বাউফলে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণ করে একটি বাড়ির ১০ পরিবারকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও কেশবপুর কলেজের অধ্যক্ষ সালেউদ্দিন পিকুর বিরুদ্ধে। এর ফলে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধশত লোক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সমর্থন করায় পরিবারগুলোর রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে বলে পরাজিত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর অভিযোগ।
জানা গেছে, কেশবপুর কলেজ লাগোয়া পূর্ব পাশের হাওলাদার বাড়িতে ১০টি পরিবার বসবাস করে। ওই বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র রাস্তা কলেজের মাঠ দিয়ে গেছে। কলেজ প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই ওই জায়গা দিয়ে চলাচল করতেন তারা। পরে লিখিত রেজলুশন করে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জমি দান করে ওই বাড়ির চলাচলের রাস্তা দেওয়া হয় কলেজের ভেতর দিয়ে। ১৫ ফুট প্রশস্ত রাস্তা দিয়ে প্রায় দুই যুগ ধরে চলাচল করছেন ওই বাড়ির লোকজন। কিন্তু গত রবিবার হঠাৎ করে অজানা কারণে রাস্তাটি বন্ধ করে দেন অধ্যক্ষ। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ১০টি পরিবার। বাধ্য হয়ে তারা অন্য বাড়ির পেছন বা বাগান দিয়ে চলাফেরা করছেন।
বাড়ির লোকদের আভিযোগ, ১৯৮৫ সালের ১০ মার্চ স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি রেজলুশনের মাধমে রাস্তাটি খুলে দেওয়া হয় চলাচলের জন্য। তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. হানিফ ওই রেজলুশনে স্বাক্ষর করেন। হঠাৎ অজানা কারণে গত রবিবার দেয়াল নির্মাণ করে রাস্তাটি বন্ধ করে দেন কলেজ অধ্যক্ষ ও ইউপি চেয়ারম্যান সালেউদ্দিন পিকু। এতে তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ সালেউদ্দিন পিকু বলেন, ‘কলেজের স্বার্থে বাউন্ডারির ফাঁকা অংশটুকু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হাজারিবাড়ির লোকজনের চলাচলের জন্য বিকল্প পথ আছে। তারা সেই পথ দিয়ে চলাচল করতে পারেন।’
এত বছর পর কেন পথটি বন্ধ করে দিলেনÑ এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘তারা সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন লাভলুর লোক। লাভলু আমার দুই ভাইয়ের খুনি। আমি যত দিন বেঁচে থাকব, তত দিন পর্যন্ত আমার ভাইয়ের খুনিদের সঙ্গে ভালো আচরণ করার সুযোগ নেই।’
ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘আমার জানামতে গত ইউপি নির্বাচনে ওই বাড়ির লোকজন সালেহউদ্দিন পিকুর সমর্থন না করায় প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তিনি চলাচলের পথটি বন্ধ করে দিয়েছেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, ‘যদি তাদের সঙ্গে কোনো চুক্তি বা রেজলুশন থেকে থাকে, তাহলে রাস্তা বন্ধ করার কোনো এখতিয়ার কলেজ কর্তৃপক্ষের নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’