কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলার আসামিকে নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার (কাজি) পদে নিয়োগে সুপারিশ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে।
গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের কাজি পদে এরশাদ হোছাইনকে (২২) নিয়োগের জন্য আইনমন্ত্রীর কাছে আধা সরকারি চিঠি (ডিও লেটার) পাঠান চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সাংসদ জাফর আলম। এতে তিনি উল্লেখ করেন, কোনাখালী ইউনিয়ন কাজি পদটি দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় নিকাহ ও তালাক নিবন্ধনে স্থানীয়রা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পদটিতে এরশাদ হোছাইনকে নিয়োগ দেওয়া হলে জনসাধারণ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।
এরপর গত ২ জানুয়ারি এরশাদকে প্রথমে রেখে কাজি নিয়োগের জন্য তিন সদস্যের একটি প্যানেল আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় চকরিয়া উপজেলা নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স মঞ্জুরি উপদেষ্টা কমিটি। বিতর্কিত ব্যক্তিকে কাজি নিয়োগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কমিটির সদস্য সচিব ও চকরিয়ার সাব-রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ মামমুল ইসলাম।
তবে সাংসদ জাফর আলম বলেন, ‘এরশাদের নামে মামলা আছে আমি জানতাম না। উপজেলা থেকে প্যানেলে তার নাম দিয়েছে। এ জন্য আমি নিয়োগের সুপারিশ করেছি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া গ্রামের ইসরাত জাহান (১৯) গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে এরশাদ হোছাইনের নামে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। ২০২০ সালে ইসরাত কোনাখালী ইউনিয়ন গ্রাম আদালতে একই কারণে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার ওই বছরের ২১ জুন রায় দেন। তিনি এখতিয়ারবহির্ভূত হওয়ায় এরশাদকে অভিযুক্ত করে বাদীকে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলার পরামর্শ দেন।
ইসরাত জাহান জানান, প্রেমের সূত্র ধরে পাঁচ বছর আগে এরশাদের সঙ্গে তার কাবিননামা ছাড়া বিয়ে হয়। উভয় পরিবারের সম্মতিতে তারা দাম্পত্যজীবন শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায়ও ছিলেন। এরই মধ্যে কাবিননামা করার জন্য ইসরাত চাপ দিলে এরশাদ তার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় এরশাদ এ বিয়ে অস্বীকার করেন।
গতকাল সোমবার ইসরাত জাহান বলেন, ‘এরশাদের মতো চরিত্রহীন কাজি নিয়োগ পেলে তা হবে চরম লজ্জার। তার নিয়োগ যাতে না হয়, সে জন্য আমি ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এ বিষয়ে এরশাদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা মিথ্যা। একটি মহল আমার নিয়োগ ঠেকাতে মামলাসহ নানাভাবে হয়রানি করছে।’