প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মানুষকে উন্নত জীবন দেওয়ার লক্ষ্যে শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা বা বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ বাস্তবায়নে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই পরিকল্পনা আমি দিয়ে গেলাম যেন বাংলাদেশের এই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা আর কখনো কেউ ব্যাহত করতে না পারে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব।’
প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গাজীপুরের সফীপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমি মাঠে মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রী আনসার সদস্যদের মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন এবং তাকে রাষ্ট্রীয় অভিবাদনও জানানো হয়। বাসস জানায়, শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরের পথে অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে। সে জন্য আপনাদের সকলকেই প্রচেষ্টা নিতে হবে। সকলেই সেই প্রচেষ্টা নেবেন এবং সেটাই আমি আশা করি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, প্রবৃদ্ধি অর্জন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অর্থনীতিও যথেষ্ট শক্তিশালী হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমি মনে করি আপনাদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে।’
শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সময়ে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন-ভূমিহীন থাকবে না। তাদের জন্য জমি দিচ্ছি, ঘর করে দিচ্ছি। পাশাপাশি প্রতিটি ঘরে আরও জ¦ালানোর যে ঘোষণা দিয়েছিলামসে অনুযায়ী ঘরে ঘরে আমরা বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি।’
বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাস প্রতিরোধে আনসার সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশকে আমরা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত করতে চাই। আর সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। আর এ ক্ষেত্রে এই বাহিনী সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, মৌলবাদ দমনে বিশেষ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ভিডিপি সদস্যদের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারণ, আমরা চাই তারা যার যার এলাকায় গিয়ে কাজ করবেন। আর একটি বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি ‘বাংলাদেশ আনসার ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট’ নামে একটি ফান্ড গঠন করা হবে। যারা অসুবিধায় পড়েন বা বয়োবৃদ্ধ হয়ে পড়লে ওই ট্রাস্ট থেকে যাতে সাহায্য সহযোগিতা করা যায় সেজন্য সিড মানি দিয়ে এই ট্রাস্ট ফান্ড আমরা করে দেব।’
একই সঙ্গে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে অবস্থিত ভাষাশহীদ আব্দুল জব্বার স্কুল এবং কলেজে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে পাঠদানে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও এগিয়ে চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আনসার ভিডিপি ব্যাংক প্রতিষ্ঠাসহ পদোন্নতি, উন্নত প্রশিক্ষণ, রেশন প্রভৃতি ক্ষেত্রে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা দূর করার এবং তাদের উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপেরও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আনসার সদস্যদের বীরত্বের কথাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি ক্রীড়া ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় সাফল্যের জন্য ‘স্বাধীনতা পদক’ অর্জন করায় আনসার সদস্যদের অভিনন্দন জানান।
শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে আনসার একাডেমিতে নব-নির্মিত ‘মুজিব প্রাঙ্গণ’, কেন্দ্রীয় মসজিদসহ আনসার সদস্যদের বিভিন্ন স্থাপনারও উদ্বোধন করেন।
আমাদের গাজীপুর ও কালিয়াকৈর প্রতিনিধি জানান, আনসার ও ভিডিপি একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত আনসার ও ভিপিপির ৪২তম জাতীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে সমাবেশ স্থলে যোগদেন। এ সময় বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম তাকে স্বাগত জানান।
পরে মন্ত্রী খোলা জিপে চড়ে প্যারেডস্থল পরিদর্শন করেন এবং অভিবাদন মঞ্চে সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ সিনিয়র সচিব আখতার হোসেন, বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক খোন্দকার ফরিদ হাসান ও আনসার-ভিডিপি একাডেমির কামান্ড্যান্ট উপ-মহাপরিচালক একেএম জিয়াউল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আনসার সদস্যদের মধ্যে পদক বিতরণ করেন। মোট ১৬২ আনসার সদস্য পদক লাভ করেন।
বিএফডিসির নতুন ভবনের নকশা অবলোকন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) নতুন ভবনের নকশা অবলোকন করেছেন। গতকাল সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে বিএফডিসির নতুন ভবনের নকশা দেখেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব কে এম শাখাওয়াত মুন বাসসকে জানান, এ সময় প্রধানমন্ত্রী নকশার বিস্তারিত দেখেন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও দিকনির্দেশনা দেন।
সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ নকশা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এ সময় গণভবন প্রান্তে মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. মকবুল হোসেন এবং বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।