জাতিসংঘের গুম কমিটির বৈঠক শুরু আজ

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের ১২৬তম বৈঠক শুরু হচ্ছে আজ। পাঁচ দিনের এ বৈঠক শেষ হবে ১১ ফেব্রুয়ারি। বৈঠকে বিশ্বের ২৪টি দেশের তিন শতাধিক গুমের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হবে বলে গত শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। তবে ওই ২৪টি দেশের নাম প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।

জানা গেছে, গুম হওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষাবিষয়ক সনদ ঘোষণার তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে নির্দিষ্ট দেশ সফর এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও পাঁচ দিনের বৈঠকে আলোচনা হবে।

ভার্চুয়াল ওই দক্ষিণ কোরিয়ার তায়-উং বাইকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজন, ২৪টি দেশের সরকারি প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং অন্য অংশীজনদের সঙ্গে গুমের অভিযোগ, প্রক্রিয়াগত বিষয় এবং গুমের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলবেন। বৈঠকগুলো রুদ্ধদ্বার হলেও বৈঠক শেষে ওয়ার্কিং গ্রুপ এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এদিকে গুমবিষয়ক জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ওয়ার্কিং গ্রুপ গত বছরের ২০ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর ১২৫তম অধিবেশন শেষে প্রতিবেদন পেশ করে। পরে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ এবং সদস্যদেশগুলোর কাছে পাঠায়। ওই প্রতিবেদনেও বাংলাদেশ নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ ছিল।

ওয়ার্কিং গ্রুপ বলেছিল, বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমতাবলম্বীদের নিশানা করতে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী চলমান এবং ঘন ঘন গুমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গুমের এসব অভিযোগের বিষয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকার দাবি করেছে।

তাতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে গুমের অভিযোগ নিয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করছে। কয়েক বছর ধরে একই ধরনের অভিযোগ আসছে। গুমবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ কমিটির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা ৮৩টি গুমের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এর মধ্যে ৭৬টি অভিযোগ এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।

জাতিসংঘের এই কমিটির ভাষ্য, কয়েক বছর ধরে এ নিয়ে উদ্বেগ জানালেও বাংলাদেশ কোনো সাড়া দিচ্ছে না। কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের কাছে গুমের বেশ কিছু অভিযোগ জানানো হলেও সেগুলোর কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

২০১৩ সাল থেকে গুমবিষয়ক জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ সফরের অনুমতি পেতে বেশ কয়েকবার অনুরোধ জানিয়েছে। সর্বশেষ ২০২০ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশকে সফরের অনুরোধ জানিয়েও সাড়া পায়নি বলে চিঠিতে জানিয়েছে ওয়ার্কিং গ্রুপ।

ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গুমের ক্ষেত্রে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এগুলো দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া উচিত।

এদিকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাব ও সংস্থাটির সাবেক-বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর গত বছরের ১০ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট (রাজস্ব বিভাগ) ও পররাষ্ট্র দপ্তর। এই নিষেধাজ্ঞার পর আন্তর্জাতিক ১২টি মানবাধিকার সংস্থা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে র‌্যাবকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়ের ল্যাকোঁয়ারকে চিঠি দেয়। তবে চিঠি দেওয়ার পর আড়াই মাস পার হলেও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা অপারেশনস বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক সাড়া মেলেনি।