যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও গোয়েন্দারা বিগত কয়েক বছর ধরেই এক রহস্যময় শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করছেন। সাধারণ লক্ষণযুক্ত এই অসুস্থতাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যেমন নির্দিষ্ট গোত্রভুক্ত করতে পারছেন না, তেমনি এর কারণ সম্পর্কেও রয়েছে নানা অভিমত, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। লিখেছেন বিপুল জামান
যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনকালে এক রহস্যময় শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করছিলেন। ২০১৬ সালে কিউবার রাজধানী হাভানায় দায়িত্ব পালনকালে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কূটনৈতিক কর্মকর্তারা এই অসুস্থতার লক্ষণ অনুভব করেন বলে একে ‘হাভানা সিনড্রোম’ বলে অভিহিত করা হয়। এই শারীরিক অসুস্থতার কারণ কী তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যেই ছিল নানা মতভেদ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা এই বিশেষ লক্ষণ দেখা দেওয়ার কারণ খুঁজে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, পালসড ইলেকট্রোম্যাগনেটিক শক্তি বা স্পন্দিত তড়িৎচৌম্বকীয় শক্তিই ‘সম্ভাব্য ব্যাখ্যা’ হতে পারে হাভানা সিনড্রোমের। তাদের এই মন্তব্য নতুনভাবে রহস্যময় ‘হাভানা সিনড্রোম’কে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
হাভানা সিনড্রোম কী
হাভানা সিনড্রোম কোনো রোগ নয়। এটি ছোট ছোট শারীরিক অসুস্থতার সমষ্টি। অন্যান্য সাধারণ রোগে যেসব লক্ষণ দেখা যায় যেমনমাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, মাথা যন্ত্রণা মূলত এসব সমষ্টিই হাভানা সিনড্রোম বা হাভানা লক্ষণ। লক্ষণগুলো পরে তীব্র আকার ধারণ করতে থাকে। সাধারণ মাথাব্যথা মাইগ্রেনের অসহ্য যন্ত্রণায়, বমি বমি ভাব বা নিরবচ্ছিন্ন বমি হওয়াতে, সাধারণ মাথা ঘোরা থেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলাতে রূপান্তরিত হয়। অন্যান্য রোগের লক্ষণের সঙ্গে হাভানা সিনড্রোমের পার্থক্য হলো, এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি নিরবচ্ছিন্নভাবে মেশিনে কাঠ চেরাইয়ের শব্দ শুনতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শব্দের তীব্রতা ও অন্যান্য লক্ষণ প্রবল হতে থাকে। এ রোগের কারণ কী তা বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলতে পারেন না বলে এ থেকে আরোগ্য লাভের উপায়ও চিকিৎসকদের কাছে অধরা। তবে প্রতিটি ঘটনাতেই দেখা গেছে আক্রান্ত ব্যক্তি স্থান পরিবর্তনে আরোগ্য লাভ করে, লক্ষণগুলো কমে, রোগের উপশম হয়। রোগ চিহ্নিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বা অল্প সময়ের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তার বসবাসের স্থান বা কর্মস্থল থেকে সরিয়ে না নিলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হয়। যেমন স্থায়ী শ্রবণ ক্ষমতা হ্রাস, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মানসিক ভারসাম্যহীনতা বা অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হলে তার চিকিৎসার জন্য প্রভূত ব্যয় হয়। কর্মরত অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একটি তহবিল বরাদ্দ করেছেন।
হাভানা, কিউবা
২০১৬ সালে কিউবার রাজধানী হাভানাতে দায়িত্বরত একজন আমেরিকান কূটনীতিক প্রচণ্ড শব্দে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। দ্রুত বিছানা ছেড়ে কক্ষ ত্যাগ করতে গিয়ে চারিদিকে অনুভব করেন সুনসান নীরবতা। কিছুক্ষণ পরে তিনি আবারও আগের মতো শব্দ শুনতে পান। তখন তিনি বুঝতে পারেন ঘটনাটি তার সঙ্গেই ঘটছে। বিকট শব্দের পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট থেকে বিরতিহীনভাবে মেশিনের সাহায্যে কাঠ কাটার শব্দের মতো গুঞ্জন তিনি শুনতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা করার আগেই দেখা দিতে থাকে অন্যান্য লক্ষণ। তিনি লক্ষ্য করেন তার শ্রবণ ক্ষমতা কমে গেছে, কথা বলার সময় কথা জড়িয়ে যাচ্ছে, চলার সময় ঠিকমতো ভারসাম্য বজায় রাখতে পারছেন না।
