নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরজব্বরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী তরিকুল ইসলাম বিএসসি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে চরজব্বর ইউনিয়নের চর হাসান ভূঁইয়ারহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ছুড়ে সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে আটক করেছে। আহতদের মধ্যে ২৫ জনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, চরজব্বর ইউনিয়নের ছাঁইয়াখালী বাজারে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক তার নির্বাচনী কাজে ‘বাধা ও হুমকি-ধমকি’র প্রতিবাদে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে তিনি সমর্থকদের সঙ্গে গাড়িবহর নিয়ে চর হাসান ভূঁইয়ারহাটে পৌঁছালে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের মুখোমুখি হয়ে পড়েন। এ সময় উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে স্থানীয় সাংবাদিক আবদুল বারী বাবলুসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। এছাড়া ১৫-২০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই ইউনিয়নে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষের জন্য উভয় প্রার্থী একে অপরকে দোষারোপ করেছেন। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ওমর ফারুকের দাবি, নৌকার প্রার্থী তরিকুল ইসলামের সমর্থক মঞ্জু, আজাদ ও নবী মেম্বারের অনুসারীরা তার গাড়িবহরে হামলা চালায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকার প্রার্থী তরিকুল ইসলাম বিএসসি বলেন, ‘আনারস প্রতীকের প্রার্থী ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে তারা আমার লোকজনের সাথে মিশে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এরা সবাই বহিরাগত।’
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চরজব্বর ইউনিয়নে বিদ্রোহী ও নৌকা প্রার্থীর সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে পুলিশ দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ছোড়ে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।’
চরজব্বর থানার ওসি মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করে সেই মামলায় আটক ৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’
আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সুবর্ণচরের চরজব্বর ও চর জুবলি ইউপি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।