বরগুনার তালতলীর শিকারীপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম রুমা (১৮)। গতকাল শনিবার বেলা ১টার দিকে দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করা হয়। রুমা তালতলী সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। লাশের পাশে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মতোই কলেজশিক্ষক আবদুল রহমানের কাছে প্রাইভেট পড়ে সকাল ১০টায় বাড়িতে আসে রুমা। এরপর বাবা আলাউদ্দিন মোল্লার সঙ্গে সকালের খাওয়া দাওয়া করে। বাবা ও মা মাঠে ধান শুকাতে গিয়ে কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখেন ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকানো। পরে দরজা ভেঙে তারা দেখতে পান কীটনাশকের বোতল নিচে পড়ে আছে আর মেয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছে। পরে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
বাবা আলাউদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘আমার মেয়ে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার ভেতরে যেকোনো সময় প্রথমে বিষ পান করেন। পরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আড়ার সঙ্গে আত্মহত্যা করে। তবে কী কারণে আত্মহত্যা করেছে তা জানি না। আমি ওর কোনো চাওয়া অপূর্ণ রাখিনি।
কয়েকজন এলাকাবাসী নাম প্রকাশ করার শর্তে জানিয়েছেন, এলাকার এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ বিষয়ে তালতলী থানার ওসি কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, লাশের পাশে দুই পাতার একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। তবে এই মুহূর্তে চিরকুটে কী লেখা আছে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে সে আত্মহত্যার জন্য কাউকে দায়ী করেনি।
সবুজবাগে কনস্টেবলের স্ত্রীর লাশ উদ্ধার : রাজধানীর সবুজবাগের মাদারটেক এলাকার একটি বাসার দরজা ভেঙে লাবণী আক্তার (৩০) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার স্বামী অভিজিৎ সোহাগ পুলিশ কনস্টেবল।
গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে সবুজবাগ থানা পুলিশ মাদারটেক চৌরাস্তা পাবনা গলির একটি বাসা থেকে ওই নারীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে সন্ধ্যার দিকে মরদেহটির ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সবুজবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ আমিনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, পুলিশ কনস্টেবল অভিজিৎ তার স্ত্রী লাবণীকে নিয়ে ওই ভাড়া বাসায় থাকতেন। অভিজিৎ হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও স্ত্রী লাবণী মুসলমান ছিলেন। পারিবারিক কোনো কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করছেন। তিনি আরও জানান, অভিজিৎ ঢাকা জেলার (মিলব্যারাক) পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত আছেন। লাবণীর বাবার বাড়ি খুলনা ও স্বামীর বাড়ি মাদারীপুরে। বিষয়টির তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ঢামেক মর্গে মৃত লাবণীর খালাত ভাই নুর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গত এক বছর আগে অভিজিৎ বিশ্বাস সোহাগ নামে মুসলিম পরিচয় দিয়ে ফেইসবুকে সম্পর্ক করে লাবণীর সঙ্গে। পরে কোর্টে গিয়ে গোপনে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায় সময়ই নির্যাতন করা হতো তাকে।
তিনি জানান, লাবণীর এর আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। সেই ঘরে রেহেনা আক্তার নামে ১১ বছরের একটি মেয়ে আছে। মেয়েকে নিয়ে মাদারটেকের ওই বাসায় ভাড়া থাকত লাবণী। বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বাও ছিল।
নুর হোসেন আরও বলেন, তাদের বাসাও মাদারটেক এলাকায়। গতকাল লাবণীর খালা হাসিনা বেগম রাতে ফোন দিয়ে বাসায় আসতে বলে। লাবণী তখন বলে তার স্বামী তাকে মারধর করছে। আজকে (গতকাল) বিকেলে সংবাদ পান, লাবণী মারা গেছে। পরে পুলিশের সহায়তায় লাবণীর বাসায় যাই। সে সময় ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। তবে চেয়ারে হাঁটু ভাঁজ হয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলে ছিল। লাবণী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর আরও বেশি নির্যাতন করা হতো। বাচ্চা নষ্ট করতে চাপ দেওয়া হতো এবং নষ্ট না করলে ডিভোর্সের ভয় দেখানো হতোা। আমার বোনের মৃত্যুর বিচার চাই। মৃত লাবণীর বাবার নাম মৃত আবুল বাশার। গ্রামের বাড়ি খুলনা সদর উপজেলার দক্ষিণ টুটপাড়া গ্রামে।