলা ৩টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ওই ভাস্কর্যের ওপর চড়ে বসে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী ওই যুবক বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করেন। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্তের পর তাকে আটক করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ ওই যুবককে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মনে করছেন। তবে ওই যুবক আসলেই মানসিক ভারসাম্যহীন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।    

এদিকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর চড়ে বসার স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যদিও এর আগে বঙ্গবন্ধুর ওই ভাস্কর্য নির্মাণের সময় ভাঙচুর হওয়ার পর সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী কাবিল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুপুরে এক ব্যক্তি ধূসর রঙের ফুলপ্যান্ট, কোমরে জড়ানো গাঢ় লাল রঙের সোয়েটার, গায়ে নেভি ব্লু রঙের গেঞ্জি এবং পায়ে কালো রঙের জুতা পরা অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের মাথার ওপরে উঠে নানা অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে। অনেকেই কৌতূহল ভরে লোকটাকে পাগল মনে করে তার খেলা দেখছিল। কেউ কেউ মোবাইল দিয়ে ছবিও তুলছিল। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে আশপাশ থেকে লোক জড়ো হয়। এ সময় একজন ভদ্রলোক ওই ব্যক্তিকে ডেকে নেমে আসতে বলেন। পরে সে নেমে আসে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধুর এই ভাস্কর্য নির্মাণ ও স্থাপন কর্র্তৃপক্ষ কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, আমি শুনেছি, দুপুরে কোনো একটা পাগল নাকি বঙ্গবন্ধু ম্যুরালের মাথায় উঠেছে। আমি সেখানে আমাদের লোক পাঠিয়েছি দেখতে। ভাস্কর্যের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না। তাছাড়া বিষয়টি দেখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও অবগত করেছি। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের পবিত্রতা বা নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। যে ব্যক্তি ম্যুরালের মাথায় উঠে এই অবমাননা করেছে সে আসলে পাগল কি নাÑ সেটা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কুষ্টিয়া পৌরসভা।’

২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন এই ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছিল। তারপর থেকে সর্বসম্মতিক্রমে এই ভাস্কর্যের নিরাপত্তা রক্ষায় সেখানে পুলিশ প্রহরা বসানো হয় বলেও জানান প্রকৌশলী রবিউল।

পুলিশ প্রহরা থাকার পরও ভাস্কর্যের ওপর চড়ে বসার ঘটনা কীভাবে ঘটল জানতে চাইলে কুষ্টিয়া মডেল থানার পরিদর্শক সাব্বিরুল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেই আমি দেখতে এসেছি প্রকৃত ঘটনা কী। আশপাশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে শনাক্তের পর ওই যুবককে আটক করেছি। আদৌ সে মানসিক ভারসাম্যহীন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর ঘটনার সময় সেখানে পুলিশ প্রহরা ছিল কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

২০২০ সালে শহরের প্রাণকেন্দ্র পাঁচ রাস্তার মোড়ে আগে থেকে থাকা শাপলা চত্বরকে সরিয়ে সেখানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ শুরু করে কুষ্টিয়া পৌরসভা। ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর রাতে দুর্বৃত্তরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের মুখমণ্ডল ও হাতের কিছু অংশ ভেঙে ফেলে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধন করে। পরে ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজন মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ও শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ।