এ সময়টায় গোলাপ ও গাঁদা দুটো ফুলই খুব দেখা যায়। এই ফুল দিয়ে কীভাবে রূপচর্চা করবেন জানালেন রূপবিশেষজ্ঞ খালেদা পারভিন সিনথিয়া
গাঁদা ফুল
ত্বকের পরিচর্যায় গাঁদা ফুল দিয়ে খুব ভালো ফেসমাস্ক তৈরি করা যায়। গাঁদা ফুলে আছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদানে ভরা, যা ত্বকের সাধারণ কাটা-ছেঁড়াজনিত ইনফেকশন, ব্রণ, ফুসকুড়ি ও অন্যান্য যেকোনো ত্বকের ব্যাকটেরিয়া-সংক্রান্ত সমস্যা দূর করে।
শুষ্ক ত্বক : গাঁদা ফুলের পাপড়ি ১৫টি, মধু ৫ ফোঁটা, মিল্ক ক্রিম ১ টেবিল চামচ, বেসন আধা টেবিল চামচ। প্রথমে গাঁদা ফুলের পাপড়ি ভালোভাবে থেঁতো করে এর মধ্যে মধু, মিল্ক ক্রিম আর বেসন মিশিয়ে দিন। মুখে মেখে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। মধু ও মিল্ক ক্রিম প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার, যা ত্বক নরম ও কোমল করে। গাঁদা ফুলের পাপড়ি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং ত্বকের শুষ্কভাব রোধ করে। আর বেসন ত্বকের ময়লা ভেতর থেকে পরিষ্কার করে।
মিশ্র ত্বক : গাঁদা ফুলের পাপড়ি ১২টি, দই আধা টেবিল চামচ, চন্দনগুঁড়ো আধা টেবিল চামচ। গাঁদা ফুলের পাপড়ি থেঁতো করে এর মধ্যে দই ও চন্দন পাউডার ভালো করে মিশিয়ে ক্রিম তৈরি করে মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। গাঁদা ফুলের পাপড়ি ন্যাচারাল ময়েশ্চারাইজার, যা ত্বকের বলিরেখা দূরে রাখে এবং ত্বকের ফুসকুড়ি হতে দেয় না। দই ত্বক পরিষ্কারের পাশাপাশি রোদে পোড়াভাব দূর করে। চন্দনগুঁড়ো ত্বকের লোমকূপের মুখ ছোট ও ত্বক পরিষ্কার করে।
তৈলাক্ত ত্বক : গাঁদা ফুলের পাপড়ি ১২টি, আমলকীর গুঁড়ো আধা টেবিল, লেবুর রস ৫ ফোঁটা, টক দই আধা টেবিল চামচ। আমলকীর গুঁড়ো আর ফুলের পাপড়ি থেঁতো করে এর সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে এবার দই মিশিয়ে নিন। মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। গাঁদা ফুলের নির্যাস ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়। লেবুর রস ব্ল্যাক হেডস ও ফুসকুড়ি কমায়। দই ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করে। আমলকীর গুঁড়ো তৈলাক্ত ত্বকের লোমকূপগুলো ছোট ও টান টান করে।
গোলাপ ফুল
ত্বক কোমল রাখতে, ব্রণ, সানবার্ন ও ডার্ক সার্কেল দূর করতে গোলাপের পাপড়ি খুব ভালো কাজ করে। ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও গোলাপের পাপড়ি ব্যবহার হয়।
ময়েশ্চারাইজার : ঘুমাতে যাওয়ার আগে ২ কাপ পানিতে গোলাপ ফুলের পাপড়ি ভিজিয়ে রাখুন। ঘুম থেকে উঠে এই পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের উজ্জ্বলতা ও কোমলতা বাড়বে। মধু ২ টেবিল চামচ, দুধ ২ টেবিল চামচের সঙ্গে শুকনো গোলাপের পাপড়ি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে রাতে ঘুমানোর আগে মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। অলিভ অয়েল ২ টেবিল চামচ ও গোলাপ ফুলের নির্যাস ১ চা চামচ মিশিয়ে মুখে লাগান। ত্বকে ময়েশ্চারাইজার এর কাজ করবে।
ব্রণ দূর করে : ব্রণের ওপর গোলাপের পাপড়ি বেটে লাগাতে পারেন। গোলাপের পাপড়ির সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ব্রণের স্থানটিতে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। নিমপাতা ও আলুর সঙ্গে গোলাপের পাপড়ি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। সপ্তাহে দুবার ব্যবহারে ব্রণ চলে যাবে।
সান বার্ন ও ডার্ক সার্কেল : রোদে বের হওয়ার আগে গোলাপের রস, আমন্ড অয়েল ও শসার রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। এর ফলে সানবার্নের হাত থেকে ত্বক রক্ষা পাবে।