শুধু ওই কূটনীতিকই নন, সে সময় এ ধরনের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানান দেশটিতে কর্মরত আমেরিকা ও কানাডার আরও ২১ কূটনীতিক। মৃদু লক্ষণ প্রবল হয়ে উঠলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। কূটনীতিকরা ও গোয়েন্দা সংস্থা এই শারীরিক অসুস্থতাকে ‘হাভানা সিনড্রোম’ বা ‘হাভানা লক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করতে থাকেন। স্বভাবতই মার্কিন প্রশাসন ঘটনাটি ধর্তব্যে নেয় এবং তদন্ত শুরু করে। কিন্তু অসুস্থতার লক্ষণগুলোতে অস্বাভাবিকত্ব না থাকায় তারা তখন এ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন যে, কূটনৈতিক দায়িত্বের অত্যধিক চাপের কারণে আক্রান্তদের সাধারণ স্নায়বিক বৈকল্য ঘটেছে। তদন্তের সময় আক্রান্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছিলেন, খাদ্যে বিষ মিশিয়ে তাদের অসুস্থ করে ফেলা হবে এমন তথ্য তারা জানতে পেরেছিলেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন, এ ধরনের গুজবের কারণে কর্মকর্তাদের স্নায়ুচাপ বৃদ্ধি পায় এবং তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এত বেশিসংখ্যক কর্মকর্তার একযোগে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে গুজবে বিশ্বাস করাকেই দায়ী করেন তারা। যদিও ল্যাংলিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) একে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি সংগঠিত আক্রমণ বলেই দাবি করেছে। যদিও ল্যাংলির অভিযোগের তীর কাদের প্রতি তা স্পষ্ট নয়। ল্যাংলি কিউবাকে দোষারোপ করেনি কিন্তু কে দায়ী সে বিষয়েও পরিষ্কার করে কিছু বলেনি।
গোয়ানযাও, চীন
২০১৮ সালের শুরুতে চীন থেকে মার্কিন কর্মকর্তারা হাভানা সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানাতে থাকেন। ২০১৮ সালের এপ্রিলে চীনে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় কনস্যুলেট, গোয়ানযাও কনস্যুলেটের কর্মকর্তা জানান তিনি অনবরত মৃদু ও মধ্যমাত্রার শব্দের গুঞ্জন শুনতে পাচ্ছেন যদিও তার চারপাশের কেউ তা শুনতে পাচ্ছে না। তিনি যেসব শারীরিক অসুস্থতার কথা জানান তার সঙ্গে হাভানা সিনড্রোমের মিল ছিল লক্ষণীয়। তিনি আরও জানান, এই লক্ষণগুলো তিনি ২০১৭ সালের শেষ থেকে অনুভব করছেন। ২০১৮ সালে এসব লক্ষণ প্রবল হয়ে উঠেছে। পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির এক প্রশ্নের জবাবে সেক্রেটারি অব স্টেট পোমিও জানান, গোয়ানযাও কনস্যুলেটের কর্মকর্তা এক রহস্যময় শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেনযা হাভানা সিনড্রোমের সঙ্গে তুলনীয়। নিউ ইয়র্ক টাইম জানায়, গোয়ানযাও কনস্যুলেটের কমপক্ষে দুজন কূটনীতিককে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। ২০১৮ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন জানায়, গোয়ানযাও কনস্যুলেটের বাইরে চীনের মূল ভূমিতেও তাদের কয়েকজন কূটনৈতিক কর্মকর্তা হাভানা সিনড্রোমের ভুগেছেন।
বোগোটা, কলম্বিয়া
২০২১ সালে সেপ্টেম্বরের শেষে একই ধরনের লক্ষণ নিয়ে অসুস্থ হন কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা। লক্ষণগুলোর মধ্যে অস্বাভাবিক মিল থাকায় হাভানা সিনড্রোম নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়। কলম্বিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ফিলিপ গোল্ডবার্গ ই-মেইল পাঠিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে দূতাবাসের কর্মীদের ‘অজানা স্বাস্থ্যগত সমস্যা’ বা হাভানা সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন কলম্বিয়া সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ফলে মার্কিন প্রশাসন ঘটনাটিকে আমলে নিতে বাধ্য হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর ও কূটনীতিকদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনাকে নেহাত কাকতালীয় হিসেবে মেনে নেয়নি তখন ল্যাংলি। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভান দুকে নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তার দেশ ‘হাভানা সিনড্রোম’ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে। এসংক্রান্ত তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রই নেতৃত্ব দিচ্ছে।
কলম্বিয়াতে হাভানা সিনড্রোমের ভয়াবহতা কিউবার থেকেও বেশি ছিল। বোগোটায় ২০০ জন, অর্থাৎ হাভানার ১০ গুণ বেশি কর্মকর্তা আক্রান্ত হন।
ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া
ভিয়েনাতে হাভানা সিনড্রোম একটি নতুন রূপ নিয়ে আসে। এতদিন এ শারীরিক অসুস্থতা শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যেই দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু ২০২১ সালে কূটনীতিক, গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং ভিয়েনায় নিযুক্ত কয়েক ডজন মার্কিন কর্মচারী ছাড়াও তাদের স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের অন্য ব্যক্তিরা আক্রান্ত হন। এমনটি হাভানায় বা গোয়ানযাওতে দেখা যায়নি। ভিয়েনার ঘটনার পরে বিশেষজ্ঞরা বুঝতে পারেন যে, কূটনৈতিক কাজের চাপের কারণেই কর্মকর্তাদের এই শারীরিক অসুস্থতা নয়। কর্মকর্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাজের চাপ তাদের পরিবারের সদস্যদের স্পর্শ করার সম্ভাবনা থাকলেও তা অসুস্থ হয়ে যাওয়ার মতো না হওয়ারই কথা। এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, সে সময়ে ভিয়েনা ২০১৫ সালের ইরান চুক্তি নবায়নের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার আয়োজন করছিল। সে সময়ে হাভানা সিনড্রোমের এই তীব্র আক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রকে বেশ ভুগিয়েছিল। হাভানা সিনড্রোমের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিতে পারায় ভিয়েনার সিআইএ স্টেশন প্রধানকে প্রত্যাহার করে ল্যাংলি।
