‘গুমের শিকার’ ব্যক্তিদের নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ‘গুমের শিকার’ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। একই সঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তিদের তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মায়ের ডাকের পক্ষে আফরোজা ইসলাম আঁখি বিবৃতিতে বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো যে গুমের সঙ্গে জড়িত, সেই সব ঘটনার অনেক প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন। এ ছাড়া বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন থেকেও গুমের ঘটনার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা বহু বছর ধরে তাদের প্রিয়জনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। স্বজনদের ফিরে পাওয়ার দাবিতে তারা বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করছেন। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা অসংখ্যবার আবেদন করলেও গুম হওয়া ব্যক্তিদের তাদের প্রিয়জনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। মায়ের ডাক মনে করে, দায়িত্বরত মন্ত্রীদের এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলকে মিথ্যা ধারণা দেওয়ার একটি ন্যক্কারজনক প্রচেষ্টা।’
তিনি বলেন, ‘৭ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের পাঁচ দিনব্যাপী বৈঠকের আগে এই দুই মন্ত্রী অসত্য বক্তব্য দিলেন। ওয়ার্কিং গ্রুপের এই ১২৬তম বৈঠকে বাংলাদেশসহ ২৪টি রাষ্ট্রের ৩০০টিরও বেশি গুমের ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এ সময়ে তাদের এই মিথ্যা বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের গুমের ঘটনাগুলো অস্বীকার করা হয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গুম একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের একদিন না একদিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে। যারা নির্দেশিত হয়ে সরাসরি গুমের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং এই সব ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য যারা অনবরত মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন, তারা উভয়েই সমান দোষী।’
বিবৃতিতে আফরোজা ইসলাম বলেন, ‘এর আগে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপেয়ারেন্সেস কর্র্তৃক বাংলাদেশে গুম হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং গুম হওয়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ সদস্যরা সরকারের নির্দেশে দফায় দফায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার নামে হয়রানি করে এবং পুলিশ সদস্যরা গুমের শিকার ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন এবং পরিবার তথ্য গোপন করেছে এই মর্ম কাগজে স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য ভিকটিম পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ প্রযোগ করে।’
এর আগে গুমের অভিযোগের বিষয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. এ কে আব্দুল মোমেন এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘জাতিসংঘ নয়, জাতিসংঘের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের একটি তালিকা দিয়েছিল। পরে দেখা গেল, ভূমধ্যসাগরে অনেক লোকের সলিলসমাধি হয়েছে।’ একই দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমরা সব সময় বলি, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী গুমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। যেখানেই গুম হচ্ছে, সেখানেই আমরা কিছুদিন পরেই তাকে পাচ্ছি। নানা কারণে আত্মগোপন করে থাকে, সেগুলোকে গুম বলে চালিয়ে দেয়। বাংলাদেশে কেউ গুম হয় না।’