মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাগাইং অঞ্চলের দুটি গ্রামের অন্তত ৮০০ বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেশটির সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে। গত সোমবার সামরিক জান্তা ওই অঞ্চলের বিন ও ইন মা হতে নামের দুটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটনায় বলে দাবি গ্রামবাসী ও জান্তাবিরোধীদের। বার্তা সংস্থা এএফপি ও মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতি গ্রামবাসীর বরাতে গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে, পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে সেনারা গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়।
মিয়ানমারের প্রত্যন্ত এ দুই গ্রামের আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়িঘরের বেশ কিছু ছবি এএফপির হাতে এসেছে। তবে সংবাদ সংস্থাটির পক্ষ থেকে এসব ছবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় একজন অধিকারকর্মী নাম প্রকাশ না করে এএফপিকে বলেন, প্রত্যন্ত ওই দুই গ্রামের মানুষজনের পক্ষে পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর মেরামত করা বেশ কষ্টসাধ্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিন গ্রামের এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, জান্তাবিরোধী যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে সোমবার সকালে সেনারা ফাঁকা গুলি ও গোলা ছুড়তে ছুড়তে গ্রামে প্রবেশ করে। গোলাগুলির শব্দ শুনে গ্রামবাসী ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় সেনারা প্রায় ২০০ বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বিন গ্রামের পাশের ইন মা হতে গ্রামের প্রায় ৬০০ বাড়িতে আগুন দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জান্তাবিরোধী স্থানীয় এক যোদ্ধা এএফপিকে বলেন, তারা গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার পরপরই সেনারা প্রবেশ করে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তবে গত বৃহস্পতিবার দেশটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেলে ওই দুই গ্রামে আগুনে পোড়া বাড়িঘরের ছবি প্রচার করে দাবি করে, পিডিএফ ‘সন্ত্রাসীরা’ এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
যদিও ইরাবতির অনলাইন সংস্করণের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জান্তাবিরোধীদের শায়েস্তা করতে সেনাবাহিনী কয়েকশ বাড়িতে আগুন দিয়েছে। পিডিএফের এক সূত্রের বরাতে খবর প্রকাশ করলেও এই সংবাদমাধ্যমটিও নিরপেক্ষভাবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গ্রেপ্তার করা হয় অং সান সু চি-সহ দেশটির বেসামরিক সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের। অভ্যুত্থানের পর থেকেই অশান্ত হয়ে উঠেছে পুরো মিয়ানমার। জান্তাবিরোধী জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করে আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গত এক বছরে অশান্ত মিয়ানমারে দেড় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যাদের বেশিরভাগ জান্তাবিরোধী।