২০২১ সালে বেশকিছু দেশে মার্কিন কূটনীতিকরা হাভানা সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়েছিল। এ সময়ে জার্মানির বার্লিনে যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা হাভানা সিনড্রোমে আক্রান্ত হন। তারা উভয়ই বার্লিনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। বার্লিনে হাভানা সিনড্রোমে আক্রমণের কথা শুনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এর উৎস খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।
২০২১ সালে সার্বিয়ায় অবস্থানরত সিআইএ-এর একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এই স্নায়বিক আক্রমণের শিকার হন। প্রবল অসুস্থতার জন্য তাকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় ল্যাংলি।
২০২১ সালের আগস্টে হাভানা সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ায় ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে দুজন আমেরিকান কূটনীতিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। লক্ষণীয় যে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ভিয়েতনাম সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হাভানা সিনড্রোমের আক্রমণের কারণে তার রাষ্ট্রীয় সফর বেশ কিছুদিন বিলম্বিত হয়েছিল।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে একজন সিআইএ অফিসার চিফ উইলিয়াম জে বার্নসের ভারতে কূটনৈতিক সফরকালে হাভানা সিনড্রোমের শিকার হন।
অস্ট্রেলিয়া ও তাইওয়ানে কর্মরত সিআইএ’র বেশকিছু কর্মকর্তা তাদের সদর দপ্তরে হাভানা সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান। এমনকি দেশগুলোতে সফররত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও এই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিগত পাঁচ বছরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা তাদের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
সিআইএর সিদ্ধান্ত
হাভানা সিনড্রোমের কারণ কী তা নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের মধ্যেই রয়েছে নানা মত। হাভানায় কূটনীতিকদের মধ্যে এই শারীরিক অসুস্থতা পরিলক্ষিত হওয়ার পর একে শত্রুদেশের আক্রমণ হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থা থেকে দাবি করা হয়। কিন্তু রোগের লক্ষণ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নেন, অত্যধিক কাজের চাপের ফলে কূটনীতিকদের স্নায়বিক বৈকল্য ঘটেছে। তা ছাড়া খাদ্যে বিষ প্রয়োগ করা হবে এমন গুজব তাদের মানসিকভাবে আরও দুর্বল করে তুলেছিল বলে মতপ্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু বিগত পাঁচ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত কূটনীতিকরা একই লক্ষণযুক্ত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় বিষয়টিকে ভিন্নরূপে দেখতে বাধ্য হন।
তারা লক্ষ্য করেন, যখন কোনো দেশে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মন্ত্রী, ভাইস প্রেসিডেন্ট বা অন্যান্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি দেশগুলো সফর করেন তখন সে দেশের মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ভিয়েতনামের মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এমনটিই ঘটেছে।
তা ছাড়াও লক্ষ্য করেছেন, কোনো দেশে কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বা সম্মেলন বা চুক্তি নবায়ন হওয়ার সময় সে দেশের মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এ থেকে বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নেন, এগুলো নেহাত কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে না।
বাইরের কোনো উৎসের কারণে এগুলো হতে পারে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সর্বসাম্প্রতিক প্রতিবেদনে কর্মকর্তারা ধারণা দিয়েছেন। তারা মনে করেন, ‘নন-স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্টেনা’র মাধ্যমে মানবশরীরে ওই উপসর্গগুলো সৃষ্টি করা যেতে পারে। এ ধরনের উৎস সহজেই গোপন রাখা যায় এবং এগুলো ব্যবহারে শক্তিও কম লাগে। এর তরঙ্গ বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে এবং ভবনের দেয়াল ভেদ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভবত মাইক্রোওয়েভ বিকিরণ এই রহস্যময় রোগের কারণ।