‘শেষ দেখাটাও হলো না আমার কলিজার টুকরা পুলাডার লগে’

বহুদিন মা-বাবার সঙ্গে দেখা হয় না শিশু নাঈম হাসানের। একমাত্র সন্তানকে ছেড়ে বাবা-মা দূরে থাকেন। তারা পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।

তবে বেশ কদিন ধরেই মা-বাবাকে দেখতে নাঈম ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল। নানির কাছে বায়না ধরে।

কিন্তু একটি দুর্ঘটনা সব ব্যাকুলতা কেড়ে নিয়েছে। গাজীপুরের শ্রীপুরে অটোরিকশা ও সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে প্রাণ হারান নানি বেগম আক্তার (৫০) ও নাতি নাঈম হাসান (৩)। 

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাওনা বরমী আঞ্চলিক সড়কের টেংরা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত বেগম আক্তার কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পূর্ব দিপেশ্বর গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী। আর শিশু নাঈম হাসান ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার উস্তি ইউনিয়নের বাঘেরগাঁও গ্রামের সাদেক আলী ও ময়না দম্পতির একমাত্র সন্তান।

নিহতদের স্বজনরা জানায়, শিশু নাঈম হাসানের মা ময়না বেগম ও বাবা সাদেক আলী শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের এমসি বাজার এলাকায় ভাড়ায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। নাঈম হাসান নানির সঙ্গে থাকতেন হোসেনপুরে।

সকালে হোসেনপুর থেকে নানি ও নাতি এমসি বাজারে যাচ্ছিল। টেংরা এলাকায় তাদের বহন করা অটোরিকশা ও একটি সিএনজির সংঘর্ষ ঘটে। এতে নাঈম হাসান ও তার নানি বেগম আক্তার গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে বিলাপ করে ময়না আক্তার বলছিলেন, ‘শেষ দেখাটাও হলো না আমার কলিজার টুকরা পুলাডার লগে। কতদিন পর অপেক্ষায় ছিলাম পুতেরে ধরমু কিন্তু সব শেষ কয়েক মিনিটেই। পরানডা খাঁ খাঁ করছিল। আর কোনো দিন পুতেরে ছুঁইতে পারমু না। লগে মাও গেল। একবারেই মা আর পুতেরে হারাইলাম।’

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মরিয়ম আক্তার বলেন, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় এক নারী ও শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। পরে আমরা বিষয়টি পুলিশে জানিয়েছি।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এখন স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।