প্রদীপ-লিয়াকতের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে

কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বরখাস্ত পরিদর্শক লিয়াকত আলীর ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদ- অনুমোদনের নথি) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।

বিধান অনুযায়ী বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদন্ডের রায় হলে সেটি কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এজন্য মামলার রায় ও নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আইনের বিধান অনুযায়ী হাইকোর্টে আপিল ও তাদের পক্ষে জেল আপিলের সুযোগ থাকে। এরপর পেপারবুক (মামলার রায়সহ যাবতীয় নথি) প্রস্তুত সাপেক্ষে ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্টের রায় হয়।

গত ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ঈসমাইল প্রদীপ কুমার দাশ ও লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদ- দেন। এছাড়া ছয়জনকে যাবজ্জীবন, সাতজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন টেকনাফ থানার এসআই (উপপরিদর্শক) নন্দদুলাল রক্ষিত, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কনস্টেবল সাগর দেব, রুবেল শর্মা, টেকনাফের মারিশবুনিয়া গ্রামের নেজাম উদ্দিন, নুরুল আমিন ও মো. আইয়াজ।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মো. লিটন মিয়া, টেকনাফ থানার কনস্টেবল ছাফানুল করিম, মো. কামাল হোসাইন আজাদ, মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, এপিবিএনের তিন সদস্য এসআই মো. শাহজাহান আলী, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ও কনস্টেবল মো. রাজীব হোসেন।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মো. রাশেদ খান। সিনহার হত্যার ঘটনায় ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে হত্যা মামলা করেন তার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকতসহ পুলিশের ৯ সদস্যকে আসামি করেন তিনি। এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব। এ ঘটনায় প্রদীপ দাশ, লিয়াকত আলীসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তাদের মধ্যে ১২ জন পুলিশের এবং ৩ জন গ্রামবাসী। প্রদীপসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে গত বছর ১৩ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় র‌্যাব। অভিযোগপত্রভুক্ত ৮৩ সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জন সাক্ষ্য দেন। এরপর ১২ জানুয়ারি যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ৩১ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করে আদালত।