জাপান-বাংলাদেশ

ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা বিনিময় দুই প্রধানমন্ত্রীর

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত ও দ্রুত করা এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড চালু করতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

গতকাল মঙ্গলবার জাপান-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সহযোগিতা কামনা করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকায় জাপানি দূতাবাস যৌথভাবে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ উপলক্ষে সম্পর্ক জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা আলাদা শুভেচ্ছা ভিডিও বার্তায় এসব প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা প্রদর্শিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন,পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) মাসুদ বিন মোমেন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বার্তায় বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে জাপান ও এর জনগণের মূল্যবান সমর্থন ও অবদানের জন্য বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাপানে ঐতিহাসিক সফরের কথা তুলে ধরেন, যা দুই দেশের মধ্যে একটি অটল ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

ভিডিও বার্তায় শেখ হাসিনা দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দৃঢ় ভিত্তির কথা উল্লেখ করেছেন, যা অদূর ভবিষ্যতে ‘ব্যাপক অংশীদারিত্ব’ থেকে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এ উন্নীত হতে চলেছে। তিনি জাপানের টেকসই অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সমর্থনের কথা স্বীকার করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, বিগত ৫০ বছরের ঈর্ষণীয় সহযোগিতা পারস্পরিক লাভের জন্য আগামী ৫০ বছরের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা তার বার্তায় বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে জাপানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাপান সফরকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে শক্ত ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন মুক্তিযুদ্ধে জাপান সরকার ও জনগণের দেওয়া নৈতিক ও বৈশ্বিক সমর্থনকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি দুই দেশের মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে শক্তিশালী বহুমুখী সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সৌজন্যে বর্ণাঢ্য নৃত্য পরিবেশন করা হয়।