গণপরিবহন আমদানিতে ১% শুল্ক ধার্যের দাবি বারভিডার

দেশে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে পাবলিক বাসের আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। একই সঙ্গে গণপরিবহন হিসেবে মাইক্রোবাসের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় বারভিডা এমন দাবি উপস্থাপন করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে।

সংগঠনটির সভাপতি আবদুল হক বলেন, আমদানি শুল্ক কমানো হলে সাশ্রয়ী মূল্যে অত্যাধুনিক জাপানি বাস আমদানির পথ সুগম হবে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে তৈরি এসব বাসের মূল্য অত্যধিক বেশি বলে রাজস্বনীতি সহায়ক না হওয়ায় এ ধরনের বাস আমদানি করা যাচ্ছে না। অথচ এসব বাস আমদানির সুযোগ হলে দেশে নিউজিল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এর ফলে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে, যা যানজট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি পাবলিক বাস আমদানি শুল্ক ১০ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন।

বারভিডার এমন প্রস্তাবনাকে স্বাগত জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনিম বলেন, গণপরিবহনের বিবেচনায় এমন প্রস্তাব অত্যন্ত ইতিবাচক। আমরা বিষয়টি বিবেচনা করব।

গতকালের প্রাক-বাজেট আলোচনায় আবদুল হক বলেন, পর্যটন শিল্পসহ প্রায় সবক্ষেত্রেই মাইক্রোবাস ব্যবহারের বিকল্প নেই। পোশাকশিল্পের ন্যায় শ্রমঘন শিল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারী এই পরিবহন ব্যবহার করে। বর্তমানে এই শ্রেণির গাড়ি আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আছে। গতকালের আলোচনায় ১০-১৫ আসনের এই যানগুলোতে আরোপিত সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন তিনি। একই সঙ্গে ব্যাটারিচালিত মোটরের গাড়ি আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক সম্পূর্ণ শুল্ক প্রত্যাহার ও বৈদ্যুতিক গাড়ির মাল্টিডিসিপ্লিনারি এবং কম্প্রেহেনসিভ নীতিমালা করার প্রস্তাব করে বারভিডা। আবদুল হক বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ মোটরযানে ফসিল ফুয়েলের ব্যবহার কমে আসবে। এ অবস্থায় দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে।

আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিবেচনার জন্য বারভিডা আরও যেসব প্রস্তাবনা দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে অবচয় হার পুনর্নির্ধারণ; সিসি স্ল্যাব ও সম্পূরক শুল্কের হার পুনর্বিন্যাস; ফসিল ফুয়েল গাড়ি (সম্পূরক শুল্ক); রিকন্ডিশন গাড়ির সংজ্ঞা নির্ধারণ; অবচয় প্রদানের উদ্দেশ্যে গাড়ির বয়স গণনা পদ্ধতি সংশোধন;  বেশি সংখ্যক যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার; পাবলিক ট্রান্সপোর্টের আমদানি শুল্ক কমানো; বিদ্যুৎচালিত বা ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং আমদানি রিকন্ডিশন মোটরযান বিক্রি ও বিপণনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভ্যাট প্রদান নীতিমালা প্রণয়ন।

অবচয় হার পুনর্নির্ধারণ প্রসঙ্গে আবদুল হক বলেন, যেকোনো পণ্যের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে সর্বোচ্চ হারে মূল্যের অবচয় প্রদানের বিধান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। অবচয় প্রদানের উদ্দেশ্যে বয়স গণনার ক্ষেত্রে আমদানি নীতি অনুযায়ী লিপিবদ্ধ বছর চলতি হিসেবে ধরা হয়। অবচয় হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে বছরভেদে ও গাড়ির প্রকৃতিভেদে এক বছরের রিকন্ডিশন গাড়ি ০ শতাংশ, দুই বছরের পুরনো গাড়ি ১৫ শতাংশ, ২ বছরের অধিক হলে ২৫ শতাংশ, ৩ বছর পর্যন্ত পুরনো হলে ৩৫ শতাংশ, ৫ বছর পুরনো হলে ৪৫ শতাংশ এবং ৫ বছরে ৫০ শতাংশ হারে অবচয় প্রদানপূর্বক রিকন্ডিশন গাড়ির শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব করেছি।